বরগুনায় স্ত্রী সন্তানকে খুন করে লাশ পুঁতে রাখে
jugantor
বরগুনায় স্ত্রী সন্তানকে খুন করে লাশ পুঁতে রাখে
ঘাতক স্বামী শাহীন গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনায় নিজের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সি শিশুসন্তানকে হত্যা করে লাশ পুঁতে রেখেছিল শাহীন মুন্সি (২১)। পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সোমবার চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। গত ৩ জুলাই বরগুনার হাতেমপুর গ্রাম থেকে সুমাইয়া (১৮) ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার জুঁইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশা একটি হত্যা মামলা করেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন মুন্সি জানায়, ১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমাইয়ার সঙ্গে শাহীনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সুমাইয়া ঘর থেকে বের হলে শাহীনও ঘর থেকে বের হয়। একপর্যায়ে নাইলনের দড়ি সুমাইয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জমিতে রেখে আসে। এরপর শাহীন ঘর থেকে কোদাল নিয়ে সেখানে গর্ত করে লাশটি পুঁতে রাখে। সেখান থেকে ঘরে ফিরে মেয়েকে কান্না করতে দেখে তাকেও হত্যা করে লাশ পুঁতে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি একই গ্রামে। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় সুমাইয়া। মেয়েকে শাহীন মুন্সি যেতে না দেওয়ায় একাই যেতে হয় সুমাইয়াকে। দাওয়াত খেয়ে স্বামীর বাড়ি ফেরেন তিনি। এর পর থেকে সুমাইয়া আক্তার, তার মেয়ে সামিরা ও স্বামী শাহীন মুন্সি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দুদিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মা ও মেয়ের লাশ বাড়ির পাশেই পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তখন শাহীন মুন্সির কোনো হদিস মেলেনি।

এসএসপি মুক্তা ধর বলেন, শাহীন স্ত্রী-সন্তানকে মাটিচাপা দিয়ে প্রথমে খুলনা পালিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে আত্মগোপনের জন্য চট্টগ্রামে গিয়ে শুধু থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে একটি গ্যারেজে চাকরি নেয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে শাহীন মুন্সি তিন মাস জেলে ছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে বিয়ে করে ধর্ষণের শিকার সুমাইয়াকে (১৮)। তাদের সাত মাসের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। গ্রেফতার শাহীন জানিয়েছে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না।

বরগুনায় স্ত্রী সন্তানকে খুন করে লাশ পুঁতে রাখে

ঘাতক স্বামী শাহীন গ্রেফতার
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনায় নিজের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সি শিশুসন্তানকে হত্যা করে লাশ পুঁতে রেখেছিল শাহীন মুন্সি (২১)। পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সোমবার চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। গত ৩ জুলাই বরগুনার হাতেমপুর গ্রাম থেকে সুমাইয়া (১৮) ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার জুঁইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশা একটি হত্যা মামলা করেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন মুন্সি জানায়, ১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমাইয়ার সঙ্গে শাহীনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সুমাইয়া ঘর থেকে বের হলে শাহীনও ঘর থেকে বের হয়। একপর্যায়ে নাইলনের দড়ি সুমাইয়ার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জমিতে রেখে আসে। এরপর শাহীন ঘর থেকে কোদাল নিয়ে সেখানে গর্ত করে লাশটি পুঁতে রাখে। সেখান থেকে ঘরে ফিরে মেয়েকে কান্না করতে দেখে তাকেও হত্যা করে লাশ পুঁতে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি একই গ্রামে। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় সুমাইয়া। মেয়েকে শাহীন মুন্সি যেতে না দেওয়ায় একাই যেতে হয় সুমাইয়াকে। দাওয়াত খেয়ে স্বামীর বাড়ি ফেরেন তিনি। এর পর থেকে সুমাইয়া আক্তার, তার মেয়ে সামিরা ও স্বামী শাহীন মুন্সি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দুদিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মা ও মেয়ের লাশ বাড়ির পাশেই পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তখন শাহীন মুন্সির কোনো হদিস মেলেনি।

এসএসপি মুক্তা ধর বলেন, শাহীন স্ত্রী-সন্তানকে মাটিচাপা দিয়ে প্রথমে খুলনা পালিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে আত্মগোপনের জন্য চট্টগ্রামে গিয়ে শুধু থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে একটি গ্যারেজে চাকরি নেয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে শাহীন মুন্সি তিন মাস জেলে ছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে বিয়ে করে ধর্ষণের শিকার সুমাইয়াকে (১৮)। তাদের সাত মাসের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। গ্রেফতার শাহীন জানিয়েছে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন