ফোনে আড়িপাতা রোধে রিটের আদেশ পেছাল
jugantor
রিটের এখতিয়ার প্রশ্নে শুনানি শেষ
ফোনে আড়িপাতা রোধে রিটের আদেশ পেছাল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আড়িপাতা প্রতিরোধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়ার রিট আবেদনের আদেশ আবার পিছিয়েছে।

রিটের এখতিয়ার প্রশ্নে রোববার আবেদনকারী পক্ষের শুনানির পর হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছেন। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বিষয়টি রোববার আদেশের জন্য রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রোববার আদেশের জন্য উঠলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্য দিকে আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিটের এখতিয়ারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে বিষয়টি ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বলেন, চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ওইদিন বক্তব্য দিতে পারবেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন আইনজীবীদের এ রিট মামলা করার এখতিয়ার নেই। সেই প্রশ্নে আজকে আমি আদালতকে সুপ্রিমকোর্টের নয়টি রায় দেখিয়েছি। এই মামলাগুলো আইনজীবীরা করেছিলেন এবং সুপ্রিমকোর্ট সেগুলো গ্রহণ করে নিয়েছেন। আরেকটি বিষয় ছিল রিট করার আগে আবেদনকারীরা বিটিআরসির কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন কিনা। আমরা বলেছি, বিটিআরসিকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। আবেদনকারীরা যদি বিটিআরসিতে নাও যান, তার পরেও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮৬ ধারা অনুযায়ী বিটিআরসি স্ব-উদ্যোগে এসব বিষয় তদন্ত করতে পারে। কিন্তু তারা সেটি করেনি। এই ছিল আমাদের মূল কথা।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন রিট অবেদনকারীদের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, যারা রিট আবেদন করেছেন, তারা আইনজীবী। আবেদনকারীরা ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এ কারণে তাদের এই রিট আবেদন করার ‘আইনগত এখতিয়ার’ নেই। ‘কারও ফোনালাপ ফাঁস হলে তিনি বিটিআরসি আইন অনুযায়ী প্রতিকার চেয়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় আইনেই মামলা করতে পারেন। ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ আছে। প্রতিকার পাওয়ার সুনির্দিষ্ট আইন থাকায় জনস্বার্থে রিট আবেদন করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া যাদের ফোনলাপ ফাঁস হয়েছে তাদের কেউ এসে কিন্তু রিট আবেদনটি করেননি। কেউ এসে বলেননি, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়েছে।’

বিটিআরসির আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই-রাকিব সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য সমর্থন করে বলেছিলেন, ‘আইনে যদি প্রতিকারের সুযোগ না থাকত তবে সংবিধান অনুযায়ী এই রিট আবেদন করার সুযোগ আছে। যেহেতু আইনে প্রতিকারের সুনির্দিষ্ট বিধান আছে, তাই রিট আবেদন করার সুযোগ নেই।’

আড়িপাতা রোধে ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনা কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ১০ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিমকোর্টের ১০ জন আইনজীবী। এর অগে গত ২২ জুন বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশ দিয়েছিলেন তারা। ফোনে আড়িপাতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই নোটিশে। সে নোটিশের জবাব না পাওয়ায় তারা রিট আবেদনটি করেন।

রিটে ২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত আড়িপাতার ২০টি ঘটনা তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ফোনালাপ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত আইনজীবী মওদূদ আহমদ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ, ভিকারুননিসা নূন কলেজের অধ্যক্ষের ফোনালাপ, মামুনুল হকের ফোনালাপ, যশোর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদারের ফোনালাপ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ফোনালাপ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ফোনালাপ রয়েছে। রিটে আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

রিটের এখতিয়ার প্রশ্নে শুনানি শেষ

ফোনে আড়িপাতা রোধে রিটের আদেশ পেছাল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আড়িপাতা প্রতিরোধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়ার রিট আবেদনের আদেশ আবার পিছিয়েছে।

রিটের এখতিয়ার প্রশ্নে রোববার আবেদনকারী পক্ষের শুনানির পর হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছেন। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বিষয়টি রোববার আদেশের জন্য রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রোববার আদেশের জন্য উঠলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্য দিকে আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিটের এখতিয়ারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে বিষয়টি ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বলেন, চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ওইদিন বক্তব্য দিতে পারবেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন আইনজীবীদের এ রিট মামলা করার এখতিয়ার নেই। সেই প্রশ্নে আজকে আমি আদালতকে সুপ্রিমকোর্টের নয়টি রায় দেখিয়েছি। এই মামলাগুলো আইনজীবীরা করেছিলেন এবং সুপ্রিমকোর্ট সেগুলো গ্রহণ করে নিয়েছেন। আরেকটি বিষয় ছিল রিট করার আগে আবেদনকারীরা বিটিআরসির কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন কিনা। আমরা বলেছি, বিটিআরসিকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। আবেদনকারীরা যদি বিটিআরসিতে নাও যান, তার পরেও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮৬ ধারা অনুযায়ী বিটিআরসি স্ব-উদ্যোগে এসব বিষয় তদন্ত করতে পারে। কিন্তু তারা সেটি করেনি। এই ছিল আমাদের মূল কথা।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন রিট অবেদনকারীদের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, যারা রিট আবেদন করেছেন, তারা আইনজীবী। আবেদনকারীরা ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এ কারণে তাদের এই রিট আবেদন করার ‘আইনগত এখতিয়ার’ নেই। ‘কারও ফোনালাপ ফাঁস হলে তিনি বিটিআরসি আইন অনুযায়ী প্রতিকার চেয়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় আইনেই মামলা করতে পারেন। ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ আছে। প্রতিকার পাওয়ার সুনির্দিষ্ট আইন থাকায় জনস্বার্থে রিট আবেদন করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া যাদের ফোনলাপ ফাঁস হয়েছে তাদের কেউ এসে কিন্তু রিট আবেদনটি করেননি। কেউ এসে বলেননি, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়েছে।’

বিটিআরসির আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই-রাকিব সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য সমর্থন করে বলেছিলেন, ‘আইনে যদি প্রতিকারের সুযোগ না থাকত তবে সংবিধান অনুযায়ী এই রিট আবেদন করার সুযোগ আছে। যেহেতু আইনে প্রতিকারের সুনির্দিষ্ট বিধান আছে, তাই রিট আবেদন করার সুযোগ নেই।’

আড়িপাতা রোধে ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনা কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ১০ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিমকোর্টের ১০ জন আইনজীবী। এর অগে গত ২২ জুন বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশ দিয়েছিলেন তারা। ফোনে আড়িপাতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই নোটিশে। সে নোটিশের জবাব না পাওয়ায় তারা রিট আবেদনটি করেন।

রিটে ২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত আড়িপাতার ২০টি ঘটনা তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ফোনালাপ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত আইনজীবী মওদূদ আহমদ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ, ভিকারুননিসা নূন কলেজের অধ্যক্ষের ফোনালাপ, মামুনুল হকের ফোনালাপ, যশোর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদারের ফোনালাপ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ফোনালাপ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ফোনালাপ রয়েছে। রিটে আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন