আউটসোর্সিংয়ে চলবে বিআরটি
jugantor
আউটসোর্সিংয়ে চলবে বিআরটি
তত্ত্বাবধান করবে ডিবিআরটিসিএল

  মতিন আব্দুল্লাহ  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বা সেবা ক্রয় করে পরিচালিত হবে দেশের প্রথম ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। সেবা নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হবে না। তবে সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য স্বল্পসংখ্যক কারিগরি জনবল থাকবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিবিআরটিসিএল) সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলবে বিআরটির সেবা কার্যক্রম।

জানা যায়, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি করিডরের ৬৩ দশমিক ২৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ডিবিআরটিসিএল কর্তৃপক্ষ। যানজটের কারণে এই দূরত্ব পাড়ি দিতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই প্রকল্পের সেবা চালু হলে চলাচলে সময় লাগবে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। উভয়দিকে প্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজার যাত্রী পরিবহণ করা যাবে। সড়কের লেন বৃদ্ধি, সড়ক ব্যবস্থাপনাসহ বহুমুখী উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এই করিডরে। সাধারণ পরিবহণের পাশাপাশি এই করিডরে ১৩০টি আধুনিক মানের এয়ারকন্ডিশন (এসি) বাস সার্ভিস থাকবে। ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল একনেকে বিআরটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দফায় দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ায় ব্যয়ও বাড়াতে হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান আকার ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আবারও বাড়বে ব্যয়।

এ প্রসঙ্গে ডিবিআরটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের সেবা কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডিবিআরটি্িসএল’র হাতে। তবে এটা বিআরটিসি’র মতো সরকারিভাবে জনবল নিয়োগ করে পরিচালনা করা হবে না। আমরা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ঠিকাদার নিয়োগ করে বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা ক্রয় করে পরিচালনা করব। আমাদের প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় এটা বলা হয়েছে। আমরা বেসরকারি খাতকে শক্তিশালীকরণেও ভূমিকা রাখতে চাই।

তিনি বলেন, সেবা কার্যক্রমে সরকারিভাবে জনবল নিয়োগ করা হলে তাতে ভালো ফলের দৃষ্টান্ত কম আছে। বিআরটিসি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা সবকিছু জেনেবুঝে আর একটি বিআরটিসি বানাতে পারি না। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বিআরটি বেসরকারি খাতেও দেওয়া হচ্ছে না। অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠান যেভাবে সেবা ক্রয় করে চলছে। এটি সেভাবে সেবা ক্রয় করে পরিচালিত হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো এ প্রতিষ্ঠানকে টেকসই ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

সূত্রমতে, বিআরটি প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার আলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এ সংক্রান্ত চারটি ‘বিজনেস মডেল’ তৈরি করেছে। সেখান থেকে একটা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর করিডরের মাঝখানে গড়ে তোলা হচ্ছে দুই লেনের বিআরটি। এ দুই লেনে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই বিশেষায়িত বাসগুলো চলাচল করবে। পাশাপাশি ডিবিআরটিসিএল’র অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্টসংখ্যক বাস চলাচল করতে পারবে। সাধারণ বাস ও অন্যান্য পরিবহণ চলাচল করবে দুই পাশের মিক্সড লেনে। আর সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে ১৬ কিলোমিটার, ড্রেনেজ লাইন করা হয়েছে ২৫ কিলোমিটার, ফুটওভার ব্রিজ করা হচ্ছে ১৬টি।

আউটসোর্সিংয়ে চলবে বিআরটি

তত্ত্বাবধান করবে ডিবিআরটিসিএল
 মতিন আব্দুল্লাহ 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বা সেবা ক্রয় করে পরিচালিত হবে দেশের প্রথম ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। সেবা নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হবে না। তবে সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য স্বল্পসংখ্যক কারিগরি জনবল থাকবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিবিআরটিসিএল) সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলবে বিআরটির সেবা কার্যক্রম।

জানা যায়, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি করিডরের ৬৩ দশমিক ২৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ডিবিআরটিসিএল কর্তৃপক্ষ। যানজটের কারণে এই দূরত্ব পাড়ি দিতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই প্রকল্পের সেবা চালু হলে চলাচলে সময় লাগবে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। উভয়দিকে প্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজার যাত্রী পরিবহণ করা যাবে। সড়কের লেন বৃদ্ধি, সড়ক ব্যবস্থাপনাসহ বহুমুখী উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এই করিডরে। সাধারণ পরিবহণের পাশাপাশি এই করিডরে ১৩০টি আধুনিক মানের এয়ারকন্ডিশন (এসি) বাস সার্ভিস থাকবে। ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল একনেকে বিআরটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দফায় দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ায় ব্যয়ও বাড়াতে হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান আকার ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আবারও বাড়বে ব্যয়।

এ প্রসঙ্গে ডিবিআরটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের সেবা কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডিবিআরটি্িসএল’র হাতে। তবে এটা বিআরটিসি’র মতো সরকারিভাবে জনবল নিয়োগ করে পরিচালনা করা হবে না। আমরা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ঠিকাদার নিয়োগ করে বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা ক্রয় করে পরিচালনা করব। আমাদের প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় এটা বলা হয়েছে। আমরা বেসরকারি খাতকে শক্তিশালীকরণেও ভূমিকা রাখতে চাই।

তিনি বলেন, সেবা কার্যক্রমে সরকারিভাবে জনবল নিয়োগ করা হলে তাতে ভালো ফলের দৃষ্টান্ত কম আছে। বিআরটিসি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা সবকিছু জেনেবুঝে আর একটি বিআরটিসি বানাতে পারি না। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বিআরটি বেসরকারি খাতেও দেওয়া হচ্ছে না। অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠান যেভাবে সেবা ক্রয় করে চলছে। এটি সেভাবে সেবা ক্রয় করে পরিচালিত হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো এ প্রতিষ্ঠানকে টেকসই ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

সূত্রমতে, বিআরটি প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার আলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এ সংক্রান্ত চারটি ‘বিজনেস মডেল’ তৈরি করেছে। সেখান থেকে একটা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর করিডরের মাঝখানে গড়ে তোলা হচ্ছে দুই লেনের বিআরটি। এ দুই লেনে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই বিশেষায়িত বাসগুলো চলাচল করবে। পাশাপাশি ডিবিআরটিসিএল’র অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্টসংখ্যক বাস চলাচল করতে পারবে। সাধারণ বাস ও অন্যান্য পরিবহণ চলাচল করবে দুই পাশের মিক্সড লেনে। আর সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে ১৬ কিলোমিটার, ড্রেনেজ লাইন করা হয়েছে ২৫ কিলোমিটার, ফুটওভার ব্রিজ করা হচ্ছে ১৬টি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন