নানা অপরাধে জড়িয়েছে বগুড়া সাইবার পুলিশ
jugantor
নানা অপরাধে জড়িয়েছে বগুড়া সাইবার পুলিশ
‘আইডি কার্ড’ দিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ

  বগুড়া ব্যুরো  

০২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাইবার পুলিশ বগুড়ার (সিপিবি) কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিরীহ মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করছে। শুধু তাই নয়; অনুগত ব্যক্তিকে ‘পুলিশের আদলে পরিচয়পত্র’ দিয়ে তাদের মাধ্যমে অপরাধ করাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অতি গোপনে সাইবার ইনচার্জসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিদায়ী পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, তিনি কাউকে পুলিশের আইডি কার্ড দেননি। কেউ কার্ড তৈরি করে সাইবার ট্রেইনারদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে।

বগুড়া ও আশপাশের জেলায় সাইবার অপরাধ দমনে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সাইবার পুলিশ বগুড়ার (সিপিবি) যাত্রা শুরু। ২১ ধরনের অপরাধকে সাইবার অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চার ইন্সপেক্টরসহ ১২ সদস্যের টিম নিয়ে সিপিবি গঠিত হয়। সিপিবি ১২ সদস্যের টিম হলেও মূলত পরিচালনা করতেন সাইবার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিন ও এসআই শওকত আলম।

পরে কিছু কর্মকর্তা এটিকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও জনগণকে হয়রানির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। জাকারিয়া শিকদার ও তন্ময়সহ কয়েকজনকে সাইবার পুলিশের আইডি কার্ড দেওয়া হয়। তাদের পদবি দেওয়া হয় ‘সাইবার ক্রাইম অ্যানালিস্ট’। কার্ডে অথরিটি হিসাবে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার সই রয়েছে। পুলিশ না হয়েও এরা পুলিশের আদলে পরিচয়পত্র বহন করে।

সিপিবির সেকেন্ডম্যান খ্যাত এসআই শওকত আলম ২০১৯ সালে বগুড়া ডিবি পুলিশের এএসআই ছিলেন। বগুড়ায় ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের সদর দফতরের গোয়েন্দা ইউনিট ফোনে আড়ি পেতে এএসআই শওকত ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেনকে শনাক্ত করে। ঘুষ লেনদেনে জড়িত থাকায় সদর দফতরের নির্দেশে তাদের চট্টগ্রাম রেঞ্জের কুমিল্লায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় এনে এসআই পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাকে সাইবার পুলিশের ‘দ্বিতীয় ম্যান’ হিসাবে ক্ষমতা দেওয়া হয়।

সিপিবি ইনচার্জ এমরান মাহমুদ তুহিন ও এসআই শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে ‘পুলিশের আইডি কার্ড’ বহনকারী জাকারিয়া শিকদার, তন্ময় প্রমুখ আউটসোর্সিং, অন্যান্য অনলাইন ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে হয়রানি শুরু হয়। এরা ২৭ মে সাইবার টিম বগুড়া সদরের শিকারপুরে মাস্টার বিড়ি কারখানায় যান। সেখাবে জাল ব্যান্ডরোল থাকার দাবি করে মালিক হেলালুর রহমান হেলালকে হয়রানি করা হয়। তাকে বলা হয়, পুলিশ সুপারকে ম্যানেজ করতে পারলে মামলা হবে না। বিনিময়ে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। চাপের মুখে হেলাল ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ ও এক সপ্তাহ পরে অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়। তিনি ৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে রাতেই পুলিশ কর্মকর্তাদের দেন। অবশিষ্ট টাকার জন্য সাইবার টিম ওই ব্যবসায়ীকে চাপ দিতে থাকে। বিব্রত ব্যবসায়ী হেলাল ১৩ জুলাই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দেন। তখন সাইবার পুলিশের কর্মকর্তারা চাঁদাবাজির ওই ৯ লাখ টাকা ফেরত দেন। তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেয়ে পুলিশ সুপার ২৬ জুলাই সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনকে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত ও এসআই শওকত আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে তাদের রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে বদলি করা হয়েছে। যদিও শাস্তিপ্রাপ্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এদের শাস্তি দেওয়ার পরপরই কথিত পুলিশ সদস্যরা গাঢাকা দিয়েছেন।

এমন আরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে বগুড়ার বিদায়ী পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, জাকারিয়া শিকদার ও তন্ময় সাইবার পুলিশের ট্রেইনার; ওরা সারা দেশে ট্রেনিং দিয়ে থাকেন। তিনি তাদের আইডি কার্ড দেননি। সাইবার পুলিশের এসআই শওকত আলম ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেন ২০১৯ সালের ৪ জুলাই কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের জন্য স্ট্যান্ড রিলিজ হননি; এর কোনো ভিত্তি নেই। সদর দফতরের নির্দেশে তাদের বদলি করা হয়।

নানা অপরাধে জড়িয়েছে বগুড়া সাইবার পুলিশ

‘আইডি কার্ড’ দিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ
 বগুড়া ব্যুরো 
০২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাইবার পুলিশ বগুড়ার (সিপিবি) কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিরীহ মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করছে। শুধু তাই নয়; অনুগত ব্যক্তিকে ‘পুলিশের আদলে পরিচয়পত্র’ দিয়ে তাদের মাধ্যমে অপরাধ করাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অতি গোপনে সাইবার ইনচার্জসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিদায়ী পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, তিনি কাউকে পুলিশের আইডি কার্ড দেননি। কেউ কার্ড তৈরি করে সাইবার ট্রেইনারদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে।

বগুড়া ও আশপাশের জেলায় সাইবার অপরাধ দমনে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সাইবার পুলিশ বগুড়ার (সিপিবি) যাত্রা শুরু। ২১ ধরনের অপরাধকে সাইবার অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চার ইন্সপেক্টরসহ ১২ সদস্যের টিম নিয়ে সিপিবি গঠিত হয়। সিপিবি ১২ সদস্যের টিম হলেও মূলত পরিচালনা করতেন সাইবার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিন ও এসআই শওকত আলম।

পরে কিছু কর্মকর্তা এটিকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও জনগণকে হয়রানির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। জাকারিয়া শিকদার ও তন্ময়সহ কয়েকজনকে সাইবার পুলিশের আইডি কার্ড দেওয়া হয়। তাদের পদবি দেওয়া হয় ‘সাইবার ক্রাইম অ্যানালিস্ট’। কার্ডে অথরিটি হিসাবে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার সই রয়েছে। পুলিশ না হয়েও এরা পুলিশের আদলে পরিচয়পত্র বহন করে।

সিপিবির সেকেন্ডম্যান খ্যাত এসআই শওকত আলম ২০১৯ সালে বগুড়া ডিবি পুলিশের এএসআই ছিলেন। বগুড়ায় ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের সদর দফতরের গোয়েন্দা ইউনিট ফোনে আড়ি পেতে এএসআই শওকত ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেনকে শনাক্ত করে। ঘুষ লেনদেনে জড়িত থাকায় সদর দফতরের নির্দেশে তাদের চট্টগ্রাম রেঞ্জের কুমিল্লায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় এনে এসআই পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাকে সাইবার পুলিশের ‘দ্বিতীয় ম্যান’ হিসাবে ক্ষমতা দেওয়া হয়।

সিপিবি ইনচার্জ এমরান মাহমুদ তুহিন ও এসআই শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে ‘পুলিশের আইডি কার্ড’ বহনকারী জাকারিয়া শিকদার, তন্ময় প্রমুখ আউটসোর্সিং, অন্যান্য অনলাইন ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে হয়রানি শুরু হয়। এরা ২৭ মে সাইবার টিম বগুড়া সদরের শিকারপুরে মাস্টার বিড়ি কারখানায় যান। সেখাবে জাল ব্যান্ডরোল থাকার দাবি করে মালিক হেলালুর রহমান হেলালকে হয়রানি করা হয়। তাকে বলা হয়, পুলিশ সুপারকে ম্যানেজ করতে পারলে মামলা হবে না। বিনিময়ে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। চাপের মুখে হেলাল ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ ও এক সপ্তাহ পরে অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়। তিনি ৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে রাতেই পুলিশ কর্মকর্তাদের দেন। অবশিষ্ট টাকার জন্য সাইবার টিম ওই ব্যবসায়ীকে চাপ দিতে থাকে। বিব্রত ব্যবসায়ী হেলাল ১৩ জুলাই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দেন। তখন সাইবার পুলিশের কর্মকর্তারা চাঁদাবাজির ওই ৯ লাখ টাকা ফেরত দেন। তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেয়ে পুলিশ সুপার ২৬ জুলাই সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনকে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত ও এসআই শওকত আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে তাদের রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে বদলি করা হয়েছে। যদিও শাস্তিপ্রাপ্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এদের শাস্তি দেওয়ার পরপরই কথিত পুলিশ সদস্যরা গাঢাকা দিয়েছেন।

এমন আরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে বগুড়ার বিদায়ী পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, জাকারিয়া শিকদার ও তন্ময় সাইবার পুলিশের ট্রেইনার; ওরা সারা দেশে ট্রেনিং দিয়ে থাকেন। তিনি তাদের আইডি কার্ড দেননি। সাইবার পুলিশের এসআই শওকত আলম ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেন ২০১৯ সালের ৪ জুলাই কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের জন্য স্ট্যান্ড রিলিজ হননি; এর কোনো ভিত্তি নেই। সদর দফতরের নির্দেশে তাদের বদলি করা হয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন