চট্টগ্রামে বেডরুম ও প্রাইভেট কারে তল্লাশি

মিয়ানমার থেকে আনা ৪৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

দুই ভাই গ্রেফতার আশরাফ নিজেই মিয়ানমার থেকে এনেছিল চালানটি * কোস্টগার্ডের চোখ ফাঁকি দিতে কৌশলে পানির নিচ দিয়ে আনা হয়

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার থেকে আনা ৪৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

চট্টগ্রামে এবার বেডরুম ও প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৩ লাখ পিস ইয়াবা।

এ ট্যাবলেটগুলো অভিনব কৌশলে প্যাকেটজাত করে তা ফিশিংবোটের নিচে দড়ি দিয়ে বেঁধে মিয়ানমার থেকে সাগর পথে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হয়েছিল।

শুক্রবার ভোরে নগরীর হালিশহর থানার শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিকের জেডএস এঞ্জেল বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলার ‘ফোর-বি’ ফ্ল্যাট থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে আশরাফ আলী (৪৭) ও মো. হাসান (২২) নামে দুই ভাইকে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় জব্দ করা হয় প্রাইভেট কারটিও। গ্রেফতারকৃতরা বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গিলাতলী এলাকার মৃত তৈয়বের ছেলে।

শুক্রবার দুপুরে সিএমপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (ডিবি) আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হালিশহরের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।

এ সময় গ্রেফতার দুই আসামির বেডরুম থেকে দুই বস্তায় ৩০টি প্যাকেটের মধ্যে ৩ লাখ পিস ইয়াবা এবং বাসার নিচে পার্কিংয়ে থাকা আসামিদের প্রাইভেট কার চট্ট-মেট্রো-গ-১১-৫৯২৪-এ ৫টি বস্তায় ১০০ প্যাকেটের মধ্যে ১০ লাখ পিস ইয়াবাসহ মোট ১৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার ওজন ১৩০ কেজি- যার মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার আশরাফ আলী ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ছিল। ওখানে থাকাকালীন মিয়ানমার নাগরিক আবদুর রহিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আবদুর রহিম পরে আশরাফ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের অপর নাগরিক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী লা-মিমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

গত বছরের ৭ অক্টোবর আশরাফ আলী সৌদি আরব থেকে দেশে আসে। আবদুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেশ কয়েকবার সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল। ৭ এপ্রিল বিমানযোগে আশরাফ আলী ঢাকা থেকে মিয়ানমারের রেঙ্গুন যায়।

সেখানে আবদুর রহিমসহ রেঙ্গুনের হোটেল এলিমিউনে অবস্থান করে। পরে লা-মিমের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ৩০ এপ্রিল রেঙ্গুন থেকে একটি ট্রলার ও স্পিডবোটে ইয়াবাগুলো নিয়ে রওনা দেয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে ট্রলার থেকে ইয়াবাগুলো স্পিডবোটে স্থানান্তর করে আশরাফ আলী নিজেই এটি চালিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

কুতুবদিয়া চ্যানেলে ঝড়ের কবলে পড়ে স্পিডবোট উল্টে গেলে স্থানীয় মাছ ধরা ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেটের বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। এরপর একটি মাছ ধরার ট্রলার ভাড়া করে এগুলো নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পরে মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ইয়াবাগুলো ২ মে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়াড়ি জেলেপাড়া ঘাটে এসব ইয়াবা খালাস করে। নগর পুলিশের পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, কোস্টগার্ডের চোখ এড়াতে আশরাফ বিশেষ কৌশলে পানির নিচ দিয়ে ইয়াবার চালান দেশে আনত।

ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেট প্রথমে কার্টনে ভরা হয়। তারপর ৭-৮ স্তরের বায়ুনিরোধক রেপিং দিয়ে মোড়ানো হয়। প্রতিটি কার্টনকে প্রায় ৪০টির মতো পলিথিনে মুড়িয়ে সেগুলো রশিতে বেঁধে ট্রলার থেকে ফেলা হয় পানিতে। পানির নিচ দিয়েই সেগুলো আনা হয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.