রাবি ছাত্রলীগের তিন নেতার দখলে আম ও লিচু বাগান

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, অসন্তোষ

  রাজশাহী ব্যুরো ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাবি ছাত্রলীগের তিন নেতার দখলে আম ও লিচু বাগান

টেন্ডার ছাড়াই ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তিন নেতার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের আম ও লিচু বাগান দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসের ৭টি বাগানের মধ্যে ৩টিই তাদের দখলে রয়েছে।

এ তিন নেতা হলেন- রাবি ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফ করিম রুপম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুষ্ময়। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, রাবির আম ও লিচুর ৭টি বাগানের মধ্যে টেন্ডার হয়েছে ৪টির। আর বাকি ৩টির এখনও টেন্ডার হয়নি। ফাহিম আর রুহুল আমিন নামের দুই ঠিকাদার বিনোদপুর গেট, প্রশাসন ভবনের পেছনে, পশ্চিমপাড়া এবং গোরস্থানের পাশের আম ও লিচুর এ চারটি বাগানের টেন্ডার পেয়েছেন।

মমতাজ উদ্দিন এবং শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনের দুটি আর রাকসু ভবনের সামনের একটি বাগানের টেন্ডার ওপেন হলেও তা এখনও ডাক হয়নি। আর এ বাগানগুলো ছাত্রলীগের ওই তিন নেতার দখলে রয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাদের এ অবৈধ দখলদারিত্বে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের আম ও লিচু পাড়ার কারণে ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষার্থীদের মারধর, গালিগালাজ ও নানাভাবে লাঞ্ছিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৮ এপ্রিল দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে লিচু পাড়ার অভিযোগে মারধর করা হয়। ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় রাকসু ভবনের সামনের একটি গাছ থেকে ৩টি লিচু ছিঁড়েন এক শিক্ষার্থী। এ কারণে ৩টি লিচুর মূল্যস্বরূপ ২৪ টাকা আদায় করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

এদিকে একই দিন লিচু গাছের ওপর পেতে রাখা জালে আটকা পড়ে মারা যায় কিছু বসন্ত বাউরি পাখি। আর কিছু পাখি জালের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহীর কর্মীরা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে বুলবুলি, চড়–ইসহ বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

আবদুল্লাহ আল মাসুদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু, ইবলিশ চত্বর, শহীদুল্লাহ ও মমতাজ ভবনের সামনের বাগানগুলোতে লিচু বা আম পাড়তে দেখলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিচ্ছেন। দেখাচ্ছেন ভয়ভীতি।

কিন্তু গাছগুলো সত্যিকার অর্থে লিজ দেয়া হয়েছে কিনা তা আমরা জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি লিজের বিষয়টি শিক্ষর্থীদের কাছে স্পষ্ট করত বা শিক্ষর্থীরা আম ও লিচু খেতে পারবে কিনা- আর কারা এ বাগানগুলো লিজ নিয়েছে তা জানালে ছাত্রলীগের হাতে আমাদের লাঞ্ছিত হতে হতো না।

এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলের গাছ তো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই। কেউ ঢিল মেরে একটা আম পেড়ে খাওয়াও তো তারুণ্যের দৃষ্টান্ত। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ফলের গাছের দিকে তাকাতেও পারছে না। আমাদের ক্যাম্পাসের গাছ যেহেতু টেন্ডার হয়নি সেহেতু কেউই লিচু পাড়তে বাধা দেয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোনো ছাত্রনেতা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাধা দেয়, সেটি অবশ্যই অনৈতিক কাজ।

এদিকে রাজশাহীর দুর্গাপুর এলাকার সুলতান এবং নগরীর তালাইমারির আশরাফ নামে দুই ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানগুলো পাহারা দিতে দেখা গেছে।

সুলতান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার আমাকে এই বাগান দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি বাগানগুলো পাহারা দিচ্ছি। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন, আমার এক বড় ভাই এ বাগানগুলো টেন্ডার নিয়েছেন। তিনি আমাকে বাগানগুলো দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুষ্ময় জানান, সারোয়ার ও রাসেল নামের ক্যাম্পাসের দুই বড় ভাই এ বাগান টেন্ডার নিয়েছেন। সেই সূত্রে আমি দেখাশোনা করছি। এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগ

সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমার জানা মতে সারোয়ার বা সুষ্ময়ের কোনো এক বড় ভাই বাগান টেন্ডার নিয়েছে। ক্যাম্পাসের কোনো ছাত্রলীগ নেতা আম-লিচু বাগান টেন্ডার নেয়নি।’

ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আম-লিচু বাগান টেন্ডারের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আর ছাত্রলীগের নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের লিচু পাড়তে বাধা দিয়েছে বলেও আমার জানা নেই। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.