শখের বশে আশ্চর্য আবিষ্কার (ভিডিও)
jugantor
হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি
শখের বশে আশ্চর্য আবিষ্কার (ভিডিও)

  আতাউর রহমান  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেকটা শখের বশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আশ্চর্য আবিষ্কার করে ফেলেছেন ঢাকার এক যুবক। তার এই অনন্য আবিষ্কার ঝড়-সাইক্লোন কবলিত এলাকায় যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবিষ্কারক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ তার আবিষ্কৃত ডিভাইসের নাম দিয়েছেন হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি। এর মাধ্যমে তার ছাড়াই কথা বলা যাবে দূর-দূরান্তে। তবে এ ক্ষেত্রে লাগবে আলোর সাহায্য। আলো যতদূর পৌঁছাবে, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে ততদূর তার ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এই ডিভাইস আবিষ্কারের ফলে ঝড়ঝঞ্ঝা, সাইক্লোন কবলিত এলাকার লোকজনের উপকার হবে। ঝড়-সাইক্লোনের পর ওইসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই ডিভাইসের সাহায্যে সহজে যোগাযোগ করা যাবে। যারা গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান, তাদের ক্ষেত্রে যোগাযোগে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব ছাড়াও বহু কাজে লাগবে এই ডিভাইস, যা নিয়ে গবেষণা করছেন আবিষ্কারক।

তরুণ গবেষক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের জন্ম ময়মনসিংহে। সপরিবারে থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। চাকরি করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পড়ালেখা করেছেন ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি করে দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন তিনি।

ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুঁতখুঁতে অন্তর্মুখী সাদ্দাম। অনুসন্ধিৎসু এই যুবক বর্তমানে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। চাকরির পাশাপাশিই এসব করে যাচ্ছেন তিনি। পড়ালেখা শেষে দেশে ফেরার পর তাকে আবিষ্কারের নেশায় পেয়ে বসে।

তাই ওয়ারীর বাসায় নীরবে বহু কিছু নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন এই অন্তর্মুখী যুবক। দীর্ঘদিন সাধনার পর আবিষ্কার করেন হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি। নিজের আবিষ্কার নিয়ে সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ বলেন, করোনাকালে সময়কে কাজে লাগিয়ে আমি এই ডিভাইসটি আবিষ্কার করেছি। হঠাৎ একদিন ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে কী নিয়ে খেলার সময় মনে হলো এই ডিভাইসটি তৈরি করা যেতে পারে। যেই চিন্তা সেই কাজ। অনেকটা খেলার ছলেই হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি আবিষ্কার করেছি, বলতে পারেন।

লেজার টকি নিয়ে গবেষণা করার সময় কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সাদ্দাম। ডিভাইস তৈরির পর তিনি বুঝতে পারেন যে, এটি বহু কাজে লাগতে পারে। তার সৃষ্টি মানবকল্যাণে কাজে লাগলেই তৃপ্তি পাবেন বলে জানান সাদ্দাম।

হ্যাকপ্রুপ লেজার টকিকে উদ্ভাবন বলবেন নাকি আবিষ্কার বলবেন, এমন প্রশ্নে অনেকটা চাপা স্বভাবের সাদ্দামের ভাষ্য, এটি আবিষ্কার না উদ্ভাবন সেটি বড় কথা নয়; তবে আমার জানা মতে, এমন ডিভাইস এখনো কেউ তৈরি করতে পারেননি।

হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি কীভাবে কাজ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকিতে থাকে ট্রান্সফরমার। সঙ্গে থাকে রিসিভার। সেই সঙ্গে টর্চলাইট কিংবা লেজার লাইট লাগবে। লাইটের আলো ট্রান্সফরমারে যতদূর গিয়ে পড়বে ততদূর শব্দ পৌঁছাবে। এ ক্ষেত্রে দুজনের কথোপকথনের জন্য কোনো তার লাগবে না।

তিনি বলেন, এই ডিভাইস টর্চলাইটে লাগানো থাকলে বহুদূর থেকে সহজেই যোগাযোগ করা যাবে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে যারা মাছ ধরতে যান, তারা অন্ধকার রাতে বহুদূর থেকে তার ছাড়াই লাইটের সাহায্যে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না, সেসব এলাকার লোকজন অল্প খরচে এই যন্ত্র ব্যবহার করে জরুরি যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। ঘরবাড়ি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে অন্ধকারে এই যন্ত্র দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা যোগাযোগ করতে পারবেন। এটি পর্বাতারোহীদের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী সাদ্দাম। পাহাড়ি এলাকা যেখানে মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকে না, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি সঙ্গে থাকলে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। পর্বতারোহীরা একজন অন্যজনের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবেন। অন্ধকার রাতে পথ চলতেও এই ডিভাইস কাজে লাগবে।

কথা বলে জানা গেছে, সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের এটিই প্রথম উদ্ভাবন কিংবা আবিষ্কার নয়; এর আগে তিনি কৃত্রিম হাত উদ্ভাবন করেছেন। যেটির সাহায্যে দৈনন্দিন কাজ করা যাবে। যাদের হাত কাটা গেছে কিংবা হাত অকেজো, তারা কৃত্রিম হাতের সাহায্যে কাজ করতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হাত দিয়ে করা সম্ভব নয়, যেমন বিদ্যুতের কাজ সেগুলো কৃত্রিম হাতের মাধ্যমে করা যাবে। বডি কন্ট্রোল সুইচের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই হাত। সুইচ দিয়ে নির্দেশনা দিলেই হাতটি কাজ করবে। পঙ্গু-প্যারালাইজড রোগী যাদের হাত নড়াচড়া করা যায় না তাদের এই ডিভাইস কাজে লাগবে। এ ছাড়া পানি ঠাণ্ডা করার পাত্র আবিষ্কার করেছেন সাদ্দাম। চার্জারের সাহায্যে মোবাইল থেকে চার্জ দিয়ে পানি ঠাণ্ডা করা যাবে।

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে- রোবট ট্রলি, যেটি রিমোট দিয়ে পরিচালিত হবে। করোনাকালে তিনি এটি আবিষ্কার করেছেন। রিমোটের সাহায্যে পরিচালিত এই ট্রলি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খাবারসহ জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকলে তার কাছে না গিয়েও এই ট্রলির সাহায্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে।

হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি

শখের বশে আশ্চর্য আবিষ্কার (ভিডিও)

 আতাউর রহমান 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেকটা শখের বশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আশ্চর্য আবিষ্কার করে ফেলেছেন ঢাকার এক যুবক। তার এই অনন্য আবিষ্কার ঝড়-সাইক্লোন কবলিত এলাকায় যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবিষ্কারক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ তার আবিষ্কৃত ডিভাইসের নাম দিয়েছেন হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি। এর মাধ্যমে তার ছাড়াই কথা বলা যাবে দূর-দূরান্তে। তবে এ ক্ষেত্রে লাগবে আলোর সাহায্য। আলো যতদূর পৌঁছাবে, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে ততদূর তার ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এই ডিভাইস আবিষ্কারের ফলে ঝড়ঝঞ্ঝা, সাইক্লোন কবলিত এলাকার লোকজনের উপকার হবে। ঝড়-সাইক্লোনের পর ওইসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও টেলিফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হ্যাকপ্রুপ লেজার টকির সাহায্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই ডিভাইসের সাহায্যে সহজে যোগাযোগ করা যাবে। যারা গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান, তাদের ক্ষেত্রে যোগাযোগে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব ছাড়াও বহু কাজে লাগবে এই ডিভাইস, যা নিয়ে গবেষণা করছেন আবিষ্কারক।

তরুণ গবেষক সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের জন্ম ময়মনসিংহে। সপরিবারে থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। চাকরি করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পড়ালেখা করেছেন ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি করে দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন তিনি।

ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুঁতখুঁতে অন্তর্মুখী সাদ্দাম। অনুসন্ধিৎসু এই যুবক বর্তমানে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। চাকরির পাশাপাশিই এসব করে যাচ্ছেন তিনি। পড়ালেখা শেষে দেশে ফেরার পর তাকে আবিষ্কারের নেশায় পেয়ে বসে।

 

তাই ওয়ারীর বাসায় নীরবে বহু কিছু নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন এই অন্তর্মুখী যুবক। দীর্ঘদিন সাধনার পর আবিষ্কার করেন হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি। নিজের আবিষ্কার নিয়ে সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ বলেন, করোনাকালে সময়কে কাজে লাগিয়ে আমি এই ডিভাইসটি আবিষ্কার করেছি। হঠাৎ একদিন ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে কী নিয়ে খেলার সময় মনে হলো এই ডিভাইসটি তৈরি করা যেতে পারে। যেই চিন্তা সেই কাজ। অনেকটা খেলার ছলেই হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি আবিষ্কার করেছি, বলতে পারেন।

লেজার টকি নিয়ে গবেষণা করার সময় কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সাদ্দাম। ডিভাইস তৈরির পর তিনি বুঝতে পারেন যে, এটি বহু কাজে লাগতে পারে। তার সৃষ্টি মানবকল্যাণে কাজে লাগলেই তৃপ্তি পাবেন বলে জানান সাদ্দাম।

হ্যাকপ্রুপ লেজার টকিকে উদ্ভাবন বলবেন নাকি আবিষ্কার বলবেন, এমন প্রশ্নে অনেকটা চাপা স্বভাবের সাদ্দামের ভাষ্য, এটি আবিষ্কার না উদ্ভাবন সেটি বড় কথা নয়; তবে আমার জানা মতে, এমন ডিভাইস এখনো কেউ তৈরি করতে পারেননি।

হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি কীভাবে কাজ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকিতে থাকে ট্রান্সফরমার। সঙ্গে থাকে রিসিভার। সেই সঙ্গে টর্চলাইট কিংবা লেজার লাইট লাগবে। লাইটের আলো ট্রান্সফরমারে যতদূর গিয়ে পড়বে ততদূর শব্দ পৌঁছাবে। এ ক্ষেত্রে দুজনের কথোপকথনের জন্য কোনো তার লাগবে না।

তিনি বলেন, এই ডিভাইস টর্চলাইটে লাগানো থাকলে বহুদূর থেকে সহজেই যোগাযোগ করা যাবে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে যারা মাছ ধরতে যান, তারা অন্ধকার রাতে বহুদূর থেকে তার ছাড়াই লাইটের সাহায্যে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না, সেসব এলাকার লোকজন অল্প খরচে এই যন্ত্র ব্যবহার করে জরুরি যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। ঘরবাড়ি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে অন্ধকারে এই যন্ত্র দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা যোগাযোগ করতে পারবেন। এটি পর্বাতারোহীদের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী সাদ্দাম। পাহাড়ি এলাকা যেখানে মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকে না, হ্যাকপ্রুপ লেজার টকি সঙ্গে থাকলে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। পর্বতারোহীরা একজন অন্যজনের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবেন। অন্ধকার রাতে পথ চলতেও এই ডিভাইস কাজে লাগবে।

কথা বলে জানা গেছে, সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের এটিই প্রথম উদ্ভাবন কিংবা আবিষ্কার নয়; এর আগে তিনি কৃত্রিম হাত উদ্ভাবন করেছেন। যেটির সাহায্যে দৈনন্দিন কাজ করা যাবে। যাদের হাত কাটা গেছে কিংবা হাত অকেজো, তারা কৃত্রিম হাতের সাহায্যে কাজ করতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হাত দিয়ে করা সম্ভব নয়, যেমন বিদ্যুতের কাজ সেগুলো কৃত্রিম হাতের মাধ্যমে করা যাবে। বডি কন্ট্রোল সুইচের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই হাত। সুইচ দিয়ে নির্দেশনা দিলেই হাতটি কাজ করবে। পঙ্গু-প্যারালাইজড রোগী যাদের হাত নড়াচড়া করা যায় না তাদের এই ডিভাইস কাজে লাগবে। এ ছাড়া পানি ঠাণ্ডা করার পাত্র আবিষ্কার করেছেন সাদ্দাম। চার্জারের সাহায্যে মোবাইল থেকে চার্জ দিয়ে পানি ঠাণ্ডা করা যাবে।

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদের আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে- রোবট ট্রলি, যেটি রিমোট দিয়ে পরিচালিত হবে। করোনাকালে তিনি এটি আবিষ্কার করেছেন। রিমোটের সাহায্যে পরিচালিত এই ট্রলি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খাবারসহ জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেবে। করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকলে তার কাছে না গিয়েও এই ট্রলির সাহায্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন