পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনই চলবে ট্রেন

রেলপথ তৈরির কাজ শুরু দু-এক দিনের মধ্যেই * আজ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

  শিপন হাবীব ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনই চলবে ট্রেন

স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হওয়ার দিন থেকে সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্রতিশ্রুতি যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

এমনটি জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন ও প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে রেলপথ স্থাপনের (পদ্মা রেললিংক লাইন সেতু প্রকল্প) কাজ। এ নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেখানেই দেয়া হবে কাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

২৮ এপ্রিল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ‘পদ্মা রেললিংক লাইন সেতু প্রকল্প’র অর্থায়নে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগেই শেষ হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে অর্থাৎ এখন রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু হলেও মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই তা শেষ করা সম্ভব।

২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে রেল খাতে চীন সরকারের বিনিয়োগের বিষয়টি দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকে সেতু দিয়ে রেল যোগাযোগ চালুর নির্দেশনা দেন।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন তিনি। এর প্রায় ৩ বছর ৪ মাস পর ‘পদ্মা রেললিংক লাইন সেতু প্রকল্প’র কাজ শুরু হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী শনিবার যুগান্তরকে জানান, চীনের সঙ্গে এ প্রকল্পের ঋণচুক্তি হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। তিনি বলেন, নির্মীয়মান পদ্মা সেতুর অবকাঠামোর মধ্যেই রেলপথ বসানোর স্থান থাকছে।

সেতুটির উপর দিয়ে সড়কযান ও নিচ দিয়ে ট্রেন চলবে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ তৈরি করা হবে। প্রস্তুত রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বের আধুনিক সব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে এ প্রকল্পে। জায়গা অধিগ্রহণের কাজ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে। কাজেই রেল লাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপনের কাজ শুরু হলে বেশি সময় লাগবে না। দেরি পুষিয়ে যাবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের সামনে আর কোনো বাধা নেই। ঋণচুক্তি হয়েছে। এখন দ্রুতই কাজ শুরু করব। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো রেলওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এ প্রকল্পে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেলওয়ে মহাপরিচালক।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন শনিবার যুগান্তরকে জানান, আমরা দু-এক দিনের মধ্যেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু রেললিংক লাইন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করব। এমন একটি আনন্দের সংবাদ দেশবাসীকে জানাতে কাল (আজ) রেলভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে ওই সেতু দিয়ে ট্রেনও চলবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে এ প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সবক’টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আসবে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে চড়ার স্বপ্নও যথাসময়ে বাস্তবে রূপ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী একই দিন পদ্মা সেতু দিয়ে রেল যোগাযোগ চালু করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুধু দূরত্ব নয়, সময়ও বাঁচবে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ অবদান রাখবে এ সেতু। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ স্থাপনেও ভূমিকা রাখবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ঋণচুক্তি হচ্ছে এ প্রকল্পে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার ঋণ হিসেবে দিচ্ছে প্রকল্প ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার ৭৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্র“প লিমিটেডের (ইআরইসি) জনবল ইতিমধ্যে পুরোপরি প্রস্তুত। শুরুতে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

পদ্মা সেতু রেলসংযোগ লাইনটি ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে শুরু হয়ে গেণ্ডারিয়া-মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা জংশন স্টেশন পর্যন্ত যাবে।

২য় পর্যায়ে ভাঙ্গা জংশন থেকে বিদ্যমান কাশিয়ানি জংশন স্টেশন হয়ে পদ্মবিলা জংশন হয়ে ওয়াই কানেকশনের মাধ্যমে বিদ্যমান রূপদিয়া এবং সিঙ্গিয়া স্টেশনে যুক্ত হবে।

ঢাকা-গেন্ডারিয়া সেকশনে ৩ কিলোমিটার ডাবল লাইনসহ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার নতুন মেইন লাইন নির্মাণ করা হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.