ভবন নির্মাণে কাটা পড়বে দেড় হাজার গাছ
jugantor
ইবির মেগা প্রকল্প
ভবন নির্মাণে কাটা পড়বে দেড় হাজার গাছ

  সরকার মাসুম, ইবি  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে-ইবি ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীন ৯টি ভবন নির্মাণে কাটা পড়তে যাচ্ছে প্রায় দেড় হাজার গাছ। একসঙ্গে এতগুলো গাছ কাটার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকেই প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে জমি অধিগ্রহণ করে ভবনগুলো নির্মাণ করতে পারত।

মেহগনি, অর্জুন, রেইনট্রি, কড়ই, কদম এবং নিমসহ আরও কয়েক প্রজাতি মিলে প্রায় ১৪৩৫টি গাছ কাটা হলে ক্যাম্পাস হারাবে তার নিজস্ব সৌন্দর্য। আমরা চাই ভবনগুলো হোক। তবে প্রকৃতি নষ্ট করে নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের জন্যই হল নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটা পড়ছে। তবে এ গাছগুলো শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা উন্নয়ন ও প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীনে ৯টি ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অতি দ্রুত কয়েকটি ভবনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শিগগিরই দুটি হলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। হলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১০ তলা বিশিষ্ট ৪টি আবাসিক হল, ১টি হলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১০ তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমি ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন এবং কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকৌশল অফিসের চাহিদা মোতাবেক রেজিস্ট্রি অফিস গাছ কাটার নির্দেশনাও দিয়েছেন। তবে গাছগুলো কাটরা পর সেগুলো কোথায় কিভাবে রাখা হবে এমন নির্দেশনা পেলেই এক-দুদিনের মধ্যে শুরু হবে গাছ কাটার কাজ। এসব বিষয়ে ৭ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাছ কর্তন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান।

গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি ও বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ ও পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিস্তৃত ভূমি কাজে লাগিয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম সবুজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো পরিকল্পিতভাবে হওয়া উচিত। যাতে করে সবুজায়ন ও উন্নয়ন উভয় সমতা বিধান করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ করে এত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে।

প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চেষ্টা করব যত কমসংখ্যক গাছ কাটা যায়। এছাড়া আমরা চার হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চেয়ার-বেঞ্চ তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে সে তুলনায় আমাদের পাঁচগুণ গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা আছে। মুজিববর্ষজুড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে ৪২ প্রজাতির গাছ লাগানোর বিষয়ে কথা বলেছি।

ইবির মেগা প্রকল্প

ভবন নির্মাণে কাটা পড়বে দেড় হাজার গাছ

 সরকার মাসুম, ইবি 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে-ইবি ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীন ৯টি ভবন নির্মাণে কাটা পড়তে যাচ্ছে প্রায় দেড় হাজার গাছ। একসঙ্গে এতগুলো গাছ কাটার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকেই প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে জমি অধিগ্রহণ করে ভবনগুলো নির্মাণ করতে পারত।

মেহগনি, অর্জুন, রেইনট্রি, কড়ই, কদম এবং নিমসহ আরও কয়েক প্রজাতি মিলে প্রায় ১৪৩৫টি গাছ কাটা হলে ক্যাম্পাস হারাবে তার নিজস্ব সৌন্দর্য। আমরা চাই ভবনগুলো হোক। তবে প্রকৃতি নষ্ট করে নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের জন্যই হল নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটা পড়ছে। তবে এ গাছগুলো শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা উন্নয়ন ও প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীনে ৯টি ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অতি দ্রুত কয়েকটি ভবনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শিগগিরই দুটি হলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। হলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১০ তলা বিশিষ্ট ৪টি আবাসিক হল, ১টি হলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১০ তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমি ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন এবং কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকৌশল অফিসের চাহিদা মোতাবেক রেজিস্ট্রি অফিস গাছ কাটার নির্দেশনাও দিয়েছেন। তবে গাছগুলো কাটরা পর সেগুলো কোথায় কিভাবে রাখা হবে এমন নির্দেশনা পেলেই এক-দুদিনের মধ্যে শুরু হবে গাছ কাটার কাজ। এসব বিষয়ে ৭ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাছ কর্তন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান।

গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি ও বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ ও পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিস্তৃত ভূমি কাজে লাগিয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম সবুজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো পরিকল্পিতভাবে হওয়া উচিত। যাতে করে সবুজায়ন ও উন্নয়ন উভয় সমতা বিধান করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ করে এত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে।

প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চেষ্টা করব যত কমসংখ্যক গাছ কাটা যায়। এছাড়া আমরা চার হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চেয়ার-বেঞ্চ তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে সে তুলনায় আমাদের পাঁচগুণ গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা আছে। মুজিববর্ষজুড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে ৪২ প্রজাতির গাছ লাগানোর বিষয়ে কথা বলেছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন