ফরিদপুরে পদ্মার গ্রাসে বিলীন গ্রামের পর গ্রাম
jugantor
ফরিদপুরে পদ্মার গ্রাসে বিলীন গ্রামের পর গ্রাম

  ফরিদপুর ব্যুরো  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরে নতুন করে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের কয়েকশ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, সাইক্লোন সেন্টার, কয়েকশ বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা।

গত মাসে হঠাৎ পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয় পদ্মার তীরবর্তী ডিক্রির চর ও নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। সেই সময় পদ্মার পানি ডুবোচরে বাধা পেয়ে দিক পরিবর্তন করে আঘাত হানে বসতভিটা ও ফসলি জমিতে। নদী ভাঙনের কারণে সেই সময় ড্রেজার দিয়ে ডুবোচর কাটা হয়। ফলে ভাঙন কিছুটা কমে। কিন্তু ১৭ জুলাই থেকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে তিন দিনের ব্যবধানে ডিক্রিরচর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ৩০টি পরিবারের কমপক্ষে ৮০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। দুটি গ্রামের তিন একর ফসলি জমি ও ৩৩ মিটার এইচবিবি রাস্তাও চলে গেছে নদীতে। ভাঙনের কারণে পল্লী বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেলে ওইসব গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ যে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিতেও পারছেন না অনেকেই। হঠাৎ করে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নদী পারের হাজারো মানুষের মাঝে।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী, আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, খিজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী এলাকার কয়েকজন বলেন, হঠাৎ নদী ভাঙন শুরু হয়। তারা বাড়িঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতেও সময় পাননি। বসতভিটা হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়েছে বেশিরভাগ পরিবার। ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে কয়েকটি পরিবার সড়কে টিন-পলিথিন দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে এসব পরিবার বেশ নাজুক ও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, নদী ভাঙনের কারণে প্রতি বছর গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হচ্ছে। নদীর ভাঙন ঠেকাতে টেকসই ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন তাদের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধে টেকসই পদক্ষেপ নিতে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পদ্মার গ্রাসে বিলীন গ্রামের পর গ্রাম

 ফরিদপুর ব্যুরো 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরে নতুন করে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের কয়েকশ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, সাইক্লোন সেন্টার, কয়েকশ বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা।

গত মাসে হঠাৎ পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয় পদ্মার তীরবর্তী ডিক্রির চর ও নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। সেই সময় পদ্মার পানি ডুবোচরে বাধা পেয়ে দিক পরিবর্তন করে আঘাত হানে বসতভিটা ও ফসলি জমিতে। নদী ভাঙনের কারণে সেই সময় ড্রেজার দিয়ে ডুবোচর কাটা হয়। ফলে ভাঙন কিছুটা কমে। কিন্তু ১৭ জুলাই থেকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে তিন দিনের ব্যবধানে ডিক্রিরচর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ৩০টি পরিবারের কমপক্ষে ৮০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। দুটি গ্রামের তিন একর ফসলি জমি ও ৩৩ মিটার এইচবিবি রাস্তাও চলে গেছে নদীতে। ভাঙনের কারণে পল্লী বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেলে ওইসব গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ যে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিতেও পারছেন না অনেকেই। হঠাৎ করে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নদী পারের হাজারো মানুষের মাঝে।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী, আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, খিজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী এলাকার কয়েকজন বলেন, হঠাৎ নদী ভাঙন শুরু হয়। তারা বাড়িঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতেও সময় পাননি। বসতভিটা হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়েছে বেশিরভাগ পরিবার। ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে কয়েকটি পরিবার সড়কে টিন-পলিথিন দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে এসব পরিবার বেশ নাজুক ও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, নদী ভাঙনের কারণে প্রতি বছর গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হচ্ছে। নদীর ভাঙন ঠেকাতে টেকসই ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন তাদের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধে টেকসই পদক্ষেপ নিতে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন