অতি বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
jugantor
অতি বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
চকরিয়া ও বাঁকখালীর কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি * তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা * বান্দরবানে বন্যার পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, বরগুনা, ফিরোজপুর, বান্দরবান, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঁশখালী নদীর পানি বেড়ে রামু উপজেলার লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহরসহ নিম্নাঞ্চল। বান্দরবানে বন্যার পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চকরিয়া (কক্সবাজার) : টানা ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া। অধিকাংশ ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার লোকালয় বানের পানিতে ভাসছে। অন্তত দুলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো। অনেক স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন হাজারো মানুষ। মাতামুহুরী নদীতে উজানের পানির প্রবল তোড়ে কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধও।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, পানের বরজ ও আমনের বীজতলা। বেশ কয়েকটি এলজিইডির সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

রামু (কক্সবাজার) : উপজেলার লোকালয় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘর বাড়ি হারিয়েছেন শত শত মানুষ। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকা। ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম।

সাতক্ষীরা : অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার সব নিম্নাঞ্চল। শহরের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। মাছের ঘের ও বীজতলা পানির তোড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সব উপজেলার খালবিল পানিতে ভরে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বেতনা তীরবর্তী ১০টি বিল। এছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালা এলাকার গ্রামে গ্রামে পানি ঢুকেছে।

বান্দরবান : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বন্যার পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোনা মিয়া (২৯) রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৪ মধুরছড়া এলাকার বি/২৩ ব্লকের এফসিএন মৃত ওয়ামিয়ার ছেলে। এদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলা সদর, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমের প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পাহাড় ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বেতাগী (বরগুনা) : বেতাগীতে সংস্কারের অভাবে বিষখালী নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) দেওয়া পৌর শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পড়েছে। ভারি বর্ষণ, বিষখালী নদীতে জোয়ার পানিবৃদ্ধি ও বাঁধের ব্লক ধসে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বেতাগী শহর রক্ষা বাঁধ রয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : ভারি বর্ষণে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, জোয়ারের পানিতে ১২শ হেক্টর পাকা আউশ ক্ষেত, ৪২০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ৩শ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা) : উপজেলার বিছিন্ন দ্বীপগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে পুকুর ও বাগানবাড়ী তলিয়ে গেছে। মাছচাষিদের অনেক প্রকল্প পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, বেশ কয়েকজন মাছচাষির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দপ্তরের প্রেরণ করব।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ ও বীজতলা, মাছের ঘেরসহ রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। ক্ষতি হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাটের। দুর্ভোগ বেড়েছে মেঘনা উপকূলের বাসিন্দাদের।

অতি বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চকরিয়া ও বাঁকখালীর কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি * তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা * বান্দরবানে বন্যার পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু
 যুগান্তর ডেস্ক 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, বরগুনা, ফিরোজপুর, বান্দরবান, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঁশখালী নদীর পানি বেড়ে রামু উপজেলার লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহরসহ নিম্নাঞ্চল। বান্দরবানে বন্যার পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চকরিয়া (কক্সবাজার) : টানা ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া। অধিকাংশ ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার লোকালয় বানের পানিতে ভাসছে। অন্তত দুলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো। অনেক স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন হাজারো মানুষ। মাতামুহুরী নদীতে উজানের পানির প্রবল তোড়ে কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধও।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, পানের বরজ ও আমনের বীজতলা। বেশ কয়েকটি এলজিইডির সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

রামু (কক্সবাজার) : উপজেলার লোকালয় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘর বাড়ি হারিয়েছেন শত শত মানুষ। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকা। ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম।

সাতক্ষীরা : অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার সব নিম্নাঞ্চল। শহরের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। মাছের ঘের ও বীজতলা পানির তোড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সব উপজেলার খালবিল পানিতে ভরে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বেতনা তীরবর্তী ১০টি বিল। এছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালা এলাকার গ্রামে গ্রামে পানি ঢুকেছে।

বান্দরবান : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বন্যার পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোনা মিয়া (২৯) রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৪ মধুরছড়া এলাকার বি/২৩ ব্লকের এফসিএন মৃত ওয়ামিয়ার ছেলে। এদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলা সদর, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমের প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পাহাড় ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বেতাগী (বরগুনা) : বেতাগীতে সংস্কারের অভাবে বিষখালী নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) দেওয়া পৌর শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পড়েছে। ভারি বর্ষণ, বিষখালী নদীতে জোয়ার পানিবৃদ্ধি ও বাঁধের ব্লক ধসে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বেতাগী শহর রক্ষা বাঁধ রয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : ভারি বর্ষণে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, জোয়ারের পানিতে ১২শ হেক্টর পাকা আউশ ক্ষেত, ৪২০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ৩শ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা) : উপজেলার বিছিন্ন দ্বীপগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে পুকুর ও বাগানবাড়ী তলিয়ে গেছে। মাছচাষিদের অনেক প্রকল্প পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, বেশ কয়েকজন মাছচাষির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দপ্তরের প্রেরণ করব।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ ও বীজতলা, মাছের ঘেরসহ রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। ক্ষতি হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাটের। দুর্ভোগ বেড়েছে মেঘনা উপকূলের বাসিন্দাদের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন