নানা জটিলতায় দুই যুগেও পূর্ণতা পায়নি
jugantor
খানজাহান আলী বিমানবন্দর
নানা জটিলতায় দুই যুগেও পূর্ণতা পায়নি

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা  

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই যুগেও বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর পূর্ণতা প্রায়নি। ক্ষমতার পালাবদল, পিপিপি না রাজস্ব খাতে বাস্তবায়ন হবে-সেই প্রশ্ন, করোনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিমানবন্দরটি এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

১৯৯৬ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খুলনা-মোংলা সড়কের পাশে ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যা একটি ‘শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসাবে চালু করার কথা। ১৯৯৮ সালে ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। তবে ২০০১ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ফলে বিমানবন্দরের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

আবার ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খানজাহান আলী বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপ দিয়ে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এর চার বছর পর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। এরপর ৬২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বতর্মানে সীমানা প্রাচীর ও ল্যান্ড ফিলিংয়ের কাজ চলছে। কিন্তু বিমানবন্দরটি পিপিপির মাধ্যমে হবে নাকি রাজস্ব খাতে হবে এ নিয়ে নতুন করে জটিলতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা খুলনা-বাগেরহাট এলাকায় আসতে চান না। কারণ এই এলাকায় কোনো এয়ারপোর্ট নেই। বিমানবন্দর না থাকায় সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। বিমানবন্দরটি হলে মোংলা পোর্টের আয়ও বাড়বে। খুলনা থেকে প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টা সড়ক পথ অতিক্রম করে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সমস্যা।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, বিমানবন্দরটির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন সীমানা প্রাচীর ও ল্যান্ড ফিলিংয়ের কাজ চলছে। সম্প্রতি সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে একটি টিম এসে বিমানবন্দরের কাজ পরিদর্শন করে গেছে।

বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুর নাহার যুগান্তরকে বলেন, রামপাল ও মোংলা এলাকায় উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দরটির খুবই দরকার। কিন্তু এটা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা আছে যা মিডিয়ার কাছে বলা সম্ভব নয়। জটিলতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ লাগবে।

একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ১৯৯৬ সালে বিমানবন্দরটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এটা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) না রাজস্ব খাতে হবে এটা নিয়ে জটিলতা আছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকাসহ নানা কারণে এটা বাস্তবায়নে পেছনে পড়তে হয়েছে।

জানাতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, পিপিইয়ের মাধ্যমে যে সব প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে এগুলো যুক্তিসঙ্গত নয়। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুফল মিলবে না। যেহেতু মোংলা বন্দর, সুন্দরবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুলনা-বাগেরহাট এলাকায় আছে তাই রাজস্ব খাতে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। পদ্মা সেতুর পূর্ণতা মিললেই ওই এলাকার অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে। এ কারণে রেলপথ, নদীপথের পাশাপাশি বিমানবন্দরের চাহিদাও রয়েছে। তবে করোনার কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি।

খানজাহান আলী বিমানবন্দর

নানা জটিলতায় দুই যুগেও পূর্ণতা পায়নি

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা 
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই যুগেও বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর পূর্ণতা প্রায়নি। ক্ষমতার পালাবদল, পিপিপি না রাজস্ব খাতে বাস্তবায়ন হবে-সেই প্রশ্ন, করোনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিমানবন্দরটি এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

১৯৯৬ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খুলনা-মোংলা সড়কের পাশে ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যা একটি ‘শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসাবে চালু করার কথা। ১৯৯৮ সালে ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। তবে ২০০১ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ফলে বিমানবন্দরের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

আবার ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খানজাহান আলী বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপ দিয়ে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এর চার বছর পর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। এরপর ৬২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বতর্মানে সীমানা প্রাচীর ও ল্যান্ড ফিলিংয়ের কাজ চলছে। কিন্তু বিমানবন্দরটি পিপিপির মাধ্যমে হবে নাকি রাজস্ব খাতে হবে এ নিয়ে নতুন করে জটিলতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা খুলনা-বাগেরহাট এলাকায় আসতে চান না। কারণ এই এলাকায় কোনো এয়ারপোর্ট নেই। বিমানবন্দর না থাকায় সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। বিমানবন্দরটি হলে মোংলা পোর্টের আয়ও বাড়বে। খুলনা থেকে প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টা সড়ক পথ অতিক্রম করে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সমস্যা।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, বিমানবন্দরটির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন সীমানা প্রাচীর ও ল্যান্ড ফিলিংয়ের কাজ চলছে। সম্প্রতি সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে একটি টিম এসে বিমানবন্দরের কাজ পরিদর্শন করে গেছে।

বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুর নাহার যুগান্তরকে বলেন, রামপাল ও মোংলা এলাকায় উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দরটির খুবই দরকার। কিন্তু এটা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা আছে যা মিডিয়ার কাছে বলা সম্ভব নয়। জটিলতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ লাগবে।

একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ১৯৯৬ সালে বিমানবন্দরটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এটা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) না রাজস্ব খাতে হবে এটা নিয়ে জটিলতা আছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকাসহ নানা কারণে এটা বাস্তবায়নে পেছনে পড়তে হয়েছে।

জানাতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, পিপিইয়ের মাধ্যমে যে সব প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে এগুলো যুক্তিসঙ্গত নয়। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুফল মিলবে না। যেহেতু মোংলা বন্দর, সুন্দরবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুলনা-বাগেরহাট এলাকায় আছে তাই রাজস্ব খাতে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। পদ্মা সেতুর পূর্ণতা মিললেই ওই এলাকার অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে। এ কারণে রেলপথ, নদীপথের পাশাপাশি বিমানবন্দরের চাহিদাও রয়েছে। তবে করোনার কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন