বরিশালে দিনে টিসিবির পণ্য পাচ্ছে ৬শ’ মানুষ
jugantor
বরিশালে দিনে টিসিবির পণ্য পাচ্ছে ৬শ’ মানুষ

  অনিকেত মাসুদ, বরিশাল  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংকটে বরিশালে অভাবী মানুষ বেড়ে গেলেও টিসিবির সরবরাহের পণ্যের পরিমাণ কমেছে। অথচ বাজারের তুলনায় মূল্য কম হওয়ায় এসব পণ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা বেশি। করোনায় চলমান কঠোর লকডাউনের কারণে যা আগের তুলনায় বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের বহু মানুষ এখন টিসিবির গাড়ির অপেক্ষায় থাকে। নগরীর প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ মানুষের ভাগ্যে জোটে টিসিবির সরবরাহ করা তেল, ডাল আর চিনি। অথচ জুন মাসেও হাজার মানুষ পেত। হঠাৎ করে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও তেল-ডাল না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককেই। এদিকে লকডাউনের সংকটে তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজ এবং আলুও টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির দাবি উঠেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সোমবার থেকে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ছয় লাখ বাসিন্দার জন্য ডিলারের মাধ্যমে মাত্র তিনটি পয়েন্টে আবার পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। যা শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে। এ কর্মসূচিতে প্রত্যেক ডিলারকে দৈনিক ৪০০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি মসুর ডাল এবং ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসাবে তিন ডিলারকে প্রতিদিন মোট ১২০০ কেজি চিনি, ৯০০ কেজি মসুর ডাল এবং ২৪০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসব ট্রাক থেকে ক্রেতারা চিনি কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা (একজন সর্বোচ্চ দুই কেজি), প্রতি কেজি মসুর ডাল ৫৫ টাকা (সর্বোচ্চ দুই কেজি) এবং সয়াবিন তেল ১০০ টাকা লিটারে (দুই থেকে সর্বোচ্চ ৫ লিটার) কিনতে পারছেন। ফলে প্রতিদিন একটি পয়েন্ট থেকে গড়ে ২০০ মানুষ টিসিবির পণ্য কিনছেন। সেই হিসাবে তিনটি পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন পণ্য কিনছেন মাত্র ৬০০ ব্যক্তি। যা জুন মাসেও নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকের মাধ্যমে হাজার মানুষ পেত। তখন প্রত্যেক ডিলারকে দৈনিক ৪০০ কেজি চিনি, ৫০০ কেজি মসুর ডাল এবং ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু সোমবার থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে পাঁচজন ডিলারের পরিবর্তে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি বরিশাল অফিস। আগে থেকেই কয়েকগুণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এ পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা। চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের জোগান না থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। টিসিবির পণ্য না পেয়ে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। মাত্র তিনটি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করায় ক্রেতার ভিড় হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এসব পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ক্রেতারা। লকডাউনের সংকটে বরিশালে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল ডাল চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজ এবং আলুও টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির দাবি জানিয়েছেন নগরীর মধ্য ও নিম্নবিত্তরা। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিলাররা। তাই নগরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রির পয়েন্ট বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা। রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিসিবির ডিলার মোহাম্মদ রানা জানান, জুন মাসে বরিশাল সিটির ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য ট্রাকের মাধ্যমে ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন পাঁচটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য করা হতো। জুলাই মাসে যা কমে হয়েছে তিনটি। এতে পয়েন্টগুলোতে ক্রেতার চাপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। এ সময় ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বললেও তা অমান্য করে পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। পণ্য না পেয়ে মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তাই এ চাহিদা পূরণে কমপক্ষ ১৫টি পয়েন্টে পণ্য বিক্রির দাবি জানান তিনি।

টিসিবির বরিশাল অফিস প্রধান শাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ৮ বা ১০ তারিখের দিকে পণ্য সরবরাহ বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পণ্যের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধির নির্দেশনা আছে। পণ্য বৃদ্ধির দাপ্তরিক কার্যক্রম সময় সাপেক্ষ। হঠাৎ চাইলেই তা বাড়ানো সম্ভব নয়। পেঁয়াজ ও আলু সরবরাহের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

বরিশালে দিনে টিসিবির পণ্য পাচ্ছে ৬শ’ মানুষ

 অনিকেত মাসুদ, বরিশাল 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংকটে বরিশালে অভাবী মানুষ বেড়ে গেলেও টিসিবির সরবরাহের পণ্যের পরিমাণ কমেছে। অথচ বাজারের তুলনায় মূল্য কম হওয়ায় এসব পণ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা বেশি। করোনায় চলমান কঠোর লকডাউনের কারণে যা আগের তুলনায় বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের বহু মানুষ এখন টিসিবির গাড়ির অপেক্ষায় থাকে। নগরীর প্রায় ছয় লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ মানুষের ভাগ্যে জোটে টিসিবির সরবরাহ করা তেল, ডাল আর চিনি। অথচ জুন মাসেও হাজার মানুষ পেত। হঠাৎ করে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও তেল-ডাল না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককেই। এদিকে লকডাউনের সংকটে তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজ এবং আলুও টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির দাবি উঠেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সোমবার থেকে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ছয় লাখ বাসিন্দার জন্য ডিলারের মাধ্যমে মাত্র তিনটি পয়েন্টে আবার পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। যা শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে। এ কর্মসূচিতে প্রত্যেক ডিলারকে দৈনিক ৪০০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি মসুর ডাল এবং ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসাবে তিন ডিলারকে প্রতিদিন মোট ১২০০ কেজি চিনি, ৯০০ কেজি মসুর ডাল এবং ২৪০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসব ট্রাক থেকে ক্রেতারা চিনি কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা (একজন সর্বোচ্চ দুই কেজি), প্রতি কেজি মসুর ডাল ৫৫ টাকা (সর্বোচ্চ দুই কেজি) এবং সয়াবিন তেল ১০০ টাকা লিটারে (দুই থেকে সর্বোচ্চ ৫ লিটার) কিনতে পারছেন। ফলে প্রতিদিন একটি পয়েন্ট থেকে গড়ে ২০০ মানুষ টিসিবির পণ্য কিনছেন। সেই হিসাবে তিনটি পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন পণ্য কিনছেন মাত্র ৬০০ ব্যক্তি। যা জুন মাসেও নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকের মাধ্যমে হাজার মানুষ পেত। তখন প্রত্যেক ডিলারকে দৈনিক ৪০০ কেজি চিনি, ৫০০ কেজি মসুর ডাল এবং ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু সোমবার থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে পাঁচজন ডিলারের পরিবর্তে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি বরিশাল অফিস। আগে থেকেই কয়েকগুণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এ পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা। চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের জোগান না থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। টিসিবির পণ্য না পেয়ে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। মাত্র তিনটি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করায় ক্রেতার ভিড় হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এসব পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ক্রেতারা। লকডাউনের সংকটে বরিশালে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল ডাল চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজ এবং আলুও টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির দাবি জানিয়েছেন নগরীর মধ্য ও নিম্নবিত্তরা। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিলাররা। তাই নগরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রির পয়েন্ট বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা। রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিসিবির ডিলার মোহাম্মদ রানা জানান, জুন মাসে বরিশাল সিটির ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য ট্রাকের মাধ্যমে ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন পাঁচটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য করা হতো। জুলাই মাসে যা কমে হয়েছে তিনটি। এতে পয়েন্টগুলোতে ক্রেতার চাপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। এ সময় ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বললেও তা অমান্য করে পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। পণ্য না পেয়ে মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তাই এ চাহিদা পূরণে কমপক্ষ ১৫টি পয়েন্টে পণ্য বিক্রির দাবি জানান তিনি।

টিসিবির বরিশাল অফিস প্রধান শাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ৮ বা ১০ তারিখের দিকে পণ্য সরবরাহ বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পণ্যের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধির নির্দেশনা আছে। পণ্য বৃদ্ধির দাপ্তরিক কার্যক্রম সময় সাপেক্ষ। হঠাৎ চাইলেই তা বাড়ানো সম্ভব নয়। পেঁয়াজ ও আলু সরবরাহের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন