শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে উদ্বেগ
jugantor
সানি হত্যা মামলা পিবিআইতে ন্যস্ত করার দাবি
শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে উদ্বেগ

  ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  

০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সানি সরকার নামের এক যুবক নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। হত্যা মামলায় ‘গ্যাংয়ের এক সদস্যকে যুক্ত করা’র দাবিতে থানা পুলিশের কাছে সানির বাবার আবেদনের অগ্রগতি এক মাসে না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে তাদের। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে এবং শহরে মাথাছাড়া দিয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিএই) ন্যস্ত করার দাবি নাগরিক সমাজের।

জানা যায়, ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় পূর্ব বিরোধের জেরে শোয়েব আহমদের নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিকাশের সেলস অফিসার সানি সরকারকে (২৪) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সানির বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর গ্রামে। ছাতক পৌরসভার মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ভাড়াবাসায় থাকে সানির পরিবার।

পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের প্রতিশোধ নিতে ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় সানি সরকারকে ফোনে ডেকে নেয় কিশোর গ্যাংয়ের হোতা শোয়েব আহমদ। সেখানে গেলে চাকু, রামদা, রড ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে সানির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান স্থানীয়রা। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এদিকে ছেলের ওপর হামলায় ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের আট সদস্যকে আসামি ছাতক থানায় লিখিত এজাহার করেন আহত সানি সরকারের বাবা কাজল কান্তি সরকার। মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সোয়েব আহমদ, নাঈম আহমদ, শরিফ উদ্দিন, মোরসালিন, তোফায়েল আহমদ, নোমান মিয়া, তানিম আহদ ও জুবায়ের আহমদকে আসামি করা হয়। ১ মে মামলাটি প্রাথমিক তথ্যবিবরণীভুক্ত (এফআইআর) করে ছাতক থানা পুলিশ। অপরদিকে গুরুতর আহত সানি সরকার ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২ মে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবার করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে মাসনিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে মামলায় আসামিদের নাম সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পরেননি বলে ছাতক থানায় লিখিত আবেদন করেন বাদী কাজল সরকার। ১১ মে করা আবেদনে কিশোর গ্যাংয়ের অপর সদস্য শহরের দক্ষিণ মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকার আনু মিয়ার ছেলে তাহসিনের নাম হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়, আহত অবস্থায় সানি ছাতক হাসপাতালে পরিবারের কাছে ঘটনায় তাহসিনের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি জানান। এদিকে আবেদন করার প্রায় এক মাস পার হলেও এ ব্যাপারে আইনানুগ অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মামলার বাদীসহ ছাতকের নাগরিক সমাজ।

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রভাবশালী অভিভাবকদের তদবিরে মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত না হলে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তাদের। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তভার পিবিআইর হাতে ন্যস্ত করার পক্ষে তারা। ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার মিয়া বলেন, সানি হত্যা মামলায় তাহসিন নামে অপর একজনকে আসামি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে মামলার বাদী যে আবেদন করেছেন সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে তাহসিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।

সানি হত্যা মামলা পিবিআইতে ন্যস্ত করার দাবি

শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে উদ্বেগ

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 
০৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সানি সরকার নামের এক যুবক নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। হত্যা মামলায় ‘গ্যাংয়ের এক সদস্যকে যুক্ত করা’র দাবিতে থানা পুলিশের কাছে সানির বাবার আবেদনের অগ্রগতি এক মাসে না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে তাদের। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে এবং শহরে মাথাছাড়া দিয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিএই) ন্যস্ত করার দাবি নাগরিক সমাজের।

জানা যায়, ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় পূর্ব বিরোধের জেরে শোয়েব আহমদের নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিকাশের সেলস অফিসার সানি সরকারকে (২৪) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সানির বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর গ্রামে। ছাতক পৌরসভার মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ভাড়াবাসায় থাকে সানির পরিবার।

পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের প্রতিশোধ নিতে ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় সানি সরকারকে ফোনে ডেকে নেয় কিশোর গ্যাংয়ের হোতা শোয়েব আহমদ। সেখানে গেলে চাকু, রামদা, রড ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে সানির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান স্থানীয়রা। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এদিকে ছেলের ওপর হামলায় ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের আট সদস্যকে আসামি ছাতক থানায় লিখিত এজাহার করেন আহত সানি সরকারের বাবা কাজল কান্তি সরকার। মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সোয়েব আহমদ, নাঈম আহমদ, শরিফ উদ্দিন, মোরসালিন, তোফায়েল আহমদ, নোমান মিয়া, তানিম আহদ ও জুবায়ের আহমদকে আসামি করা হয়। ১ মে মামলাটি প্রাথমিক তথ্যবিবরণীভুক্ত (এফআইআর) করে ছাতক থানা পুলিশ। অপরদিকে গুরুতর আহত সানি সরকার ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২ মে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবার করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে মাসনিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে মামলায় আসামিদের নাম সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পরেননি বলে ছাতক থানায় লিখিত আবেদন করেন বাদী কাজল সরকার। ১১ মে করা আবেদনে কিশোর গ্যাংয়ের অপর সদস্য শহরের দক্ষিণ মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকার আনু মিয়ার ছেলে তাহসিনের নাম হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়, আহত অবস্থায় সানি ছাতক হাসপাতালে পরিবারের কাছে ঘটনায় তাহসিনের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি জানান। এদিকে আবেদন করার প্রায় এক মাস পার হলেও এ ব্যাপারে আইনানুগ অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মামলার বাদীসহ ছাতকের নাগরিক সমাজ।

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রভাবশালী অভিভাবকদের তদবিরে মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত না হলে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তাদের। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তভার পিবিআইর হাতে ন্যস্ত করার পক্ষে তারা। ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার মিয়া বলেন, সানি হত্যা মামলায় তাহসিন নামে অপর একজনকে আসামি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে মামলার বাদী যে আবেদন করেছেন সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে তাহসিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন