বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণের বিচার শেষ হয়নি ১ বছরেও

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণের বিচার শেষ হয়নি ১ বছরেও

রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের এক বছর পার হলেও মামলার বিচার কাজ আজও শেষ হয়নি। বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন বাদীপক্ষ।

গত বছরের ১৩ জুলাই আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে ইতিমধ্যেই দুই আসামি জামিন পেয়েছেন।

মামলার মোট ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ মে এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকাজ চলছে।

তবে সম্প্রতি সরকারের গেজেট অনুসারে অধিক্ষেত্র পরিবর্তন হওয়ায় আগামীতে মামলাটি ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাদীসহ হোটেলের কর্মচারীদের সাক্ষ্য হয়েছে।

হোটেলের কর্মচারীরা আদালতে বলেছেন যে, তারা (দুই ছাত্রী ও পাঁচ আসামি) হোটেলের গেস্ট ছিলেন। এছাড়া মামলার আসামিরাও আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিচারের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর একজন সাক্ষ্য দিয়েছে। অপর ভিকটিমের পরীক্ষা চলছে। সেও সাক্ষ্য দেবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সরকার গেজেট প্রকাশ করে রাজধানীর থানাগুলোর অধিক্ষেত্রে পরিবর্তন করেছে। সে অনুসারে এ মামলাটির বিচার কার্যক্রম আগামীতে ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলবে। তবে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত বছরের ১৩ জুলাই আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত। এর আগে তদন্ত শেষে ওই বছরের ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে ৪৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়, ধর্ষণের পর সাফাত আহমেদের নির্দেশে ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন বাদীকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ানোর জন্য দোকান থেকে তা সংগ্রহ করেন। বাদী খেতে না চাইলে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ সাথীর বন্ধু শাহরিয়ারকে ‘আইপিল’ খাওয়াতে বলে মারধর করেন।

মারধরের ঘটনা ড্রাইভার বিল্লাল মোবাইলে ধারণ করে। পরে তা ডিলেট করা হয়। ডিজিটাল ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে তিনটি ডিলিট করা ভিডিও ক্লিপ ফাইল উদ্ধার করা হয়। আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিমের সঙ্গে ওই দুই তরুণীর ধর্ষণের ঘটনার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ধর্ষিতা এক তরুণীর (বাদী) পূর্ব পরিচিতি বন্ধু ও অপর আসামি সাদমান সাকিফের মাধ্যমে গুলশানের পিকাসো হেটেলে পরিচয় হয়।

পরিচয় হওয়ার পর থেকে ধর্ষিতা সাথীর সঙ্গে আসামি সাফাত আহমেদের টেলিফোনে অনেক দিন কথা হয়। একপর্যায়ে সাফাত আহমেদ গত বছরের ২৮ মার্চ জন্মদিনের কথা বলে বাদীকে তার বান্ধবীসহ অন্য বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিনের পার্টিতে রেইন ট্রি হোটেলে দাওয়াত দেন।

ঘটনার দিন সাফাত আহমেদ তার গাড়ির ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন ও গানম্যান রহমত আলীকে পাঠিয়ে দিয়ে বাদী ও তার অপর বান্ধবীকে নিকেতনের বাসা থেকে রাত ৯টার দিকে সাফাত আহমেদের গাড়ি দিয়ে ওই হোটেলে নিয়ে আসে এবং রুমে পৌঁছে দেয়।

এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। ঘটনার ৪০ দিন পর ওই দুই ছাত্রী গত বছরের ৬ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে শুধু দেহরক্ষী রহমত আলী ছাড়া বাকি সবাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ ছাড়াও তার দুই বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম ও সাদমান সাকিফ কারাগারে রয়েছেন। আর সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী জামিনে আছেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.