শ্রমিক লীগের বিষয়ে আসছে কঠোর সিদ্ধান্ত
jugantor
ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড
শ্রমিক লীগের বিষয়ে আসছে কঠোর সিদ্ধান্ত
শীর্ষ নেতাদের বিরোধে বিপর্যস্ত সংগঠন

  হাসিবুল হাসান  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীর্ষনেতাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে বিপর্যস্ত জাতীয় শ্রমিক লীগ। সংগঠনের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু বসেন না এক মঞ্চে। একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানও করেন না তারা। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ এই ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের এমন বেহালে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ইতোমধ্যে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছে। তবুও কমেনি দূরত্ব। ফলে শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। মিলেমিশে না চলে কমিটি ভেঙেও দেওয়া হতে পারে। একাধিক দলীয় সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের সঙ্গে বিভক্ত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য নেতারাও। এক গ্রুপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে, দাওয়াত পান না অন্যরা। নিজেদের বিভক্তির কারণে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানও করতে পারেনি সংগঠনের কোনো অংশই। আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন মাঠে থাকলেও করোনার সময়েও দেখা যায়নি শ্রমিক লীগকে। জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুরুই করতে পারেনি তৃণমূল সম্মেলনের কাজ। সাংগঠনিক ইউনিট কমিটিগুলোও প্রায় সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোথাও রয়েছে একাধিক কমিটি।
এর আগে এসব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার নেতাদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সর্বশেষ শনিবার সংগঠনটির শীর্ষনেতাদের ডেকে নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় শ্রমিক লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সভায় ওবায়দুল কাদের শ্রমিক লীগের শীর্ষ দুই নেতাকে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশনা দেন। দলীয় সভাপতির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের সতর্ক করে বলেন, একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে না পারলে নেত্রী কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ রোববার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রী অসুস্থতার কারণে শনিবার উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই সেখানে খুব বেশি কথা হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে এক সপ্তাহ পরে কাদের ভাই (ওবায়দুল কাদের) আবার মিটিং ডাকবেন। শ্রমিক লীগের মধ্যে দুটি গ্রুপ হয়ে গেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক তিনি নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) নির্দেশে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি তাদের নিয়ে বসবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে ফজলুল হক মন্টুকে সভাপতি, আ জ ম খসরুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় ১১ মাস পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ওই বছরের ২০ নভেম্বর সভাপতি মন্টু মারা যান। পরে সহসভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রয়াত ফজলুল হক মন্টুর সময় থেকেই অনেকটা প্রকাশ্যেই শ্রমিক লীগের বিভক্তি ছিল। গত বছর সংগঠনের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফজলুল হক মন্টু ও আ জ ম খসরু আলাদা কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ফজলুল হক মন্টুর জায়গায় নুর কুতুব আলম মান্নান আসার পরও শীর্ষ দুই নেতার বিভক্তি প্রকাশ্যেই ছিল। দুই নেতা চলেন আলাদাভাবে। একসঙ্গে বসেনও না। শোকের মাসে দুপক্ষ আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষেধে তা আর করতে পারেনি।
জানতে চাইলে নুর কুতুব আলম মান্নান যুগান্তরকে বলেন, শনিবার তেমন কোনো কথা হয়নি। আগামী সপ্তাহে আবার আমাদের নিয়ে বসার কথা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি রাজশাহী। আমি একা। আমি প্রেসিডেন্ট হয়েছি, সেটার একটা বিষয় তো আছেই। আবার ডাকলে কি নিয়ে আলোচনা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখনই বলতে পারছি না। যখন বলবেন তখন জানতে পারব।
সভাপতির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি আছে কিনা জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম খসরু যুগান্তরকে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি তো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও থাকে। তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগ থেকে এসেছি, জেল খেটেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। প্রচার সম্পাদক থেকে নেত্রী আমাকে সাধারণ সম্পাদক করেছেন। আমি যদি নেত্রীর জন্য ১০টা লোক তৈরি করতে পারি এটাই আমার বড় কাজ হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো অন্যায় বা কোনো কমিটি বাণিজ্য আমার হাত দিয়ে হবে না।

ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড

শ্রমিক লীগের বিষয়ে আসছে কঠোর সিদ্ধান্ত

শীর্ষ নেতাদের বিরোধে বিপর্যস্ত সংগঠন
 হাসিবুল হাসান 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীর্ষনেতাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে বিপর্যস্ত জাতীয় শ্রমিক লীগ। সংগঠনের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু বসেন না এক মঞ্চে। একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানও করেন না তারা। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ এই ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের এমন বেহালে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ইতোমধ্যে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছে। তবুও কমেনি দূরত্ব। ফলে শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। মিলেমিশে না চলে কমিটি ভেঙেও দেওয়া হতে পারে। একাধিক দলীয় সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের সঙ্গে বিভক্ত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য নেতারাও। এক গ্রুপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে, দাওয়াত পান না অন্যরা। নিজেদের বিভক্তির কারণে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানও করতে পারেনি সংগঠনের কোনো অংশই। আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন মাঠে থাকলেও করোনার সময়েও দেখা যায়নি শ্রমিক লীগকে। জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুরুই করতে পারেনি তৃণমূল সম্মেলনের কাজ। সাংগঠনিক ইউনিট কমিটিগুলোও প্রায় সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোথাও রয়েছে একাধিক কমিটি।
এর আগে এসব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার নেতাদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সর্বশেষ শনিবার সংগঠনটির শীর্ষনেতাদের ডেকে নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় শ্রমিক লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সভায় ওবায়দুল কাদের শ্রমিক লীগের শীর্ষ দুই নেতাকে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশনা দেন। দলীয় সভাপতির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের সতর্ক করে বলেন, একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে না পারলে নেত্রী কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ রোববার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রী অসুস্থতার কারণে শনিবার উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই সেখানে খুব বেশি কথা হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে এক সপ্তাহ পরে কাদের ভাই (ওবায়দুল কাদের) আবার মিটিং ডাকবেন। শ্রমিক লীগের মধ্যে দুটি গ্রুপ হয়ে গেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক তিনি নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) নির্দেশে উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি তাদের নিয়ে বসবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে ফজলুল হক মন্টুকে সভাপতি, আ জ ম খসরুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় ১১ মাস পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ওই বছরের ২০ নভেম্বর সভাপতি মন্টু মারা যান। পরে সহসভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রয়াত ফজলুল হক মন্টুর সময় থেকেই অনেকটা প্রকাশ্যেই শ্রমিক লীগের বিভক্তি ছিল। গত বছর সংগঠনের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফজলুল হক মন্টু ও আ জ ম খসরু আলাদা কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ফজলুল হক মন্টুর জায়গায় নুর কুতুব আলম মান্নান আসার পরও শীর্ষ দুই নেতার বিভক্তি প্রকাশ্যেই ছিল। দুই নেতা চলেন আলাদাভাবে। একসঙ্গে বসেনও না। শোকের মাসে দুপক্ষ আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষেধে তা আর করতে পারেনি।
জানতে চাইলে নুর কুতুব আলম মান্নান যুগান্তরকে বলেন, শনিবার তেমন কোনো কথা হয়নি। আগামী সপ্তাহে আবার আমাদের নিয়ে বসার কথা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি রাজশাহী। আমি একা। আমি প্রেসিডেন্ট হয়েছি, সেটার একটা বিষয় তো আছেই। আবার ডাকলে কি নিয়ে আলোচনা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখনই বলতে পারছি না। যখন বলবেন তখন জানতে পারব।
সভাপতির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি আছে কিনা জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম খসরু যুগান্তরকে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি তো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও থাকে। তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগ থেকে এসেছি, জেল খেটেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। প্রচার সম্পাদক থেকে নেত্রী আমাকে সাধারণ সম্পাদক করেছেন। আমি যদি নেত্রীর জন্য ১০টা লোক তৈরি করতে পারি এটাই আমার বড় কাজ হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো অন্যায় বা কোনো কমিটি বাণিজ্য আমার হাত দিয়ে হবে না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন