লালমনিরহাটে স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও কাঁটাতারে ঘেরা
jugantor
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দখলদারি
লালমনিরহাটে স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও কাঁটাতারে ঘেরা

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে কেউ হয়তো অন্য কোনো দেশে অনুপ্রবেশ করছে! কিন্তু আসলে তা নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন এভাবেই গন্তব্যে যান। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ‘ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড’ কাঁটাতার দিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় লোকজনকে প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরতে হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার শৌলমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বদিক থেকে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি চরের মাঝ বরাবর দিয়ে নদীর ঘাট পর্যন্ত গেছে। এটি মূলত উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে চরবাসীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। শৌলমারী চরের বাসিন্দারা বছরের পর বছর রাস্তাটি ব্যবহার করতেন। সরকারিভাবেও প্রতিবছর রাস্তাটি মেরামত করা হয়। কিন্তু ‘ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাস্তাটি দখল করে রেখেছে। ফলে চরের বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

শৌলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় সবার বাড়ি উপজেলা সদরের আশপাশে। প্রথমে নৌকা ও পরে দীর্ঘ পথ হেঁটে তাদের বিদ্যালয়ে পোঁছাতে হয়। নদীর ঘাট থেকে যে রাস্তা সরাসরি স্কুলে গিয়ে ঠেকেছে, সেটি কাঁটাতারে ঘেরা। তাই বাধ্য হয়ে তারা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইতি মনি জানান, ওই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসা করছি। রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই তাকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আরেক শিক্ষক সানিউর রহমান সানি জানান, রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, রাস্তাটি বন্ধ করায় আমাদের চলাচলের কোনো পথ নেই। বিষয়টি লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহাদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি আমি নিজেও কয়েকবার মেরামত করেছি। এখন সেটি বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষজন খুবই সমস্যায় পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কিছুই করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা উত্তম রায় জানান, রাস্তাটির পাশ দিয়ে আমরা আরেকটি রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি। তাই সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দখলদারি

লালমনিরহাটে স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও কাঁটাতারে ঘেরা

 লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে কেউ হয়তো অন্য কোনো দেশে অনুপ্রবেশ করছে! কিন্তু আসলে তা নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন এভাবেই গন্তব্যে যান। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ‘ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড’ কাঁটাতার দিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় লোকজনকে প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরতে হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার শৌলমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বদিক থেকে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি চরের মাঝ বরাবর দিয়ে নদীর ঘাট পর্যন্ত গেছে। এটি মূলত উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে চরবাসীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। শৌলমারী চরের বাসিন্দারা বছরের পর বছর রাস্তাটি ব্যবহার করতেন। সরকারিভাবেও প্রতিবছর রাস্তাটি মেরামত করা হয়। কিন্তু ‘ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাস্তাটি দখল করে রেখেছে। ফলে চরের বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

শৌলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় সবার বাড়ি উপজেলা সদরের আশপাশে। প্রথমে নৌকা ও পরে দীর্ঘ পথ হেঁটে তাদের বিদ্যালয়ে পোঁছাতে হয়। নদীর ঘাট থেকে যে রাস্তা সরাসরি স্কুলে গিয়ে ঠেকেছে, সেটি কাঁটাতারে ঘেরা। তাই বাধ্য হয়ে তারা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইতি মনি জানান, ওই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসা করছি। রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই তাকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আরেক শিক্ষক সানিউর রহমান সানি জানান, রাস্তাটি কাঁটাতারে ঘিরে ফেলায় প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, রাস্তাটি বন্ধ করায় আমাদের চলাচলের কোনো পথ নেই। বিষয়টি লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহাদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি আমি নিজেও কয়েকবার মেরামত করেছি। এখন সেটি বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষজন খুবই সমস্যায় পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কিছুই করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা উত্তম রায় জানান, রাস্তাটির পাশ দিয়ে আমরা আরেকটি রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি। তাই সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন