বিএসইসির সভায় অনুমোদন

ডিএসইর শেয়ার পেল চীন

১৪ মে চীনের সঙ্গে চুক্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার পেল চীন। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় বৃহস্পতিবার দেশটির কাছে শেয়ার বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে ডিএসইর শেয়ার ভারত না চীন পাবে, এ সংক্রান্ত ৫ মাসের বিতর্কের অবসান ঘটল। এর আগে গত সোমবার বিশেষ সাধারণ সভায় ডিএসইর সদস্যরা চীনের পক্ষে সর্বসম্মতি দিয়েছিলেন।

জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিএসইসি থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগিরই চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হবে। প্রাথমিকভাবে চুক্তির জন্য ১৪ মে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তিনি দেশে এলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএসইসির অনুমোদনে বলা হয়, চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ডিএসইর মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার বিক্রির চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২১ টাকা। তিনটি শর্তে এ চুক্তি হবে। এ ক্ষেত্রে চুক্তির কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও ২০১৩ সালের ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইনের শর্ত অনুসারে হতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া চুক্তির কোনো শর্ত পরিবর্তন করা যাবে না। জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ইতিবাচক। আর ইতিবাচক বিষয়টি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে দেশের গণমাধ্যম।

প্রসঙ্গত, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদাকরণ) শর্ত অনুসারে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি বাধ্যতামূলক। এ কারণে শেয়ার বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করে ডিএসই। এরপর চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে দুই কনসোর্টিয়াম আলাদাভাবে দরপত্রে অংশ নেয়। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রতিষ্ঠান ডিএসইর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দরপ্রস্তাব করেছে ২২ টাকা (লভ্যাংশ সমন্বয়ের পর ২১ টাকা)। এতে ৪৫ কোটি শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৯৯০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি সহায়তার জন্য আরও ৩০৭ কোটি টাকা দেবে চীন। ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানের অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করেছে ১৫ টাকা। এতে শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৬৭৫ কোটি টাকা। ফলে কারিগরি সহায়তাসহ চীনের সঙ্গে ভারতের মূল্যের পার্থক্য দাঁড়ায় ৬২৫ কোটি টাকা। তবে প্রভাবশালী একটি অংশ ভারতের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে চাপ দিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ভারতকে শেয়ার দেয়ার ব্যাপারে কমিশনের দুই একজন সদস্যের অতি উৎসাহী তৎপরতা ছিল চোখের পড়ার মতো।

এ নিয়ে অনেক ঘটনার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয়া হয়। আর এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি বিএসইসিতে পাঠানো হয়। ওই দিনই ডিএসইর প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে কমিশন। এরপর ১৯ মার্চ ডিএসইর দেয়া চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার প্রস্তাবের ব্যাপারে কিছু ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ ছাড়াও সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পর বিএসইসির শর্তের অনুসারে ইজিএম করে সাধারণ সদস্যদের সম্মতির সিদ্ধান্ত নিল ডিএসই। সিদ্ধান্তের লিখিত কপি পাওয়ার দু’দিনের মধ্যেই অনুমোদন দিল বিএসইসি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.