সংস্থা থেকে সংস্থায় তদন্তভার হস্তান্তরেই সময় পার
jugantor
চট্টগ্রামের ৩ হত্যার তদন্ত
সংস্থা থেকে সংস্থায় তদন্তভার হস্তান্তরেই সময় পার

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারিতে নিহত হন। নগরীর পাঁচলাইশ থানার চকবাজার তেলিপট্টি এলাকার নিজ বাসার গলির মুখে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ছয় বছরেও অঞ্জলী হত্যা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। শুধুু অঞ্জলী হত্যা মামলা নয়; আইনজীবীর স্ত্রী বিবি রহিমা ও স্কুলছাত্রী ইলহাম বিনতে নাছির খুনের রহস্যও দীর্ঘদিনে উদ্ঘাটন হয়নি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় ঘাতকরাও ধরা পড়ছে না। এসব মামলা প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ।

এরপর তদন্তভার যায় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। বর্তমানে মামলাগুলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব মামলার তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

অঞ্জলী রানী হত্যাকাণ্ডের পর তার স্বামী তেজেন্দ্র লাল চৌধুরী নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তেজেন্দ্র চৌধুরী জানান, বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলেও ৬ বছর ধরে মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি কারা, কী কারণে অঞ্জলীকে খুন করেছে- সেটারও ক্লু উদ্ঘাটন করা যায়নি। তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই।

জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তভার যায় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন ইন্সপেক্টর মামলার তদন্ত করে হত্যার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, অঞ্জলী রানী হত্যা মামলার তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো মামলাটির তদন্ত চলছে।

২০১৮ সালের ১ আগস্ট নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়ার নিজ বাসায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ বিবি রহিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক এহতেশামুল পারভেজ সিদ্দিকীর স্ত্রী রহিমা। তাকে খুনের ঘটনায় তার মা বেদুরা বেগম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিন বছরেও কোনো কূল-কিনারা হয়নি। দিন-দুপুরে বাসায় ঢুকে কারা কেন হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যা করল সেটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। থানা পুলিশ ও ডিবি হয়ে বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর মাসুদ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি এ মামলার তদন্তভার পেয়েছি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি।

২০১৮ সালের ২৭ জুন নগরীর বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডের নিজ বাসায় স্কুলছাত্রী ইলহাম বিনতে নাছিরকে গলা কেটে খুন করা হয়। মামলাটি থানা পুলিশ ও ডিবি হয়ে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়ে যাচ্ছেন ইলহামের বাবা নাছির উদ্দিন। তিনি জানান, আমার নিরীহ মেয়েকে কারা কেন হত্যা করল তা জানতে চাই। দোষীদের শাস্তি চাই।

পিবিআইর উপকমিশনার নাইমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, অঞ্জলী রানী ও বিবি রহিমা হত্যা মামলার তদন্ত তারা করছেন। তদন্ত শেষ হলে মামলা দুটি সম্পর্কে জানাতে পারব।

চট্টগ্রামের ৩ হত্যার তদন্ত

সংস্থা থেকে সংস্থায় তদন্তভার হস্তান্তরেই সময় পার

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারিতে নিহত হন। নগরীর পাঁচলাইশ থানার চকবাজার তেলিপট্টি এলাকার নিজ বাসার গলির মুখে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ছয় বছরেও অঞ্জলী হত্যা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। শুধুু অঞ্জলী হত্যা মামলা নয়; আইনজীবীর স্ত্রী বিবি রহিমা ও স্কুলছাত্রী ইলহাম বিনতে নাছির খুনের রহস্যও দীর্ঘদিনে উদ্ঘাটন হয়নি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় ঘাতকরাও ধরা পড়ছে না। এসব মামলা প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ।

এরপর তদন্তভার যায় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। বর্তমানে মামলাগুলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব মামলার তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

অঞ্জলী রানী হত্যাকাণ্ডের পর তার স্বামী তেজেন্দ্র লাল চৌধুরী নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তেজেন্দ্র চৌধুরী জানান, বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলেও ৬ বছর ধরে মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি কারা, কী কারণে অঞ্জলীকে খুন করেছে- সেটারও ক্লু উদ্ঘাটন করা যায়নি। তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই।

জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তভার যায় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন ইন্সপেক্টর মামলার তদন্ত করে হত্যার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, অঞ্জলী রানী হত্যা মামলার তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো মামলাটির তদন্ত চলছে।

২০১৮ সালের ১ আগস্ট নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়ার নিজ বাসায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ বিবি রহিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক এহতেশামুল পারভেজ সিদ্দিকীর স্ত্রী রহিমা। তাকে খুনের ঘটনায় তার মা বেদুরা বেগম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিন বছরেও কোনো কূল-কিনারা হয়নি। দিন-দুপুরে বাসায় ঢুকে কারা কেন হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যা করল সেটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। থানা পুলিশ ও ডিবি হয়ে বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর মাসুদ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি এ মামলার তদন্তভার পেয়েছি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি।

২০১৮ সালের ২৭ জুন নগরীর বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডের নিজ বাসায় স্কুলছাত্রী ইলহাম বিনতে নাছিরকে গলা কেটে খুন করা হয়। মামলাটি থানা পুলিশ ও ডিবি হয়ে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়ে যাচ্ছেন ইলহামের বাবা নাছির উদ্দিন। তিনি জানান, আমার নিরীহ মেয়েকে কারা কেন হত্যা করল তা জানতে চাই। দোষীদের শাস্তি চাই।

পিবিআইর উপকমিশনার নাইমা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, অঞ্জলী রানী ও বিবি রহিমা হত্যা মামলার তদন্ত তারা করছেন। তদন্ত শেষ হলে মামলা দুটি সম্পর্কে জানাতে পারব।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন