আবুল মনসুর আহমদের ১২৩তম জন্মদিন আজ
jugantor
আবুল মনসুর আহমদের ১২৩তম জন্মদিন আজ

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ১২৩তম জন্ম দিন। তার জন্ম ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানাধীন ধানীখোলা গ্রামে। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ ঢাকায় মারা যান আবুল মনসুর আহমেদ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রুপাত্মক রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক। অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘ইত্তেহাদ’ ‘কৃষক’ ও ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক। সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৭ সালে

তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্র বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। পূর্ববাংলার স্বার্থের সপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

রচনা সম্ভারের মধ্যে ‘আয়না’, ‘আসমানী পর্দা’, ‘গালিভারের সফরনামা’, ‘ফুড কনফারেন্স ও বাংলাদেশের কালচার’। আÍজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আত্মকথা’ ও ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ উল্লেখযোগ্য। আবুল মনসুর আহমদ চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকজুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে যে অবিরাম প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তা তুলনাহীন। পাকিস্তানের প্রথমদিকে বিরোধী দলীয় আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা।

চল্লিশের দশকে প্রথম থেকেই ভাষা বিষয়ে লিখে আসছিলেন এবং ‘ইত্তেহাদ’ সম্পাদক হিসাবে ভাষা আন্দোলনে গভীর অবদান রাখেন। আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের (শেরেবাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মহাসমন্বয়) মেনিফেস্টো ‘একুশ দফা’র রচয়িতা, যে নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়।

২১ দফা ছিল তদানীন্তন পাকিস্তানের পূর্বাংশের বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দাবির প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন। রাজনৈতিক কার্যকারণে তাকে পঞ্চাশ দশকের শেষদিকে ও ষাটের দশকের প্রথমদিকে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

জন্ম দিন উপলক্ষ্যে ‘আবুল মনসুর আহমদের চিন্তার নিজস্বতা’ শীর্ষক আলোচনা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাত ৮টায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন কবি ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা। বিশেষ আলোচক হিসাবে থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল হাসান, সাংবাদিক ও গবেষক কাজল রশীদ শাহীন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক কুদরত-ই-হুদা। সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।

আবুল মনসুর আহমদের ১২৩তম জন্মদিন আজ

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ১২৩তম জন্ম দিন। তার জন্ম ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানাধীন ধানীখোলা গ্রামে। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ ঢাকায় মারা যান আবুল মনসুর আহমেদ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রুপাত্মক রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক। অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘ইত্তেহাদ’ ‘কৃষক’ ও ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক। সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৭ সালে

তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্র বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। পূর্ববাংলার স্বার্থের সপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

রচনা সম্ভারের মধ্যে ‘আয়না’, ‘আসমানী পর্দা’, ‘গালিভারের সফরনামা’, ‘ফুড কনফারেন্স ও বাংলাদেশের কালচার’। আÍজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আত্মকথা’ ও ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ উল্লেখযোগ্য। আবুল মনসুর আহমদ চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকজুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে যে অবিরাম প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তা তুলনাহীন। পাকিস্তানের প্রথমদিকে বিরোধী দলীয় আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা।

চল্লিশের দশকে প্রথম থেকেই ভাষা বিষয়ে লিখে আসছিলেন এবং ‘ইত্তেহাদ’ সম্পাদক হিসাবে ভাষা আন্দোলনে গভীর অবদান রাখেন। আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের (শেরেবাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মহাসমন্বয়) মেনিফেস্টো ‘একুশ দফা’র রচয়িতা, যে নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়।

২১ দফা ছিল তদানীন্তন পাকিস্তানের পূর্বাংশের বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দাবির প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন। রাজনৈতিক কার্যকারণে তাকে পঞ্চাশ দশকের শেষদিকে ও ষাটের দশকের প্রথমদিকে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

জন্ম দিন উপলক্ষ্যে ‘আবুল মনসুর আহমদের চিন্তার নিজস্বতা’ শীর্ষক আলোচনা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাত ৮টায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন কবি ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা। বিশেষ আলোচক হিসাবে থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল হাসান, সাংবাদিক ও গবেষক কাজল রশীদ শাহীন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক কুদরত-ই-হুদা। সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন