হাওড় মালেক সিটির নামে সরকারি জমি প্লট বানিয়ে বিক্রি
jugantor
হাওড় মালেক সিটির নামে সরকারি জমি প্লট বানিয়ে বিক্রি
টাকা নিয়ে দলিল করে দিতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে হাওড় মালেক সিটির নামে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি রাস্তার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর সম্প্রতি পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেন খালিয়াজুরী সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছানোয়ারুজ্জামান জুসেফ ও খালিয়াজুরী সদরের ছমির মিয়ার ছেলে এরশাদ মিয়া। অভিযুক্তরা হলেন-ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোল্লা ট্রেডিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মালেক মোল্লা ও তার ছেলে মোল্লা মাজহারুল মালেক। ফার্মগেটে মোল্লা টাওয়ারে তাদের হেড অফিস।

জেলা প্রশাসনকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২৫ বছর আগে খালিয়াজুরী সদরে হাসপাতাল-সংলগ্ন গৌড়ের হাওড় এলাকায় ১১ একর জায়গা কিনেন আব্দুল মালেক মোল্লা। সেই জায়গা কেনার পর জায়গাটির পাশে আরও প্রায় দুই একর সরকারি খাস জায়গায় খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে নেন। ওই সময় শুরুতে জায়গার দাম কম ছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে জায়গাটিকে উঁচু ভূমিতে পরিণত করেন তার ছেলে মোল্লা মাজহারুল মালেক। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ওই জায়গাটি খালিয়াজুরী মৌজার ১নং খতিয়ানের ৪৪৮৯ ও ৪৭০০ দাগে অবস্থিত। জায়গাটির শ্রেণি হলো রাস্তা।

সরকারি ওই রাস্তার জায়গায় বালু ভরাটের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে মোল্লা মাজহারুল মালেক জায়গার নামকরণ করেছেন হাওড় মালেক সিটি। এ সিটিতে তাদের ক্রয় সূত্রে নিজস্ব জমি থাকলেও এখানে বেশ কয়েক একর রয়েছে সরকারি খাস ও অর্পিত সম্পত্তি। অবৈধভাবে দখল করা এসব খাস ও অর্পিত সম্পত্তি এখন প্লট আকারে বিক্রিও করছেন মোল্লা মাজহারুল মালেক। যারা এ জমি কিনেছেন তাদের জমির বায়নাপত্র কিংবা দলিল না করেই রসিদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে বসতিও গড়েছেন। তাদের কেউ কেউ এক লাখ টাকা শতাংশ মূল্য নির্ধারণ করে টাকা পরিশোধ করে দুবছর ধরে ঘুরেও জমির দলিল পাচ্ছেন না। হাওড় মালেক সিটির স্বত্বাধিকারীরা শুধু সরকারি এ জায়গা দখল করেননি। জায়গা বিক্রির মাধ্যমে খালিয়াজুরী সদরের কিতাব আলী, প্রনব সরকার, রিমন মিয়া, নিত্যানন্দ ঋষি, আরাধন সরকারসহ ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দলিল করে দিতে সময়ক্ষেপণ করছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করারও অভিযোগ রয়েছে।

ওই সিটির মালিকরা একই স্থানের আরেকটি রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপন করেছেন একটি মার্কেটও। এ মার্কেটে ২০টি দোকান তৈরি করে প্রতিটি দোকান থেকে নিরাপত্তা তহবিলের নামে তারা অগ্রিম নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা করে। প্রতিটির মাসিক ভাড়া নিচ্ছেন দেড় হাজার টাকা। খালিয়াজুরী সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় ১৬ একর সরকারি খাস জায়গাও তারা দখল করেছেন অন্যের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার মাধ্যমে।

মোল্লা মাজহারুল মালেক বলেন, ‘জমির বিআরএসে ভুলের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। বিআরএসে যদি ভুল করে তাহলে আমাদের কী করার আছে?’ তারা সরকারি কোনো জায়গা দখল করেননি এবং তারা কখনো কারও সঙ্গে প্রতারণাও করেননি। যেসব জায়গা তাদের দখলে রয়েছে, সেসব তাদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে জানান তিনি।

খালিয়াজুরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, এখানে নতুন যোগদান করার কারণে এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে বুধবার তার কার্যালয়ের সার্ভেয়ার শেখ মতিউর রহমান জানান, হাওড় মালেক সিটি কর্তৃপক্ষ সরকারি জায়গা দখল করেছে, এমন অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে। এ ব্যাপারে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জায়গা দখলের বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদনে তা উল্লেখও রয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে।

হাওড় মালেক সিটির নামে সরকারি জমি প্লট বানিয়ে বিক্রি

টাকা নিয়ে দলিল করে দিতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ
 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে হাওড় মালেক সিটির নামে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি রাস্তার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর সম্প্রতি পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেন খালিয়াজুরী সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছানোয়ারুজ্জামান জুসেফ ও খালিয়াজুরী সদরের ছমির মিয়ার ছেলে এরশাদ মিয়া। অভিযুক্তরা হলেন-ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোল্লা ট্রেডিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মালেক মোল্লা ও তার ছেলে মোল্লা মাজহারুল মালেক। ফার্মগেটে মোল্লা টাওয়ারে তাদের হেড অফিস।

জেলা প্রশাসনকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২৫ বছর আগে খালিয়াজুরী সদরে হাসপাতাল-সংলগ্ন গৌড়ের হাওড় এলাকায় ১১ একর জায়গা কিনেন আব্দুল মালেক মোল্লা। সেই জায়গা কেনার পর জায়গাটির পাশে আরও প্রায় দুই একর সরকারি খাস জায়গায় খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে নেন। ওই সময় শুরুতে জায়গার দাম কম ছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে জায়গাটিকে উঁচু ভূমিতে পরিণত করেন তার ছেলে মোল্লা মাজহারুল মালেক। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ওই জায়গাটি খালিয়াজুরী মৌজার ১নং খতিয়ানের ৪৪৮৯ ও ৪৭০০ দাগে অবস্থিত। জায়গাটির শ্রেণি হলো রাস্তা।

সরকারি ওই রাস্তার জায়গায় বালু ভরাটের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে মোল্লা মাজহারুল মালেক জায়গার নামকরণ করেছেন হাওড় মালেক সিটি। এ সিটিতে তাদের ক্রয় সূত্রে নিজস্ব জমি থাকলেও এখানে বেশ কয়েক একর রয়েছে সরকারি খাস ও অর্পিত সম্পত্তি। অবৈধভাবে দখল করা এসব খাস ও অর্পিত সম্পত্তি এখন প্লট আকারে বিক্রিও করছেন মোল্লা মাজহারুল মালেক। যারা এ জমি কিনেছেন তাদের জমির বায়নাপত্র কিংবা দলিল না করেই রসিদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে বসতিও গড়েছেন। তাদের কেউ কেউ এক লাখ টাকা শতাংশ মূল্য নির্ধারণ করে টাকা পরিশোধ করে দুবছর ধরে ঘুরেও জমির দলিল পাচ্ছেন না। হাওড় মালেক সিটির স্বত্বাধিকারীরা শুধু সরকারি এ জায়গা দখল করেননি। জায়গা বিক্রির মাধ্যমে খালিয়াজুরী সদরের কিতাব আলী, প্রনব সরকার, রিমন মিয়া, নিত্যানন্দ ঋষি, আরাধন সরকারসহ ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দলিল করে দিতে সময়ক্ষেপণ করছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করারও অভিযোগ রয়েছে।

ওই সিটির মালিকরা একই স্থানের আরেকটি রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপন করেছেন একটি মার্কেটও। এ মার্কেটে ২০টি দোকান তৈরি করে প্রতিটি দোকান থেকে নিরাপত্তা তহবিলের নামে তারা অগ্রিম নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা করে। প্রতিটির মাসিক ভাড়া নিচ্ছেন দেড় হাজার টাকা। খালিয়াজুরী সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় ১৬ একর সরকারি খাস জায়গাও তারা দখল করেছেন অন্যের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার মাধ্যমে।

মোল্লা মাজহারুল মালেক বলেন, ‘জমির বিআরএসে ভুলের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। বিআরএসে যদি ভুল করে তাহলে আমাদের কী করার আছে?’ তারা সরকারি কোনো জায়গা দখল করেননি এবং তারা কখনো কারও সঙ্গে প্রতারণাও করেননি। যেসব জায়গা তাদের দখলে রয়েছে, সেসব তাদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে জানান তিনি।

খালিয়াজুরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, এখানে নতুন যোগদান করার কারণে এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে বুধবার তার কার্যালয়ের সার্ভেয়ার শেখ মতিউর রহমান জানান, হাওড় মালেক সিটি কর্তৃপক্ষ সরকারি জায়গা দখল করেছে, এমন অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে। এ ব্যাপারে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জায়গা দখলের বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদনে তা উল্লেখও রয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন