কুমিল্লার মেঘনায় উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ফাটল
jugantor
কুমিল্লার মেঘনায় উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ফাটল

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

০২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার মেঘনায় নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় উদ্বোধনের আগেই একটি ব্রিজে ফাটল ধরেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের চরকাঠালিয়া-চেঙ্গাকান্দি খেয়াঘাট রোডে খালের ওপর এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণে অতিমাত্রায় অনিয়ম এবং নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রিজটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা খোদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের। সম্প্রতি এ নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত শেষে নির্মিত ব্রিজ ভেঙে সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সপ্তাহ আগে ব্রিজটি ভেঙে ফেলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে ব্রিজটি নির্মাণকালে যথাযথভাবে তদারকি না করায় তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের চরকাঠালিয়া গ্রাম থেকে চেঙ্গাকান্দি খেয়াঘাট যাওয়ার রাস্তায় খালের ওপর ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। আদিবা বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৪ টাকা। নির্মাণের শুরুতে ঠিকাদার নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকাবাসী এ নিয়ে আপত্তি এবং সমালোচনা করে। এতে ঠিকাদার স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের শেল্টার নিয়ে ২০২০ সালের মে মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। পরে তড়িঘড়ি করে বিলের অর্থ উত্তোলন করে নেয়। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই এতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঘটে বিপত্তি। খবর পেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৩১ মে ওই ব্রিজ পরিদর্শন করেন। ৬ জুন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয় ব্রিজটির ৪টি উইং ওয়াল এবার্টমেন্ট ওয়ালের সংযোগস্থলে ফাটল সৃষ্টি, ডিজাইন অনুযায়ী ঢালাইয়ে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিজটির টপ স্লাবের ফিনিশিং নিন্মমানের, সঠিক অনুপাতে সিমেন্ট ব্যবহার না করাসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাই নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে নতুনভাবে অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণের সুপারিশ প্রদান করা হয়। এছাড়া ওই সময়ে মেঘনা উপজেলায় কর্মরত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, পরে ইউনুস মিয়া (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং ব্রিজ বাস্তবায়নকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্রিজটি নির্মাণকালে তদারকি না করার অভিযোগ আনা হয়। অনিয়মের কারণে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করা হয়। ব্রিজ তৈরির সময় মেঘনা উপজেলায় দায়িত্বপালনকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কর্মরত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে নিচের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়, ফাটলের বিষয়টি তখন ধরা পড়েনি, এটা ঘটেছে হয়তো শেষ পর্যায়ে এসে।’

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায় জানান, ৭ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদিবা বিল্ডার্সকে ব্রিজটি ভেঙে ডিজাইন অনুসারে নতুন করে নির্মাণের জন্য চিঠি দিয়েছি। ‘করোনা পেনডেমিক এবং লকডাউনের কারণে হয়তো ব্রিজ ভেঙে ফেলার কাজ বিলম্ব হচ্ছে, আমরা কোনোভাবেই এ অনিয়ম মেনে নেব না। অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক তা অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে।’ তবে ঠিকাদার আদিবা বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মজিবুর রহমান স্বপনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনিরুল হক বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন ও মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চিঠির আলোকে ফাটল ও ক্রটিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার মেঘনায় উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ফাটল

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার মেঘনায় নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় উদ্বোধনের আগেই একটি ব্রিজে ফাটল ধরেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের চরকাঠালিয়া-চেঙ্গাকান্দি খেয়াঘাট রোডে খালের ওপর এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণে অতিমাত্রায় অনিয়ম এবং নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রিজটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা খোদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের। সম্প্রতি এ নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত শেষে নির্মিত ব্রিজ ভেঙে সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সপ্তাহ আগে ব্রিজটি ভেঙে ফেলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে ব্রিজটি নির্মাণকালে যথাযথভাবে তদারকি না করায় তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের চরকাঠালিয়া গ্রাম থেকে চেঙ্গাকান্দি খেয়াঘাট যাওয়ার রাস্তায় খালের ওপর ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। আদিবা বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৪ টাকা। নির্মাণের শুরুতে ঠিকাদার নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকাবাসী এ নিয়ে আপত্তি এবং সমালোচনা করে। এতে ঠিকাদার স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের শেল্টার নিয়ে ২০২০ সালের মে মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। পরে তড়িঘড়ি করে বিলের অর্থ উত্তোলন করে নেয়। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই এতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঘটে বিপত্তি। খবর পেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৩১ মে ওই ব্রিজ পরিদর্শন করেন। ৬ জুন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয় ব্রিজটির ৪টি উইং ওয়াল এবার্টমেন্ট ওয়ালের সংযোগস্থলে ফাটল সৃষ্টি, ডিজাইন অনুযায়ী ঢালাইয়ে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিজটির টপ স্লাবের ফিনিশিং নিন্মমানের, সঠিক অনুপাতে সিমেন্ট ব্যবহার না করাসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাই নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে নতুনভাবে অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণের সুপারিশ প্রদান করা হয়। এছাড়া ওই সময়ে মেঘনা উপজেলায় কর্মরত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, পরে ইউনুস মিয়া (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং ব্রিজ বাস্তবায়নকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্রিজটি নির্মাণকালে তদারকি না করার অভিযোগ আনা হয়। অনিয়মের কারণে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করা হয়। ব্রিজ তৈরির সময় মেঘনা উপজেলায় দায়িত্বপালনকারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কর্মরত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে নিচের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়, ফাটলের বিষয়টি তখন ধরা পড়েনি, এটা ঘটেছে হয়তো শেষ পর্যায়ে এসে।’

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায় জানান, ৭ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদিবা বিল্ডার্সকে ব্রিজটি ভেঙে ডিজাইন অনুসারে নতুন করে নির্মাণের জন্য চিঠি দিয়েছি। ‘করোনা পেনডেমিক এবং লকডাউনের কারণে হয়তো ব্রিজ ভেঙে ফেলার কাজ বিলম্ব হচ্ছে, আমরা কোনোভাবেই এ অনিয়ম মেনে নেব না। অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক তা অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে।’ তবে ঠিকাদার আদিবা বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মজিবুর রহমান স্বপনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনিরুল হক বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন ও মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চিঠির আলোকে ফাটল ও ক্রটিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন