টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ, ফাঁকা গুলি, আহত ১৫
jugantor
টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ, ফাঁকা গুলি, আহত ১৫

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

০২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেশন প্রদানে নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের সমান মূল্যায়নে মর্যাদাহানির দাবি তুলে বিক্ষোভের চেষ্টা চালিয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড (নিবন্ধিত) ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। রোববার সকালে তাদের বিক্ষোভের চেষ্টাটি ঠেকিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালান এপিবিএন সদস্যরা। এ সময় বিক্ষোভ চেষ্টাকারী রোহিঙ্গাদের ইটপাটকেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১০-১২ সদস্য আহত হয়েছেন। নিজেদের সম্পদ রক্ষায় ফাঁকা গুলি চালিয়েছেন এপিবিএন সদস্যরা। আহত হয়েছেন কয়েক রোহিঙ্গাও। তবে, তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ইস্যু করা ফুড কার্ড ও পুরোনো রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি ফুড কার্ডের ধরন হুবুহু হওয়ায় একে মর্যাদাহানি বলে দাবি করে পুরাতন রোহিঙ্গারা রেশন নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাতেও চেষ্টা চালান তারা। ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) তারেকুল ইসলাম তারিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৯১-৯২ সালে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কয়েক লাখ প্রত্যাবাসন হয়। কিন্তু হঠাৎ স্থগিত হওয়া প্রত্যাবাসনে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আটকা পড়ে। পরে নিবন্ধিত এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২২ হাজার জনকে টেকনাফের নয়াপাড়া ও বাকি ১২ হাজার জনকে কুতুপালং ক্যাম্প করে রাখা হয়। এরা তখন থেকে ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে জীবনরক্ষাকারী সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন।

কিন্তু ২০১৭ সালে জাতিগত সহিংসতায় নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এর আগে বিচ্ছিন্ন ভাবে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে উখিয়া-টেকনাফ এবং পুরো জেলায় অবস্থান নেন। সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় এনে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে উখিয়া-টেকনাফে ৩৩টি ক্যাম্প করে রাখা হয়েছে। তাদের জীবিকায়নে ইউএনএইচসিআরের ফুড কার্ড তৈরি করে। এ কার্ডের বিপরীতে জনপ্রতি ৯শ টাকা ও অন্যান্য আহার্য পণ্য পেয়ে থাকেন।

কিন্তু সম্প্রতি পুরোনো নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা আবিষ্কার করেন-তাদের ও নতুন রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি ফুড কার্ডের রং ও ধরন একই। এটাকে তারা তাদের মর্যাদাহানি বলে মনে করে হুবুহু কার্ড নিয়ে জুলাই মাসের রেশন উত্তোলন করেনি নয়াপাড়া রেজি. ক্যাম্পে ১৯৯১-৯২ সালে আসা পুরাতন রোহিঙ্গারা।

তাদের মতে, পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ডের চেয়ে রেশনিং ভিন্নতা ছিল। সব রোহিঙ্গার মাঝে সমপরিমাণ খাবার বিতরণের জন্য পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড ফেরত নিয়ে গত মাসে নতুন ফুড কার্ড ইস্যু করা হয়। নতুন ফুড কার্ড অন্যান্য ক্যাম্পের সমসাময়িক (২০১৭ সালে) আগত নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ডের অনুরূপ হওয়ায় নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গারা এখনো নতুন ফুড কার্ড গ্রহণ করেননি। এর ফলে জুলাইয়ের রেশন উত্তোলন করেননি তারা।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড একইরকম হওয়াতে রেজি. ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সমান মর্যাদাহানি হয়েছে। এটি কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) কর্তৃপক্ষ ফুড কার্ড ইস্যুতে গৃহীত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড (ক্যাম্প-২৫) ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) উপসচিব মো. আবদুল হান্নান জানান, হয়তো ভুল ধারণা থেকে এমনটি করছে তারা। আমরা এদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি তারা রেশন নেওয়া শুরু করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

কক্সবাজার ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক জানান, ফুড কার্ডকে কেন্দ্র করে রোববার ভোর ৫টা থেকে নয়াপাড়া ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা নারীরা জড়ো হতে থাকেন। এপিবিএন সদস্যরা সর্বোচ্চ ধৈর্যসহ উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গা নারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। রোহিঙ্গা নারীরা দফায় দফায় বিভিন্ন স্পটে ইট-পাটকেল মেরে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পুলিশের অস্ত্র টানা-হ্যাঁচড়া শুরু করলে পুলিশ জানমাল রক্ষায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এতে রোহিঙ্গা নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ইট-পাটকেলের আঘাতে এপিবিএনের ১০-১২ সদস্য আহত হন।

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ, ফাঁকা গুলি, আহত ১৫

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেশন প্রদানে নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের সমান মূল্যায়নে মর্যাদাহানির দাবি তুলে বিক্ষোভের চেষ্টা চালিয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড (নিবন্ধিত) ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। রোববার সকালে তাদের বিক্ষোভের চেষ্টাটি ঠেকিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালান এপিবিএন সদস্যরা। এ সময় বিক্ষোভ চেষ্টাকারী রোহিঙ্গাদের ইটপাটকেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১০-১২ সদস্য আহত হয়েছেন। নিজেদের সম্পদ রক্ষায় ফাঁকা গুলি চালিয়েছেন এপিবিএন সদস্যরা। আহত হয়েছেন কয়েক রোহিঙ্গাও। তবে, তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ইস্যু করা ফুড কার্ড ও পুরোনো রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি ফুড কার্ডের ধরন হুবুহু হওয়ায় একে মর্যাদাহানি বলে দাবি করে পুরাতন রোহিঙ্গারা রেশন নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাতেও চেষ্টা চালান তারা। ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) তারেকুল ইসলাম তারিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৯১-৯২ সালে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কয়েক লাখ প্রত্যাবাসন হয়। কিন্তু হঠাৎ স্থগিত হওয়া প্রত্যাবাসনে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আটকা পড়ে। পরে নিবন্ধিত এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২২ হাজার জনকে টেকনাফের নয়াপাড়া ও বাকি ১২ হাজার জনকে কুতুপালং ক্যাম্প করে রাখা হয়। এরা তখন থেকে ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে জীবনরক্ষাকারী সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন।

কিন্তু ২০১৭ সালে জাতিগত সহিংসতায় নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এর আগে বিচ্ছিন্ন ভাবে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে উখিয়া-টেকনাফ এবং পুরো জেলায় অবস্থান নেন। সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় এনে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে উখিয়া-টেকনাফে ৩৩টি ক্যাম্প করে রাখা হয়েছে। তাদের জীবিকায়নে ইউএনএইচসিআরের ফুড কার্ড তৈরি করে। এ কার্ডের বিপরীতে জনপ্রতি ৯শ টাকা ও অন্যান্য আহার্য পণ্য পেয়ে থাকেন।

কিন্তু সম্প্রতি পুরোনো নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা আবিষ্কার করেন-তাদের ও নতুন রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি ফুড কার্ডের রং ও ধরন একই। এটাকে তারা তাদের মর্যাদাহানি বলে মনে করে হুবুহু কার্ড নিয়ে জুলাই মাসের রেশন উত্তোলন করেনি নয়াপাড়া রেজি. ক্যাম্পে ১৯৯১-৯২ সালে আসা পুরাতন রোহিঙ্গারা।

তাদের মতে, পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ডের চেয়ে রেশনিং ভিন্নতা ছিল। সব রোহিঙ্গার মাঝে সমপরিমাণ খাবার বিতরণের জন্য পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড ফেরত নিয়ে গত মাসে নতুন ফুড কার্ড ইস্যু করা হয়। নতুন ফুড কার্ড অন্যান্য ক্যাম্পের সমসাময়িক (২০১৭ সালে) আগত নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ডের অনুরূপ হওয়ায় নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গারা এখনো নতুন ফুড কার্ড গ্রহণ করেননি। এর ফলে জুলাইয়ের রেশন উত্তোলন করেননি তারা।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড একইরকম হওয়াতে রেজি. ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সমান মর্যাদাহানি হয়েছে। এটি কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) কর্তৃপক্ষ ফুড কার্ড ইস্যুতে গৃহীত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড (ক্যাম্প-২৫) ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) উপসচিব মো. আবদুল হান্নান জানান, হয়তো ভুল ধারণা থেকে এমনটি করছে তারা। আমরা এদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি তারা রেশন নেওয়া শুরু করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

কক্সবাজার ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক জানান, ফুড কার্ডকে কেন্দ্র করে রোববার ভোর ৫টা থেকে নয়াপাড়া ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা নারীরা জড়ো হতে থাকেন। এপিবিএন সদস্যরা সর্বোচ্চ ধৈর্যসহ উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গা নারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। রোহিঙ্গা নারীরা দফায় দফায় বিভিন্ন স্পটে ইট-পাটকেল মেরে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পুলিশের অস্ত্র টানা-হ্যাঁচড়া শুরু করলে পুলিশ জানমাল রক্ষায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এতে রোহিঙ্গা নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ইট-পাটকেলের আঘাতে এপিবিএনের ১০-১২ সদস্য আহত হন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন