চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট
jugantor
ছুটি ও কারখানা বন্ধের জের
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট
পরিস্থিতি সামাল দিতে এনবিআরের উদ্যোগ * কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে সরানো ও খালাসের অনুমতি

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

২৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কনটেইনার জটের কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ঈদের ছুটি এবং কঠোর বিধিনিষেধে আমদানি পণ্য খালাস কম হওয়ায় বন্দরের ইয়ার্ডগুলোয় জমেছে কনটেইনারের পাহাড়। বন্দরে রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৩ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সমমান)। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে কনটেইনার জমতে থাকলে বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। লকডাউনের কারণে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন না হওয়ায় আমদানিকারকরা শিল্পের জন্য আনা কাঁচামাল খালাস না নিয়ে বন্দরেই ফেলে রাখছেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জট কমাতে এখন থেকে সব ধরনের আমদানি পণ্য চালানের কনটেইনার ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) স্থানান্তর এবং সেখান থেকে খালাসের অনুমতি দিয়েছে সংস্থাটি। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে এই সুযোগ। আগে শুধু ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাসের অনুমতি ছিল। রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা জমে থাকা আমদানি কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আইসিডিগুলোয় ১৫ থেকে ২০ হাজার আমদানি কনটেইনার রাখা যাবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৯ হাজার টিইইউএস। তবে স্বাভাবিক হ্যান্ডলিং বজায় রাখতে হলে ধারণক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা ফাঁকা রাখতে হয়। কিছু কনটেইনার খুলে কাভার্ডভ্যান বা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করার পর খালাস দেওয়া হয়। আবার কিছু কনটেইনার ট্রেইলারে তোলা হয়। হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখতে হয় কিছু স্থান। এই হিসাবে ৩৪-৩৫ হাজার টিইইউএস হলো আদর্শ পরিমাণ। এর বেশি হলে জট হতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে চার থেকে সাড়ে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়, সেখানে কয়েকদিনে তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বন্দরের হ্যান্ডলিং রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১ জুলাই ডেলিভারি হয় প্রায় দেড় হাজার কনটেইনার। ওইদিন বন্দরে মোট কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার ৭৬১ টিইইউএস। পরদিন ডেলিভারি নেওয়া হয় মাত্র ১২৮ কনটেইনার। এদিন কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৭৪৫ টিইইউএস। ২৩ জুলাই ৫৮২ কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়। এদিন ইয়ার্ডে কনটেইনারের সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৩৮৬ টিইইউএস।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বন্দরে পণ্য জট দেখা দিলে তা সব সময়ই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইভেট আইসিডি থেকে সব ধরনের আমদানি কনটেইনার ডেলিভারির যে অনুমতি এনবিআর দিয়েছে, তা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এতে বন্দরের জট কমে আসবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন আইসিডিগুলো বাড়তি চার্জ আদায় না করে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়তি চার্জ নেওয়া হলে তাতে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত বর্তাবে ভোক্তার ঘাড়ে। এতে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বড় বড় বন্দর এখন অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোদমে চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এর ধাক্কা কিছুটা লাগতেই পারে। এজন্য আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কলকারখানাগুলো বন্ধ। এ অবস্থায় কাঁচামাল নিয়ে কোথায় রাখবেন মালিকরা, এটা একটা বড় সমস্যা। যদি কারখানাগুলোর গুদাম খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে পণ্য ডেলিভারির গতি আরও কিছুটা বাড়বে।

লকডাউনে কনটেইনার জটের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে, এমনটি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। জট সামাল দিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার সাময়িকভাবে বেসরকারি আইসিডিতে নিয়ে ডেলিভারির অনুমতি দিতে ১৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। এনবিআর শর্তসাপেক্ষে রোববার এই অনুমতি দেয়। এ সংক্রান্ত দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনার জট নিরসনের লক্ষ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সব ধরনের পণ্য চালানসংশ্লিষ্ট কনটেইনার শর্তসাপেক্ষে ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে সংরক্ষণ ও আনস্টাফিং করার এবং খালাসের অনুমতি দেওয়া হলো। শর্তের মধ্যে রয়েছে আইসিডিতে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করে রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইসিডিতে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্যচালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক। তিনি রোববার যুগান্তরকে বলেন, এনবিআর থেকে চিঠি পাওয়ার পর আমরা আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এতে জট কমে আসবে।

ছুটি ও কারখানা বন্ধের জের

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট

পরিস্থিতি সামাল দিতে এনবিআরের উদ্যোগ * কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে সরানো ও খালাসের অনুমতি
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
২৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কনটেইনার জটের কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ঈদের ছুটি এবং কঠোর বিধিনিষেধে আমদানি পণ্য খালাস কম হওয়ায় বন্দরের ইয়ার্ডগুলোয় জমেছে কনটেইনারের পাহাড়। বন্দরে রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৩ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সমমান)। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে কনটেইনার জমতে থাকলে বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। লকডাউনের কারণে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন না হওয়ায় আমদানিকারকরা শিল্পের জন্য আনা কাঁচামাল খালাস না নিয়ে বন্দরেই ফেলে রাখছেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জট কমাতে এখন থেকে সব ধরনের আমদানি পণ্য চালানের কনটেইনার ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) স্থানান্তর এবং সেখান থেকে খালাসের অনুমতি দিয়েছে সংস্থাটি। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে এই সুযোগ। আগে শুধু ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাসের অনুমতি ছিল। রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা জমে থাকা আমদানি কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আইসিডিগুলোয় ১৫ থেকে ২০ হাজার আমদানি কনটেইনার রাখা যাবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৯ হাজার টিইইউএস। তবে স্বাভাবিক হ্যান্ডলিং বজায় রাখতে হলে ধারণক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা ফাঁকা রাখতে হয়। কিছু কনটেইনার খুলে কাভার্ডভ্যান বা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করার পর খালাস দেওয়া হয়। আবার কিছু কনটেইনার ট্রেইলারে তোলা হয়। হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখতে হয় কিছু স্থান। এই হিসাবে ৩৪-৩৫ হাজার টিইইউএস হলো আদর্শ পরিমাণ। এর বেশি হলে জট হতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে চার থেকে সাড়ে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়, সেখানে কয়েকদিনে তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বন্দরের হ্যান্ডলিং রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১ জুলাই ডেলিভারি হয় প্রায় দেড় হাজার কনটেইনার। ওইদিন বন্দরে মোট কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার ৭৬১ টিইইউএস। পরদিন ডেলিভারি নেওয়া হয় মাত্র ১২৮ কনটেইনার। এদিন কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৭৪৫ টিইইউএস। ২৩ জুলাই ৫৮২ কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়। এদিন ইয়ার্ডে কনটেইনারের সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৩৮৬ টিইইউএস।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বন্দরে পণ্য জট দেখা দিলে তা সব সময়ই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইভেট আইসিডি থেকে সব ধরনের আমদানি কনটেইনার ডেলিভারির যে অনুমতি এনবিআর দিয়েছে, তা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এতে বন্দরের জট কমে আসবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন আইসিডিগুলো বাড়তি চার্জ আদায় না করে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়তি চার্জ নেওয়া হলে তাতে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত বর্তাবে ভোক্তার ঘাড়ে। এতে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বড় বড় বন্দর এখন অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোদমে চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এর ধাক্কা কিছুটা লাগতেই পারে। এজন্য আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কলকারখানাগুলো বন্ধ। এ অবস্থায় কাঁচামাল নিয়ে কোথায় রাখবেন মালিকরা, এটা একটা বড় সমস্যা। যদি কারখানাগুলোর গুদাম খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে পণ্য ডেলিভারির গতি আরও কিছুটা বাড়বে।

লকডাউনে কনটেইনার জটের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে, এমনটি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। জট সামাল দিতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কনটেইনার সাময়িকভাবে বেসরকারি আইসিডিতে নিয়ে ডেলিভারির অনুমতি দিতে ১৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। এনবিআর শর্তসাপেক্ষে রোববার এই অনুমতি দেয়। এ সংক্রান্ত দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনার জট নিরসনের লক্ষ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সব ধরনের পণ্য চালানসংশ্লিষ্ট কনটেইনার শর্তসাপেক্ষে ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে সংরক্ষণ ও আনস্টাফিং করার এবং খালাসের অনুমতি দেওয়া হলো। শর্তের মধ্যে রয়েছে আইসিডিতে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করে রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইসিডিতে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্যচালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক। তিনি রোববার যুগান্তরকে বলেন, এনবিআর থেকে চিঠি পাওয়ার পর আমরা আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার আইসিডিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এতে জট কমে আসবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন