ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং
jugantor
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েক দিন ধরে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাতে সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে বড় ধরনের পাহাড়ধস হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসন জানায়, সদরসহ জেলায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তাদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো হচ্ছে। শহরে ২৩ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচ হাজারের অধিক পরিবারের লোকজন ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এসব পরিবারের লোকসংখ্যা ২০-২৫ হাজার হবে।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। যে কোনো সময় ২০১৭ সালের ১৩ জুনের মতো বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ৫ জুলাই শহরের রিজার্ভ বাজারের কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী প্রধান সড়ক লাগোয়া পাঁচ দোকান ধসে যায়। জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বোরহান উদ্দিন জানান, পাহাড় ধসের আশঙ্কার মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘরে বসবাস করছে বহু লোকজন। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট দলের সদস্য এবং পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তিনি বলেন, রাঙামাটিতে ভূমিধসসহ সম্ভাব্য যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের শঙ্কা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, রাঙামাটি শহরে ৩৩ স্থান পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় লোকজনকে বসবাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৩ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় সদরসহ জেলায় কোথাও না কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থায়ী পদক্ষেপ নেই সরকারের। বিপরীতে পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত ভিটায় স্থাপনা তৈরি করে ফের গড়ে উঠেছে বসতি। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০১৮ সালের জুনে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুন মাসে কাপ্তাইয়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এর পরও মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, দুর্যোগ ঘটলেই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান নেই। পাহাড়ধস প্রতিরোধে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।

রাঙামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর নির্বাহী পরিচালক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী বলেন, পাহাড়ধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে স্থানীয় বিভিন্ন মহলকে নিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে এবং স্থায়ীভাবে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। ফলে দুর্যোগ আসছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং

 সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েক দিন ধরে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাতে সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে বড় ধরনের পাহাড়ধস হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসন জানায়, সদরসহ জেলায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তাদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো হচ্ছে। শহরে ২৩ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচ হাজারের অধিক পরিবারের লোকজন ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এসব পরিবারের লোকসংখ্যা ২০-২৫ হাজার হবে।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। যে কোনো সময় ২০১৭ সালের ১৩ জুনের মতো বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ৫ জুলাই শহরের রিজার্ভ বাজারের কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী প্রধান সড়ক লাগোয়া পাঁচ দোকান ধসে যায়। জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বোরহান উদ্দিন জানান, পাহাড় ধসের আশঙ্কার মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘরে বসবাস করছে বহু লোকজন। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট দলের সদস্য এবং পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তিনি বলেন, রাঙামাটিতে ভূমিধসসহ সম্ভাব্য যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে। কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের শঙ্কা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, রাঙামাটি শহরে ৩৩ স্থান পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় লোকজনকে বসবাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৩ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় সদরসহ জেলায় কোথাও না কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থায়ী পদক্ষেপ নেই সরকারের। বিপরীতে পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত ভিটায় স্থাপনা তৈরি করে ফের গড়ে উঠেছে বসতি। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০১৮ সালের জুনে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুন মাসে কাপ্তাইয়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এর পরও মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, দুর্যোগ ঘটলেই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান নেই। পাহাড়ধস প্রতিরোধে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।

রাঙামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর নির্বাহী পরিচালক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী বলেন, পাহাড়ধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে স্থানীয় বিভিন্ন মহলকে নিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে এবং স্থায়ীভাবে টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। ফলে দুর্যোগ আসছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন