দীর্ঘসূত্রতা অক্সিজেন প্ল্যান্টে সেবা দিতে হিমশিম
jugantor
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
দীর্ঘসূত্রতা অক্সিজেন প্ল্যান্টে সেবা দিতে হিমশিম

  জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী  

০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীতে প্রতিদিন করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ধারণের ঠাঁই নেই। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের মূল সাপোর্ট অক্সিজেন সেবা নিয়ে চলছে হুলস্থুল।

অক্সিজেন সংকটে নানা কৌশলে ভর্তি নেওয়া থেকে বিরত থাকছে হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের শেষদিকে চরম জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ এ অক্সিজেন প্ল্যান্ট সেবা দিতে সক্ষম হবে, তা স্পষ্ট নয়। ভয়ংকর এ পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পটুয়াখালী স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কয়েকটি সংগঠন স্বেচ্ছায় ঘরে ঘরে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিলেও হিমশিম খাচ্ছে প্রয়োজন মেটাতে। অন্যদিকে হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে অন্তত দেড় হাজার রোগী বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৯ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়াও এক হাজার ৫৫৪ করোনা রোগী বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, অপ্রতুল জনবল নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের প্রয়োজন মেটাতে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন ডাক্তার-নার্সরা। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার লোকমান হাকিম যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। নিয়মিত ১৬ এবং সংযুক্তিতে ১৮ ডাক্তার রোটেশনে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। করোনা রোগীর প্রধান সাপোর্ট অক্সিজেন। এ হাসপাতালে ২৫০টি সিলিন্ডার আছে, যা প্রতিদিন বরিশাল থেকে রিফিল করে এনে সেবা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিগত দিনের তুলনায় এখন অক্সিজেনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় আমরা ‘মেনিপোল’ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছি।

সূত্র জানায়, করোনা রোগীর সেবায় চলতি বছরের মে মাসে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল নামীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিসেফের অর্থায়নে ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের শেষপর্যায়ে করোনা ওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোগ দেওয়া হয়। শুধু বাকি থাকে ২০ টন ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ। কিন্তু এ প্রকল্পের শেষদিকে জটিলতা দেখা দেয়। অধিক ক্ষমতার এ অক্সিজেন সিলিন্ডার ও বাকি যন্ত্রাংশ পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে আমদানির কথা রয়েছে। কিন্তু চলমান লকডাউনে ভারত থেকে এই যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাচ্ছে না। ভারতের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেরও নাকি উল্লিখিত যন্ত্রাংশের সংকট রয়েছে। তাই বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিক হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপনের কাজ করছে। একযোগে সবক’টি জেলায় কাজ করতে গিয়ে কৃত্রিম জটিলতা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই প্রকল্পে কৃত্রিম জটিলতা চলছে, এমন দাবি অনেকের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের ইঞ্জিনিয়ার সজল মেহেদী বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ লাইনের কাজ এখন শেষের দিকে। শুধু ২০ টন ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন সিলিন্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করার কাজ বাকি, যা ভারত থেকে আমদানি করা হবে। উল্লিখিত যন্ত্রাংশ কিনতে কোম্পানির সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু করোনার কারণে সেই যন্ত্রাংশ ভারত থেকে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত অক্সিজেন সেবা চালু করতে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। শিগগিরই সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন হবে।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আব্দুল মতিন বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আছে সিলিন্ডারসহ কিছু যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ। আশা করি শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এ অবস্থায় অক্সিজেন সংকট মেটাতে ছোট আকারের সিলিন্ডার সংযুক্ত করে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপলাইনের মাধ্যমে করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দীর্ঘসূত্রতা অক্সিজেন প্ল্যান্টে সেবা দিতে হিমশিম

 জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী 
০৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীতে প্রতিদিন করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ধারণের ঠাঁই নেই। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের মূল সাপোর্ট অক্সিজেন সেবা নিয়ে চলছে হুলস্থুল।

অক্সিজেন সংকটে নানা কৌশলে ভর্তি নেওয়া থেকে বিরত থাকছে হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের শেষদিকে চরম জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ এ অক্সিজেন প্ল্যান্ট সেবা দিতে সক্ষম হবে, তা স্পষ্ট নয়। ভয়ংকর এ পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পটুয়াখালী স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কয়েকটি সংগঠন স্বেচ্ছায় ঘরে ঘরে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিলেও হিমশিম খাচ্ছে প্রয়োজন মেটাতে। অন্যদিকে হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে অন্তত দেড় হাজার রোগী বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৯ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়াও এক হাজার ৫৫৪ করোনা রোগী বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, অপ্রতুল জনবল নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের প্রয়োজন মেটাতে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন ডাক্তার-নার্সরা। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার লোকমান হাকিম যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। নিয়মিত ১৬ এবং সংযুক্তিতে ১৮ ডাক্তার রোটেশনে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন। করোনা রোগীর প্রধান সাপোর্ট অক্সিজেন। এ হাসপাতালে ২৫০টি সিলিন্ডার আছে, যা প্রতিদিন বরিশাল থেকে রিফিল করে এনে সেবা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিগত দিনের তুলনায় এখন অক্সিজেনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় আমরা ‘মেনিপোল’ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছি।

সূত্র জানায়, করোনা রোগীর সেবায় চলতি বছরের মে মাসে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল নামীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিসেফের অর্থায়নে ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের শেষপর্যায়ে করোনা ওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোগ দেওয়া হয়। শুধু বাকি থাকে ২০ টন ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ। কিন্তু এ প্রকল্পের শেষদিকে জটিলতা দেখা দেয়। অধিক ক্ষমতার এ অক্সিজেন সিলিন্ডার ও বাকি যন্ত্রাংশ পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে আমদানির কথা রয়েছে। কিন্তু চলমান লকডাউনে ভারত থেকে এই যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাচ্ছে না। ভারতের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেরও নাকি উল্লিখিত যন্ত্রাংশের সংকট রয়েছে। তাই বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিক হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপনের কাজ করছে। একযোগে সবক’টি জেলায় কাজ করতে গিয়ে কৃত্রিম জটিলতা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই প্রকল্পে কৃত্রিম জটিলতা চলছে, এমন দাবি অনেকের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের ইঞ্জিনিয়ার সজল মেহেদী বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ লাইনের কাজ এখন শেষের দিকে। শুধু ২০ টন ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন সিলিন্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করার কাজ বাকি, যা ভারত থেকে আমদানি করা হবে। উল্লিখিত যন্ত্রাংশ কিনতে কোম্পানির সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু করোনার কারণে সেই যন্ত্রাংশ ভারত থেকে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত অক্সিজেন সেবা চালু করতে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। শিগগিরই সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন হবে।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আব্দুল মতিন বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আছে সিলিন্ডারসহ কিছু যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ। আশা করি শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এ অবস্থায় অক্সিজেন সংকট মেটাতে ছোট আকারের সিলিন্ডার সংযুক্ত করে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপলাইনের মাধ্যমে করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন