১৮ বছর মাটির গর্তে শিকলবন্দি রবিউল
jugantor
১৮ বছর মাটির গর্তে শিকলবন্দি রবিউল

  ফরিদপুর ব্যুরো  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণি গ্রামের ভারসাম্যহীন মো. রবিউল মোল্লা (৩৫)। বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে দীর্ঘ ১৮ বছর মাটির গর্তে বসবাস করছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে রবিউল বড়। সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক মো. নুরুল মোল্যার ছেলে। রবিউলের মেঝ ভাই ইমরান মোল্যা ভ্যানচালক ও ছোট ভাই এনামুল মোল্যা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।

স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির চারচালা একটি টিনের ঘরের মধ্যে মাজায় শেকল লাগানো রবিউলের। সারাক্ষণ হাতের নখ দিয়ে মাটি খুরছেন তিনি। ৬ ফুট গভীর গোলাকার মাটির গর্তে ১৮ বছর ধরে তার বসবাস। শেকলবন্দি জীবনে রবিউল নিজেই তৈরি করেছেন নিজের থাকার মাটির ঘর। পরিত্যক্ত এই টিনের ঘরটি প্রায় ২৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিউলের বয়স তখন প্রায় ৮ বছর। সে সময় তার জ্বর হয়েছিল। অসুস্থতার পর আস্তে আস্তে তার হাত-পা শুকিয়ে যেতে থাকে। পরিবারের সাধ্যমতো কবিরাজ ও ডাক্তার সব দেখানো হলেও আর সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। শীত-গরম কোনো অনুভূতিই টের পায় না। শরীরে তাই কখনোই কাপড় রাখে না রবিউল। বাবা মো. নুরুল মোল্লা বলেন, ‘রবিউল অসুস্থ হওয়ার পর তার ওজনের সমান টাকা ফেলেও তারে আর ভালো করতে পারি নাই। এহন আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিছি। বাধ্য হয়ে মনে না মানলেও ১৮ বছর ধরে ওকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখছি।’ শেকল খুলে দিলে পুরো বাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করে। এদিক ওদিক হারিয়ে যায় বলে জানান রবিউলের বাবা।

রবিউলের ছোট ভাই ইমরান মোল্লা বলেন, ছোট বেলায় বড় ভাই আমাকে সাইকেল চালানো শিখিয়েছিল। সে স্মৃতি আমি এখনো ভুলি নাই।

এ ব্যাপারে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, অসুস্থ রবিউলের বিষয়টি আমার জানা আছে। কিন্তু পরিবারটি কখনো আমাদের কাছে আসে নাই বিধায় কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। রবিউলের চিকিৎসায় বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন কিন্তু আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের এ ধরনের কোনো তহবিল নেই। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রবিউলের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, ফেসবুকে শেকল বন্দি ওই যুবকের খোঁজ পেয়ে ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিবারটিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও সরকারি খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি মধুমতির নদীর পাশে এ উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় ঘটনাটি আগে আমাদের নজরে আসেনি বা কেউ জানায়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউলের চিকিৎসায় বড় ধরনের অর্থ সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

১৮ বছর মাটির গর্তে শিকলবন্দি রবিউল

 ফরিদপুর ব্যুরো 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণি গ্রামের ভারসাম্যহীন মো. রবিউল মোল্লা (৩৫)। বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে দীর্ঘ ১৮ বছর মাটির গর্তে বসবাস করছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে রবিউল বড়। সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক মো. নুরুল মোল্যার ছেলে। রবিউলের মেঝ ভাই ইমরান মোল্যা ভ্যানচালক ও ছোট ভাই এনামুল মোল্যা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।

স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির চারচালা একটি টিনের ঘরের মধ্যে মাজায় শেকল লাগানো রবিউলের। সারাক্ষণ হাতের নখ দিয়ে মাটি খুরছেন তিনি। ৬ ফুট গভীর গোলাকার মাটির গর্তে ১৮ বছর ধরে তার বসবাস। শেকলবন্দি জীবনে রবিউল নিজেই তৈরি করেছেন নিজের থাকার মাটির ঘর। পরিত্যক্ত এই টিনের ঘরটি প্রায় ২৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিউলের বয়স তখন প্রায় ৮ বছর। সে সময় তার জ্বর হয়েছিল। অসুস্থতার পর আস্তে আস্তে তার হাত-পা শুকিয়ে যেতে থাকে। পরিবারের সাধ্যমতো কবিরাজ ও ডাক্তার সব দেখানো হলেও আর সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। শীত-গরম কোনো অনুভূতিই টের পায় না। শরীরে তাই কখনোই কাপড় রাখে না রবিউল। বাবা মো. নুরুল মোল্লা বলেন, ‘রবিউল অসুস্থ হওয়ার পর তার ওজনের সমান টাকা ফেলেও তারে আর ভালো করতে পারি নাই। এহন আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিছি। বাধ্য হয়ে মনে না মানলেও ১৮ বছর ধরে ওকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখছি।’ শেকল খুলে দিলে পুরো বাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করে। এদিক ওদিক হারিয়ে যায় বলে জানান রবিউলের বাবা।

রবিউলের ছোট ভাই ইমরান মোল্লা বলেন, ছোট বেলায় বড় ভাই আমাকে সাইকেল চালানো শিখিয়েছিল। সে স্মৃতি আমি এখনো ভুলি নাই।

এ ব্যাপারে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, অসুস্থ রবিউলের বিষয়টি আমার জানা আছে। কিন্তু পরিবারটি কখনো আমাদের কাছে আসে নাই বিধায় কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। রবিউলের চিকিৎসায় বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন কিন্তু আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের এ ধরনের কোনো তহবিল নেই। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রবিউলের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, ফেসবুকে শেকল বন্দি ওই যুবকের খোঁজ পেয়ে ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিবারটিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও সরকারি খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি মধুমতির নদীর পাশে এ উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় ঘটনাটি আগে আমাদের নজরে আসেনি বা কেউ জানায়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউলের চিকিৎসায় বড় ধরনের অর্থ সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন