গাজীপুরে অর্ধেকে নেমেছে শিল্পকারখানার উৎপাদন
jugantor
গ্যাস সংকট
গাজীপুরে অর্ধেকে নেমেছে শিল্পকারখানার উৎপাদন
সমস্যার দ্রুত সামাধান দাবি

  সরকার আব্দুল আলীম, কোনাবাড়ী  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর এবং পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলোতে হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় মালিকরা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছেন না।

সফিপুর এলাকার রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এই দুই কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান প্রয়োজন।

জানা যায়, কোনাবাড়ীতে যমুনা গ্রুপের যমুনা কমপ্লেক্স কারখানা, সফিপুর এলাকায় যমুনা স্পিনিং ডিভিশন কারখানা, কাশিমপুরে ডিবিএল, আলীম নিটওয়ার, সফিপুরে মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড, করতোয়া স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ডংবাইং, সানজি, মালেক স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল, ময়জুদ্দিন স্পিনিং, এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং; পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় স্টার লিং, আয়মন টেক্সটাইল, এপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেডসহ কমপক্ষে দেড় শতাধিক স্পিনিং কারখানা চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছে না। গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পর্যন্ত এবং সাভারের ইপিজেড এলাকায় তিতাস গ্যাসের চাপ কম রয়েছে।

গাজীপুরে বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকে। এতে গ্যাস জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। তাই কারখানার বেশিরভাগ মেশিন বন্ধ রেখে অল্প কিছু মেশিন চালু রাখতে হচ্ছে। এ কারণে কারখানা উৎপাদন কম হচ্ছে। সময়মতো মাল সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা জানান, গাজীপুরে প্রায় দুই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পোশাক কারখানা সাড়ে আটশ। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির বড় অংশ অর্থাৎ ৬০-৭০ শতাংশ করে থাকে এ এলাকার কারখানাগুলো। দ্রুত গ্যাসের চাপ বাড়ানো না গেলে রপ্তানি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কোনাবাড়ীতে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান যমুনা কমপ্লেক্স কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ এবং কমপ্লায়েন্স) জানান, বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। তারপর চাপ বাড়লেও বিকাল ৪টার পর আবার কমে যায়। কখনো গ্যাসের চাপ ১ পিএসআইয়ে নেমে যাচ্ছে। গত দু-তিন দিন হলো ভোগান্তি বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে দুটি জেনারেটর বন্ধ ছিল।

সফিপুরে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান যমুনা স্পিনিং ডিবিশন কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ ) জানান, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।

সফিপুর এলাকায় রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার আহসান আলী সরদার বলেন, প্রতিদিনই গ্যাসের চাপ কম থাকে এবং ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ উৎপাদন কম হচ্ছে। এ কারণে সময়মতো মালামাল সরবরাহ করতে পারছি না। বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হতো তাই গ্যাস জেনারেটর ব্যবহার করছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের চন্দ্রা জোনাল উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, গ্যাসের সাপ্লাই কম থাকায় কারখানাগুলোতে গ্যাস সমস্যা হচ্ছে।

লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকার কথা স্বীকার করে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের গাজীপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ করা, সিএনজি স্টেশন চালু রাখা এবং অবৈধ গ্যাসসংযোগ থাকার কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

গ্যাস সংকট

গাজীপুরে অর্ধেকে নেমেছে শিল্পকারখানার উৎপাদন

সমস্যার দ্রুত সামাধান দাবি
 সরকার আব্দুল আলীম, কোনাবাড়ী 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর এবং পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলোতে হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় মালিকরা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছেন না।

সফিপুর এলাকার রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এই দুই কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান প্রয়োজন।

জানা যায়, কোনাবাড়ীতে যমুনা গ্রুপের যমুনা কমপ্লেক্স কারখানা, সফিপুর এলাকায় যমুনা স্পিনিং ডিভিশন কারখানা, কাশিমপুরে ডিবিএল, আলীম নিটওয়ার, সফিপুরে মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড, করতোয়া স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ডংবাইং, সানজি, মালেক স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল, ময়জুদ্দিন স্পিনিং, এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং; পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় স্টার লিং, আয়মন টেক্সটাইল, এপেক্স ফুটওয়ার লিমিটেডসহ কমপক্ষে দেড় শতাধিক স্পিনিং কারখানা চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছে না। গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পর্যন্ত এবং সাভারের ইপিজেড এলাকায় তিতাস গ্যাসের চাপ কম রয়েছে।

গাজীপুরে বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকে। এতে গ্যাস জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। তাই কারখানার বেশিরভাগ মেশিন বন্ধ রেখে অল্প কিছু মেশিন চালু রাখতে হচ্ছে। এ কারণে কারখানা উৎপাদন কম হচ্ছে। সময়মতো মাল সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা জানান, গাজীপুরে প্রায় দুই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পোশাক কারখানা সাড়ে আটশ। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির বড় অংশ অর্থাৎ ৬০-৭০ শতাংশ করে থাকে এ এলাকার কারখানাগুলো। দ্রুত গ্যাসের চাপ বাড়ানো না গেলে রপ্তানি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কোনাবাড়ীতে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান যমুনা কমপ্লেক্স কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ এবং কমপ্লায়েন্স) জানান, বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। তারপর চাপ বাড়লেও বিকাল ৪টার পর আবার কমে যায়। কখনো গ্যাসের চাপ ১ পিএসআইয়ে নেমে যাচ্ছে। গত দু-তিন দিন হলো ভোগান্তি বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে দুটি জেনারেটর বন্ধ ছিল।

সফিপুরে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান যমুনা স্পিনিং ডিবিশন কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ ) জানান, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।

সফিপুর এলাকায় রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার আহসান আলী সরদার বলেন, প্রতিদিনই গ্যাসের চাপ কম থাকে এবং ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ উৎপাদন কম হচ্ছে। এ কারণে সময়মতো মালামাল সরবরাহ করতে পারছি না। বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হতো তাই গ্যাস জেনারেটর ব্যবহার করছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের চন্দ্রা জোনাল উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, গ্যাসের সাপ্লাই কম থাকায় কারখানাগুলোতে গ্যাস সমস্যা হচ্ছে।

লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকার কথা স্বীকার করে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনের গাজীপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ করা, সিএনজি স্টেশন চালু রাখা এবং অবৈধ গ্যাসসংযোগ থাকার কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন