আজ বিশ্ব থ্যালাসিমিয়া দিবস

এক কোটি ১০ লাখ মানুষ থ্যালাসিমিয়ার বাহক

দিনে ২০ শিশুর জন্ম * ৩০ হাজারের বেশি শিশু এ রোগে ভুগছে

  রাশেদ রাব্বি ০৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক কোটি ১০ লাখ মানুষ থ্যালাসিমিয়ার বাহক

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ বা এক কোটি ১০ লাখ মানুষ থ্যালাসিমিয়ার জিন বহন করে।

এর মধ্যে ৪ শতাংশ লোক থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্ত, বেঁচে থাকার জন্য যাদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। দেশে বছরে সাড়ে ৭ হাজার শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে।

সেই হিসাবে দিনে ২০ জনের বেশি শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্মায়। কোনো সহজলভ্য স্থায়ী চিকিৎসা না থাকায় প্রতিরোধই এ রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

থ্যালাসিমিয়া নিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন অব থ্যালাসিমিয়া’ এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, দেশে প্রতি বছর এক হাজার ৪০ জন শিশু বেটা থ্যালাসিমিয়া মেজর এবং ৬ হাজার ৪৪৩ জন শিশু বেটা থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি শিশু এ রোগে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে ৮ মে বিশ্বের অন্যান্য দেশে মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসিমিয়া দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসিমিয়া মুক্ত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক সংখ্যা প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। বাংলাদেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ ভাগ মানুষই থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক। বিশ্বে প্রতি বছর ১ লাখ শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

জানা গেছে, থ্যালাসিমিয়া শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ থ্যালাসা থেকে এসেছে, যার অর্থ সমুদ্র। ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত অঞ্চলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এজন্য একে থ্যালাসিমিয়া বলে। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়।

অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, থ্যালাসিমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা এনিমিয়াতে ভুগে থাকেন। এনিমিয়ার ফলে অবসাদ গ্রস্থতা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে।

বাবা অথবা মা কিংবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসিমিয়ার জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। জিনগত ত্রুটির কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। থ্যালাসিমিয়া রোগীর শরীরে যে লাল রক্ত কণিকা অর্থাৎ রেড ব্লাড সেল (আরবিসি) তৈরি হয়, সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ভেঙে যায়।

আর এ সেল ভাঙার কারণে শরীরে একদিকে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, অন্যদিকে বিলিরুবিনের এবং আয়রনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীর হলদেটে হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত আয়রনের কারণে শরীরের বর্ণ হয়ে যায় তামাটে বা ধূসর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসিমিয়া প্রধানত দুই ধরনের- আলফা থ্যালাসিমিয়া ও বেটা থ্যালাসিমিয়া। আলফা থ্যালাসিমিয়া বিশিষ্ট রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি হয়ে থাকে। অপরদিকে বেটা থ্যালাসিমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের প্রকট ও তীব্রতা দুই-ই বেশি থাকে।

এ রোগের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে- দুর্বলতা, অবসাদ অনুভব, অস্বস্তি, মুখমণ্ডল ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, প্লিহা বড় হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, গাড় রঙের প্রস্রাব হাওয়া, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া, মুখের হাড়ের বিবৃতি, হৃৎপিণ্ডে সমস্যা, পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া, ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি, শরীরে অতিরিক্ত আযরন জমা হওয়া, অস্বাভাবিক অস্থি ইত্যাদি।

চিকিৎসা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সালাউদ্দীন শাহ যুগান্তরকে বলেন, রক্তের পরীক্ষা যেমন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) এবং পেরিফেরাল ব্লাড ফিলথ (পিবিএফ) পরীক্ষা করতে হবে।

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস করে থ্যালাসিমিয়া রোগ নির্ণয় সম্ভব। মৃদু থ্যালাসিমিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণ ও উপসর্গ খুবই অল্প থাকায় ব্লাড ট্রান্সিফিউশন লাগে না। বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন- কোনো অপারেশন হলে বা প্রসবের পর অথবা কোনো সংক্রমণ হলে প্রয়োজনবোধে রক্ত গ্রহণ করতে হয়। তিনি বলেন, থ্যালাসিমিয়া রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। প্রয়োজনবোধে ওষুধ এবং রক্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই এ রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল।

এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয়। এ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এ রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের রক্ত পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিশ্বের থ্যালাসিমিয়াপ্রবণ দেশগুলোতে ইতিমধ্যে আইন করে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ পদ্ধতির প্রচলন করা হলে দ্রুত সময়ে থ্যালাসিমিয়া রোগীর জন্মহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter