নাজিরপুরে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে হতাশ গ্রাহকরা
jugantor
এহসান গ্রুপের প্রতারণা
নাজিরপুরে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে হতাশ গ্রাহকরা

  নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের এহসান গ্রুপের কাছে আমানত রাখা শতকোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নাজিরপুরের সহস্রাধিক গ্রাহক চরম হতাশায় ভুগছেন। আমানত হিসাবে রাখা এই গ্রাহকদের অনেকেই মোটা অংকের মুনাফা পাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করে বা শেষ সম্বল হারিয়ে সেখানে টাকা জমা রেখেছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৌদি আরব ফেরত মো. ফারুক হোসেন খান জানান, মাসে প্রতি এক লাখ টাকায় দুই হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার প্রলোভনে তার বিদেশ থেকে আয়ের সব টাকাই স্থানীয় এহসান কর্মী সোহাগ খানের মাধ্যমে আমানত হিসাবে রাখেন। কয়েক মাস লাভের টাকা দিলেও প্রায় দুই বছর লাভের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। একই অভিযোগ করেন উপজেলার সদর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. পান্নু ফরাজী। তিনি ও তার ভাইয়ের ছয় লাখ টাকা স্থানীয় কর্মী মো. সাইদুর রহমানের মাধ্যমে জমা রাখেন। সম্প্রতি আমানতের বিপরীতে আসা লাভ দেওয়া বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর মাধ্যমে পিরোজপুর অফিসে যান। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রাগীব হাসান তার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি তা দেননি।

এ ব্যাপারে এহসানের কর্মী মো. সাইদুর রহমান জানান, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়দের নামে ওই এহসানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আমানত রাখেন, যা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলা প্রায় অর্ধশত কর্মীর মাধ্যমে সহস াধিক গ্রাহকের শতকোটি টাকা আমানত হিসাবে গ্রহণ করে ওই সংস্থাটি। আমানত রাখার প্রথম দিকে কয়েক মাস মুনাফার টাকা দিলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটি ২২ হাজার কর্মীর মাধ্যমে পিরোজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহকের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

নাজিরপুর থানার ওসি মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির চেয়ারম্যান রাগিব হাসান ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এহসান গ্রুপের প্রতারণা

নাজিরপুরে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে হতাশ গ্রাহকরা

 নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের এহসান গ্রুপের কাছে আমানত রাখা শতকোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নাজিরপুরের সহস্রাধিক গ্রাহক চরম হতাশায় ভুগছেন। আমানত হিসাবে রাখা এই গ্রাহকদের অনেকেই মোটা অংকের মুনাফা পাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করে বা শেষ সম্বল হারিয়ে সেখানে টাকা জমা রেখেছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৌদি আরব ফেরত মো. ফারুক হোসেন খান জানান, মাসে প্রতি এক লাখ টাকায় দুই হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার প্রলোভনে তার বিদেশ থেকে আয়ের সব টাকাই স্থানীয় এহসান কর্মী সোহাগ খানের মাধ্যমে আমানত হিসাবে রাখেন। কয়েক মাস লাভের টাকা দিলেও প্রায় দুই বছর লাভের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। একই অভিযোগ করেন উপজেলার সদর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. পান্নু ফরাজী। তিনি ও তার ভাইয়ের ছয় লাখ টাকা স্থানীয় কর্মী মো. সাইদুর রহমানের মাধ্যমে জমা রাখেন। সম্প্রতি আমানতের বিপরীতে আসা লাভ দেওয়া বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর মাধ্যমে পিরোজপুর অফিসে যান। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রাগীব হাসান তার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি তা দেননি।

এ ব্যাপারে এহসানের কর্মী মো. সাইদুর রহমান জানান, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়দের নামে ওই এহসানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আমানত রাখেন, যা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলা প্রায় অর্ধশত কর্মীর মাধ্যমে সহস াধিক গ্রাহকের শতকোটি টাকা আমানত হিসাবে গ্রহণ করে ওই সংস্থাটি। আমানত রাখার প্রথম দিকে কয়েক মাস মুনাফার টাকা দিলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটি ২২ হাজার কর্মীর মাধ্যমে পিরোজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহকের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

নাজিরপুর থানার ওসি মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির চেয়ারম্যান রাগিব হাসান ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন