কোর্ট বিল্ডিংয়ে সমিতির অবৈধ স্থাপনা নেই
jugantor
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলন
কোর্ট বিল্ডিংয়ে সমিতির অবৈধ স্থাপনা নেই
ডিসির বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আদালত ভবন তথা পরীর পাহাড়ের চারপাশে জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই। দোকানপাট, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, বস্তি ইত্যাদি যা আছে তা জেলা প্রশাসনের লিজ প্রদানকৃত। আবার কিছু অংশ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক অবৈধভাবে ভাড়ায় দেওয়া; যা থেকে তারা মাসিক ও দৈনিক ভাড়া উত্তোলন করে। এসব স্থাপনায় অনৈতিক কাজ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি হয়ে আসছে-যা বন্ধে জেলা প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৫ সালে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল। রোববার চট্টগ্রামে জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। সমিতির অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসন ২ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। আইনজীবী সমিতি ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এসব বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবেই দলিলমূলে এখানে অবস্থান করছি। জেলা প্রশাসক তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জিয়া উদ্দিন আরও বলেন, ডিসি সাহেব যে কাজ করছেন তা নীতিবহির্ভূত। তিনি আইনজীবী সমিতির মান সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। আইনজীবী সমিতির ভবনগুলো যথাযথভাবে অনুমোদিত নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ- বলে উল্লেখ করেছেন। পরীর পাহাড় এলাকায় সিডিএর কোনো ভবনের অনুমোদন প্রসঙ্গে তার দেওয়া বক্তব্য এখতিয়ারবহির্ভূত।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আইনজীবী সমিতির শাপলা ভবন নির্মাণের সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে ও পরামর্শে সমিতির নেতা ও তৎকালীন অতি. জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ইলিয়াছ, জেলা প্রশাসনের কাননুগো, সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে জায়গা পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে সমিতির জায়গার সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। যেখানে বহুপূর্বে সমিতির সিকিউরিটি গার্ড রুম, জেনারেটর রুম নির্মাণ করা হয় যা বর্তমানেও আছে। ২০১৪ সালে পরিমাপ করে সমিতিকে যে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়, সে জায়গার অংশে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ২০১৯ সালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংককে বুথ স্থাপনের জন্য লিজ প্রদান করা হলে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলায় সমিতির পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর ফলে জেলা প্রশাসন ওই স্থানে ব্যাংকের বুথ স্থাপনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। মূলত সেখান থেকেই জেলা প্রশাসন সমিতির সঙ্গে বৈরী আচরণ শুরু করে।

তিনি বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মান, মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনের এহেন ঘৃণিত প্রয়াস দুঃখজনক। এ ছাড়া পানি সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন যাতে নির্মাণ হতে না পারে, সেজন্যই জেলা প্রশাসন থেকে এমন ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বদরুল আনোয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনতোষ বড়ুয়া, আব্দুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য : এদিকে আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের পর পরীর পাহাড় সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এ সম্পর্কে গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুকের দেওয়া তথ্য ও বক্তব্যে বলা হয়, ‘১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতিকে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ দশমিক ৯০ শতক জমি। আইনজীবী সমিতি বরাদ্দের ১০ গুণের বেশি জমি দখল করে রেখেছে। বর্তমানে ১ একর ৩৭ শতক জমির ওপর আইনজীবী সমিতি ৫টি ভবন নির্মাণ করেছে। এ ১ একর ৩৭ শতক জমির মধ্যে সেই ১৪৮৮৮নং লিজ দলিল মূলে প্রাপ্ত তাদের মালিকানা ১২.৯০ শতক জমি বাদ দিলে এখনো ১ একর ২৪ শতাংশ জমি আইনজীবী সমিতি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। দলিলের আরএস ২৩৪৫নং দাগটি থেকে কোনো জমি লিজ দেওয়া হয়নি। অথচ শাপলা ভবনটি সম্পূর্ণরূপে লিজভুক্ত তফশিলের বাইরে গিয়ে সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলন

কোর্ট বিল্ডিংয়ে সমিতির অবৈধ স্থাপনা নেই

ডিসির বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আদালত ভবন তথা পরীর পাহাড়ের চারপাশে জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই। দোকানপাট, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, বস্তি ইত্যাদি যা আছে তা জেলা প্রশাসনের লিজ প্রদানকৃত। আবার কিছু অংশ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক অবৈধভাবে ভাড়ায় দেওয়া; যা থেকে তারা মাসিক ও দৈনিক ভাড়া উত্তোলন করে। এসব স্থাপনায় অনৈতিক কাজ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি হয়ে আসছে-যা বন্ধে জেলা প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৫ সালে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল। রোববার চট্টগ্রামে জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। সমিতির অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসন ২ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। আইনজীবী সমিতি ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এসব বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবেই দলিলমূলে এখানে অবস্থান করছি। জেলা প্রশাসক তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জিয়া উদ্দিন আরও বলেন, ডিসি সাহেব যে কাজ করছেন তা নীতিবহির্ভূত। তিনি আইনজীবী সমিতির মান সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। আইনজীবী সমিতির ভবনগুলো যথাযথভাবে অনুমোদিত নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ- বলে উল্লেখ করেছেন। পরীর পাহাড় এলাকায় সিডিএর কোনো ভবনের অনুমোদন প্রসঙ্গে তার দেওয়া বক্তব্য এখতিয়ারবহির্ভূত।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আইনজীবী সমিতির শাপলা ভবন নির্মাণের সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে ও পরামর্শে সমিতির নেতা ও তৎকালীন অতি. জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ইলিয়াছ, জেলা প্রশাসনের কাননুগো, সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে জায়গা পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে সমিতির জায়গার সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। যেখানে বহুপূর্বে সমিতির সিকিউরিটি গার্ড রুম, জেনারেটর রুম নির্মাণ করা হয় যা বর্তমানেও আছে। ২০১৪ সালে পরিমাপ করে সমিতিকে যে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়, সে জায়গার অংশে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ২০১৯ সালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংককে বুথ স্থাপনের জন্য লিজ প্রদান করা হলে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলায় সমিতির পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর ফলে জেলা প্রশাসন ওই স্থানে ব্যাংকের বুথ স্থাপনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। মূলত সেখান থেকেই জেলা প্রশাসন সমিতির সঙ্গে বৈরী আচরণ শুরু করে।

তিনি বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মান, মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনের এহেন ঘৃণিত প্রয়াস দুঃখজনক। এ ছাড়া পানি সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন যাতে নির্মাণ হতে না পারে, সেজন্যই জেলা প্রশাসন থেকে এমন ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বদরুল আনোয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনতোষ বড়ুয়া, আব্দুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য : এদিকে আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের পর পরীর পাহাড় সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এ সম্পর্কে গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুকের দেওয়া তথ্য ও বক্তব্যে বলা হয়, ‘১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতিকে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ দশমিক ৯০ শতক জমি। আইনজীবী সমিতি বরাদ্দের ১০ গুণের বেশি জমি দখল করে রেখেছে। বর্তমানে ১ একর ৩৭ শতক জমির ওপর আইনজীবী সমিতি ৫টি ভবন নির্মাণ করেছে। এ ১ একর ৩৭ শতক জমির মধ্যে সেই ১৪৮৮৮নং লিজ দলিল মূলে প্রাপ্ত তাদের মালিকানা ১২.৯০ শতক জমি বাদ দিলে এখনো ১ একর ২৪ শতাংশ জমি আইনজীবী সমিতি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। দলিলের আরএস ২৩৪৫নং দাগটি থেকে কোনো জমি লিজ দেওয়া হয়নি। অথচ শাপলা ভবনটি সম্পূর্ণরূপে লিজভুক্ত তফশিলের বাইরে গিয়ে সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন