ওরা নিজের আলোয় আলোকিত
jugantor
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ
ওরা নিজের আলোয় আলোকিত

  তানজিমুল হক, রাজশাহী  

০৯ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আদিবাসী দিবস

সারা দেশে আদিবাসী সম্প্রদায় এখনও অনেক পিছিয়ে। রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তবতাও একই। এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য আদিবাসী পরিবার নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতাও। অনেকেই হারিয়েছেন নিজের জমি। রয়েছে চরম আর্থিক দৈন্য। এরপরেও সব প্রতিবন্ধকতা আর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কিছুসংখ্যক আদিবাসী নারী-পুরুষ হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত। জীবনের প্রতি পদে যুদ্ধ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। নিজের আলোয় হয়েছেন আলোকিত।

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘের আদিবাসীসংক্রান্ত কার্যসম্পাদনকারী একটি দলের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৮২ সাল থেকে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়; আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকারের আহ্বান’। দিবসটি উপলক্ষ্যে কয়েকজন আদিবাসী নারী-পুরুষের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরা হলো-

হেমন্ত চন্দ্র মাহাতো (৩০)। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আদিবাসী সিংরইল গ্রামের বাসিন্দা। বাবা কৃষক সচিন্দ্রনাথ মাহাতো। আর মা গৃহিণী রাজু বালা মাহাতো। ছোটবেলা থেকেই নানা সংগ্রাম আর কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। হেমন্ত মাহাতো তার জীবনসংগ্রামের ব্যাপারে বলেন, আমাদের গ্রামে কোনো প্রাইমারি স্কুল ছিল না। হেঁটে দুটি মাঠ পেরিয়ে চার মাইল দূরে সগুনাথ পায়তালি প্রাইমারি স্কুলে যেতাম। এরপর ছয় মাইল দূরে হেঁটে নাচোল নিজামপুর হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করি। সেখান থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি পাশ করেছি। একইভাবে কষ্ট করে নাচোল কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করেছি। এ সময় আমার বাবার একটি সাইকেল কিনে দেয়ার মতো অর্থও ছিল না।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন হেমন্ত মাহাতো। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালান। এ সময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হেমন্ত বলেন, আমার বড় ভাই ব্রজেন চন্দ্র মাহাতোও একইভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া করেছেন। তিনি বর্তমানে বগুড়ায় পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এসআই) পদে রয়েছেন। এদিকে হেমন্ত মাহাতো বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংকের নাচোল শাখায় অফিসার (জেনারেল) পদে চাকরি করছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মহিলা কলেজের প্রভাষক সুনীল মাঝি (৪৬)। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে তানোরের ময়েনপুর গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। বাবা সরল কুমার মাঝি কৃষক এবং মা পারুল রানী মাঝি গৃহিণী। নিজ গ্রামে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেছেন। এরপর হেঁটে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মুণ্ডুমালা হাই স্কুল থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি পাশ করেন। তানোর কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯২-৯৩ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ২০০৬ সালে মুণ্ডুমালা কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

সুনীল মাঝি বলেন, আমি সৌভাগ্যবান। ছোটবেলা থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। এ কারণে হয়তো পড়াশোনা করতে পেরেছি। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা অনেক কঠিন। তবে আমার এ সফলতার পেছেনে বাঙালি বন্ধুদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। শিউলী রানী মার্ডি (২৮) রাজশাহী মহানগরীর আদিবাসী অধ্যুষিত বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বাবা নরেশ মার্ড রাজশাহী সিটি করপোরেশনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। মা গৃহিণী শেফালি হেমব্রম। শিউলী তার জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমি রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করছি। বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। আমরা চার ভাইবোন। শুধু বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা অসুস্থ থাকায় বর্তমানে সংসারের সব ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব আমার। শিউলী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি। রাজশাহী মহানগরীর পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলায় মাঠে ধানের চারা রোপণ করেছি। দিনমজুরের কাজ করে পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনা করতে গিয়ে কারও সহযোগিতা পাইনি। নিজের চেষ্টায় ডিগ্রি পাশ করেছি। মাস্টার্স শেষ করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রে মাস্টাররোলে চাকরি করছি। রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকায় বসবাস করেন দুই ভাইবোন সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম (৩৪) এবং সাবিত্রী হেমব্রম (২৯)। তাদের বাবা সূর্য হেমব্রম অবসরপ্রাপ্ত জেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং মা সুমিলা টুডু গৃহিণী। সুভাষ ২০১৪ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে আইন পেশায় যোগদানের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। সুভাষ বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায় এখনও অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। তারা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি বর্তমানে আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আদিবাসীদের মধ্যে যারা নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তারা পিছিয়ে পড়া অবহেলিত এ সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবেন এটিই আমার প্রত্যাশা। সুভাষের ছোট বোন সাবিত্রী হেমব্রম সম্প্রতি রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনিও আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষার জন্য আমি রাহালা রিমিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছি। আমি চাই আদিবাসীদের স্বকীয়তা, তাদের সংস্কৃতি যেন সংরক্ষিত থাকে। করোনাকালে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কাজ করে প্রশংসা পেয়েছেন সাবিত্রী।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ

ওরা নিজের আলোয় আলোকিত

 তানজিমুল হক, রাজশাহী 
০৯ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আদিবাসী দিবস
ফাইল ছবি

সারা দেশে আদিবাসী সম্প্রদায় এখনও অনেক পিছিয়ে। রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তবতাও একই। এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য আদিবাসী পরিবার নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতাও। অনেকেই হারিয়েছেন নিজের জমি। রয়েছে চরম আর্থিক দৈন্য। এরপরেও সব প্রতিবন্ধকতা আর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কিছুসংখ্যক আদিবাসী নারী-পুরুষ হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত। জীবনের প্রতি পদে যুদ্ধ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। নিজের আলোয় হয়েছেন আলোকিত।

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘের আদিবাসীসংক্রান্ত কার্যসম্পাদনকারী একটি দলের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৮২ সাল থেকে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়; আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকারের আহ্বান’। দিবসটি উপলক্ষ্যে কয়েকজন আদিবাসী নারী-পুরুষের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরা হলো-

হেমন্ত চন্দ্র মাহাতো (৩০)। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আদিবাসী সিংরইল গ্রামের বাসিন্দা। বাবা কৃষক সচিন্দ্রনাথ মাহাতো। আর মা গৃহিণী রাজু বালা মাহাতো। ছোটবেলা থেকেই নানা সংগ্রাম আর কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। হেমন্ত মাহাতো তার জীবনসংগ্রামের ব্যাপারে বলেন, আমাদের গ্রামে কোনো প্রাইমারি স্কুল ছিল না। হেঁটে দুটি মাঠ পেরিয়ে চার মাইল দূরে সগুনাথ পায়তালি প্রাইমারি স্কুলে যেতাম। এরপর ছয় মাইল দূরে হেঁটে নাচোল নিজামপুর হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করি। সেখান থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি পাশ করেছি। একইভাবে কষ্ট করে নাচোল কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করেছি। এ সময় আমার বাবার একটি সাইকেল কিনে দেয়ার মতো অর্থও ছিল না।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন হেমন্ত মাহাতো। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালান। এ সময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হেমন্ত বলেন, আমার বড় ভাই ব্রজেন চন্দ্র মাহাতোও একইভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া করেছেন। তিনি বর্তমানে বগুড়ায় পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এসআই) পদে রয়েছেন। এদিকে হেমন্ত মাহাতো বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংকের নাচোল শাখায় অফিসার (জেনারেল) পদে চাকরি করছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মহিলা কলেজের প্রভাষক সুনীল মাঝি (৪৬)। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে তানোরের ময়েনপুর গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। বাবা সরল কুমার মাঝি কৃষক এবং মা পারুল রানী মাঝি গৃহিণী। নিজ গ্রামে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেছেন। এরপর হেঁটে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মুণ্ডুমালা হাই স্কুল থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি পাশ করেন। তানোর কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯২-৯৩ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ২০০৬ সালে মুণ্ডুমালা কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

সুনীল মাঝি বলেন, আমি সৌভাগ্যবান। ছোটবেলা থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। এ কারণে হয়তো পড়াশোনা করতে পেরেছি। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা অনেক কঠিন। তবে আমার এ সফলতার পেছেনে বাঙালি বন্ধুদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। শিউলী রানী মার্ডি (২৮) রাজশাহী মহানগরীর আদিবাসী অধ্যুষিত বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বাবা নরেশ মার্ড রাজশাহী সিটি করপোরেশনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। মা গৃহিণী শেফালি হেমব্রম। শিউলী তার জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমি রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করছি। বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। আমরা চার ভাইবোন। শুধু বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা অসুস্থ থাকায় বর্তমানে সংসারের সব ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব আমার। শিউলী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি। রাজশাহী মহানগরীর পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলায় মাঠে ধানের চারা রোপণ করেছি। দিনমজুরের কাজ করে পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনা করতে গিয়ে কারও সহযোগিতা পাইনি। নিজের চেষ্টায় ডিগ্রি পাশ করেছি। মাস্টার্স শেষ করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রে মাস্টাররোলে চাকরি করছি। রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকায় বসবাস করেন দুই ভাইবোন সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম (৩৪) এবং সাবিত্রী হেমব্রম (২৯)। তাদের বাবা সূর্য হেমব্রম অবসরপ্রাপ্ত জেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং মা সুমিলা টুডু গৃহিণী। সুভাষ ২০১৪ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে আইন পেশায় যোগদানের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। সুভাষ বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায় এখনও অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। তারা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি বর্তমানে আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আদিবাসীদের মধ্যে যারা নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তারা পিছিয়ে পড়া অবহেলিত এ সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবেন এটিই আমার প্রত্যাশা। সুভাষের ছোট বোন সাবিত্রী হেমব্রম সম্প্রতি রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনিও আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষার জন্য আমি রাহালা রিমিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছি। আমি চাই আদিবাসীদের স্বকীয়তা, তাদের সংস্কৃতি যেন সংরক্ষিত থাকে। করোনাকালে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কাজ করে প্রশংসা পেয়েছেন সাবিত্রী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন