শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনলে রাজস্ব বাড়বে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনলে রাজস্ব বাড়বে

তামাকের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি টাকা।

এ তথ্য তুলে ধরে আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর চার ধরনের শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যৌথভাবে প্রজ্ঞাসহ তামাকবিরোধী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কেমন তামাক কর চাই’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- সিগারেটের স্তর থাকবে দুটি। একটি নিম্ন স্তর, এর মূল্য হবে (১০টি সিগারেট) সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং অপরটি উচ্চস্তর, মূল্য সর্বনিম্ন ১০০ টাকা। সম্পূরক শুল্ক হবে নিম্নস্তর সিগারেটের প্যাকেটের ওপর ৬০ শতাংশ এবং উচ্চস্তরে ৬৫ শতাংশ। এছাড়া প্রতিটি প্যাকেটে সুনির্দিষ্ট কর হবে ৫ টাকা।

বিড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ফিল্টার ও নন ফিল্টার শ্রেণী বাতিল করতে হবে। এক্ষেত্রে ২৫টি বিড়ির একটি প্যাকেটের মূল্য সর্বনিম্ন ৩০ টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ ও ৬ টাকা হবে সুনির্দিষ্ট কর।

জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এক্স-ফ্যাক্টরি প্রাইস পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। ধোঁয়াবিহীন এসব জর্দা ও গুলের একটি প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য হবে ৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি প্যাকেটের মূল্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ, সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে ১০ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সরকার বিড়ির ওপর ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিল করে খুচরা মূল্য পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে অর্থবছর শেষে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আসবে এ খাত থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, তামাকজাত পণ্যের খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এসব পণ্যের অতিরিক্ত করারোপ করতে হলে সেটা জাতীয় সংসদে পাস করতে হয়। অনেক সময় এসব প্রস্তাব পাস হয় না।

তাই চাইলেও এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত হারে কর বাড়াতে পারে না এনবিআর। তিনি বলেন, সরকারিভাবে অনেক সচিব একটি বড় তামাক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত। কারণ সরকারের শেয়ার থাকায় অনেকেই সেখানে পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত থাকেন।

তাই এদিক থেকে তামাকে কর বাড়ানো বিষয়টিতে বাধা আসে। তিনি আরও বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য থেকে এনবিআর প্রতি অর্থবছরে ২০ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করে, যা এনবিআরের মোট রাজস্বের ১০ শতাংশ। এছাড়া এ কোম্পানিগুলো কর্পোরেট ট্যাক্সও দেয়।

বাংলাদেশে এখনও করের পরিধি সেভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তাই রাজস্ব আয়ের জন্য তামাক কোম্পানিগুলোকে প্রাধান্য দেয় এনবিআর।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিকের সভাপতিত্বে সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তামাকবিরোধী সংগঠন আত্মার সহ-আহ্বায়ক ও এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার নাদিরা কিরণ।

উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, হাসান শাহরিয়ার, সিটিএফকের বাংলাদেশের গ্রান্টস ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.