হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই
jugantor
খুলনায় করোনা চিকিৎসা
হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই

  ঝুঁকিতে চিকিৎসাসেবা  

০২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নূর ইসলাম রকি, খুলনা

খুলনায় সরকারি-বেসরকারি পাঁচটি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা দিচ্ছে। এসব হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। গত এক বছরে এসবের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই হারে বাড়েনি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ফলে ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আরও জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ব্যবহার করছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থিত ২শ আসনবিশিষ্ট করোনা ডেটিকেটেড হাসপাতাল, ৪৫ আসনবিশিষ্ট শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ৮০ আসনবিশিষ্ট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল)। এছাড়া বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন এবং বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজে আংশিক সেন্ট্রাল এবং মেডিকেল সিলিন্ডার ব্যবহার করে ১৫০ শয্যায় করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করে। এ সময় টিমের সদস্যরা দেখতে পান যে, হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। এমনকি অনেক হাসপাতালই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে শর্ত সাপেক্ষে ভবন নির্মাণের অনাপত্তি ছাড়পত্রও গ্রহণ করেনি। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভার, এলার্ম বেল, স্প্রিংক লার, র‌্যামের ব্যবস্থা নেই। এসব হাসপাতালে আগুন লাগলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষ বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে র‌্যামের (রোগীকে ট্রলির মাধ্যমে বহুতল ভবন থেকে নিচে নামানোর উপায়) ব্যবস্থা, বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ছাড়পত্র নেওয়াসহ হাসপাতালে নিজস্ব পানি ধারণ ক্ষমতা রাখার ব্যবস্থা, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে রিজার্ভ ট্যাংকি, ফায়ার কন্ট্রোল রুম, এলার্ম বেল এবং ছাড়পত্র নেওয়া, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্প্রিংক লারসহ (অটোমেটিক পানি বের হওয়ার উপায়) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার অফিসাররা ইতোমধ্যে করোনা হাসপাতালগুলোতে পরিদর্শন করেছেন। আগের তুলনায় খুব বেশি ফায়ার সেফটি বাড়েনি। কয়েকটি হাসপাতালে ফায়ার সেফটি বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সেফটি প্ল্যান্ট অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক অবস্থা ভালো।

খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে সেই পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বৃদ্ধি হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

খুলনায় করোনা চিকিৎসা

হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই

 ঝুঁকিতে চিকিৎসাসেবা 
০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নূর ইসলাম রকি, খুলনা

খুলনায় সরকারি-বেসরকারি পাঁচটি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা দিচ্ছে। এসব হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনসহ মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। গত এক বছরে এসবের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই হারে বাড়েনি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ফলে ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আরও জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ব্যবহার করছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থিত ২শ আসনবিশিষ্ট করোনা ডেটিকেটেড হাসপাতাল, ৪৫ আসনবিশিষ্ট শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ৮০ আসনবিশিষ্ট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল)। এছাড়া বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন এবং বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজে আংশিক সেন্ট্রাল এবং মেডিকেল সিলিন্ডার ব্যবহার করে ১৫০ শয্যায় করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করে। এ সময় টিমের সদস্যরা দেখতে পান যে, হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। এমনকি অনেক হাসপাতালই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে শর্ত সাপেক্ষে ভবন নির্মাণের অনাপত্তি ছাড়পত্রও গ্রহণ করেনি। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভার, এলার্ম বেল, স্প্রিংক লার, র‌্যামের ব্যবস্থা নেই। এসব হাসপাতালে আগুন লাগলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষ বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে র‌্যামের (রোগীকে ট্রলির মাধ্যমে বহুতল ভবন থেকে নিচে নামানোর উপায়) ব্যবস্থা, বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ছাড়পত্র নেওয়াসহ হাসপাতালে নিজস্ব পানি ধারণ ক্ষমতা রাখার ব্যবস্থা, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে রিজার্ভ ট্যাংকি, ফায়ার কন্ট্রোল রুম, এলার্ম বেল এবং ছাড়পত্র নেওয়া, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্প্রিংক লারসহ (অটোমেটিক পানি বের হওয়ার উপায়) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার অফিসাররা ইতোমধ্যে করোনা হাসপাতালগুলোতে পরিদর্শন করেছেন। আগের তুলনায় খুব বেশি ফায়ার সেফটি বাড়েনি। কয়েকটি হাসপাতালে ফায়ার সেফটি বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সেফটি প্ল্যান্ট অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক অবস্থা ভালো।

খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে সেই পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বৃদ্ধি হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন