দিনে ঢাকার ২৮ হাজার টন কুরবানির বর্জ্য অপসারণ
jugantor
দিনে ঢাকার ২৮ হাজার টন কুরবানির বর্জ্য অপসারণ
নির্ধারিত সময়ে অপসারণের দাবি দুই মেয়রের, ভিন্নমত নগরবাসীর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত সময়ে ২৮ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছে ২১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এরপর শহর এলাকায় তেমন কোনো বর্জ্য ছিল না বলে দাবি করেন দুই সিটি মেয়র। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অনেক নগরবাসী। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অভিজাত এলাকায় দুই মেয়রের দাবি সঠিক হলেও সাধারণ এলাকার অনেক পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে ভিন্ন চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ হোসেন জানান, দুই মেয়র শতভাগ আবর্জনা পরিষ্কারের ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বনশ্রী, রামপুরা ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু এলাকার অলিগলিতে বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে কুরবানির বর্জ্য ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেছি। তবে প্রধান সড়কগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল। এছাড়া অভিজাত এলাকার আবর্জনা সরাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে।

শেখেরটেকের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, কুরবানির আবর্জনা পরিষ্কারে দুই মেয়র যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। তবে এখনো রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। সেসব পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, এবার কুরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজে ১১ হাজার ৫০৮ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডিএনসিসি এলাকা থেকে ১৫ হাজার ৭৩৩ টন কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সব এলাকার কুরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১২টার মধ্যে প্রথম দিনের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কুরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজে ১১ হাজার ৫০৮ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে নিখুঁতভাবে মনিটরিং করা হয়েছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, কুরবানি পশুর বর্জ্যে নগরীর কোথাও যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সেজন্য নগরবাসীকে যথাসময়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার বর্জ্য-ব্যাগ, ৫০ টন ব্লিচিং পাউডার এবং ৫ লিটার আয়তনের ১ হাজার পাঁচ ক্যান স্যাভলনও বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে কুরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কারে মঙ্গলবার কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, কেউ বাড়ির সামনে কুরবানির পশুর বর্জ্য ফেলে রাখলে ডিএনসিসির আবর্জনার গাড়ি থেকেও তার বাড়ির সামনে আরও বর্জ্য ফেলে আসা হবে। যদিও এমন কাজ করতে দেখা যায়নি ডিএনসিসিকে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ ও স্থানান্তরে সক্ষম হয়েছি। শুক্রবার যেসব স্থানে কুরবানি হবে, সেখানকার বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হবে। ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ৭৫টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী যুক্ত ছিলেন। ৩ হাজার ৪৩৯টি ট্রিপের মাধ্যমে ১২ হাজার ৪০৩ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, পশুর হাটগুলোর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে ১০টি টিম গঠন করে ডিএসসিসি। বুধবার দুপুর ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।

দিনে ঢাকার ২৮ হাজার টন কুরবানির বর্জ্য অপসারণ

নির্ধারিত সময়ে অপসারণের দাবি দুই মেয়রের, ভিন্নমত নগরবাসীর
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত সময়ে ২৮ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছে ২১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এরপর শহর এলাকায় তেমন কোনো বর্জ্য ছিল না বলে দাবি করেন দুই সিটি মেয়র। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অনেক নগরবাসী। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অভিজাত এলাকায় দুই মেয়রের দাবি সঠিক হলেও সাধারণ এলাকার অনেক পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে ভিন্ন চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ হোসেন জানান, দুই মেয়র শতভাগ আবর্জনা পরিষ্কারের ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বনশ্রী, রামপুরা ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু এলাকার অলিগলিতে বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে কুরবানির বর্জ্য ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেছি। তবে প্রধান সড়কগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল। এছাড়া অভিজাত এলাকার আবর্জনা সরাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে।

শেখেরটেকের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, কুরবানির আবর্জনা পরিষ্কারে দুই মেয়র যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। তবে এখনো রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। সেসব পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, এবার কুরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজে ১১ হাজার ৫০৮ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডিএনসিসি এলাকা থেকে ১৫ হাজার ৭৩৩ টন কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সব এলাকার কুরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১২টার মধ্যে প্রথম দিনের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কুরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজে ১১ হাজার ৫০৮ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে নিখুঁতভাবে মনিটরিং করা হয়েছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, কুরবানি পশুর বর্জ্যে নগরীর কোথাও যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সেজন্য নগরবাসীকে যথাসময়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার বর্জ্য-ব্যাগ, ৫০ টন ব্লিচিং পাউডার এবং ৫ লিটার আয়তনের ১ হাজার পাঁচ ক্যান স্যাভলনও বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে কুরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কারে মঙ্গলবার কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, কেউ বাড়ির সামনে কুরবানির পশুর বর্জ্য ফেলে রাখলে ডিএনসিসির আবর্জনার গাড়ি থেকেও তার বাড়ির সামনে আরও বর্জ্য ফেলে আসা হবে। যদিও এমন কাজ করতে দেখা যায়নি ডিএনসিসিকে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ ও স্থানান্তরে সক্ষম হয়েছি। শুক্রবার যেসব স্থানে কুরবানি হবে, সেখানকার বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হবে। ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ৭৫টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী যুক্ত ছিলেন। ৩ হাজার ৪৩৯টি ট্রিপের মাধ্যমে ১২ হাজার ৪০৩ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, পশুর হাটগুলোর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে ১০টি টিম গঠন করে ডিএসসিসি। বুধবার দুপুর ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন