কেন্দুয়ায় ধর্ষণের পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শেকলবন্দি
jugantor
কেন্দুয়ায় ধর্ষণের পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শেকলবন্দি

  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচার না পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শেকলবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে এক তরুণীর। গ্রাম্য মাতবররা বিষয়টি মীমাংসার নামে ঘটনা ধামাচাপা দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ যাওয়ার পরও এখনও প্রভাবশালীদের ভয়ে তরুণীর পরিবার অভিযোগ করতে পারছে না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে পার্শ্ববর্তী এক নারীর যোগসাজশে এক যুবক মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে মাতবররা ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করেন।

এ ঘটনার পর থেকেই মেয়েটি ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাই পরিবারের লোকজন বাধ্য হয়ে তাকে এখন শেকলবন্দি করে রেখেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নে। ভুক্তভোগী ও তার মা এবং দুই ভাই নিয়ে কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন।

মেয়েটির মা জানান, আমি পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষে করি আর মাঝেমধ্যে মানুষের বাড়িতে কাজ করি। আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে ললিতা নামে এক নারী আমার মেয়েকে প্রায়ই তাদের বাড়িতে নিয়ে যেত। ঘটনার দিন আমার মেয়ে ওই নারীর বাড়িতে ছিল। তার সহায়তায় ওই রাতে স্থানীয় হানিফ নামে একজন আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে বাড়িতে এলে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। থানায় অভিযোগের কথা জেনে স্থানীয় মাতবররা সালিশের মাধ্যমে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে দেন। পরে অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।

মেয়েটির ছোট ভাই জানান, এলাকার প্রভাবশালী লোকজনের ভয়ে তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাতবরদের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ৮ হাজার টাকা দেয় আমার বোনকে। চিকিৎসা করা হলেও সুস্থ জীবনে ফিরে আসেনি। মাথার যন্ত্রণার কারণে তাকে শেকলবন্দি করে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র (বাসক) কেন্দুয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মামুনুল কবীর খান হলি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর বিচার দাবি করে মেয়েটিকে পুনর্বাসন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ যুগান্তরকে বলেন, ভিকটিম অভিযোগ করবে বলে এখনো অভিযোগ দিচ্ছে না। হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ওই নারীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দুয়ায় ধর্ষণের পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শেকলবন্দি

 কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচার না পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শেকলবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে এক তরুণীর। গ্রাম্য মাতবররা বিষয়টি মীমাংসার নামে ঘটনা ধামাচাপা দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ যাওয়ার পরও এখনও প্রভাবশালীদের ভয়ে তরুণীর পরিবার অভিযোগ করতে পারছে না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে পার্শ্ববর্তী এক নারীর যোগসাজশে এক যুবক মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে মাতবররা ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করেন।

এ ঘটনার পর থেকেই মেয়েটি ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাই পরিবারের লোকজন বাধ্য হয়ে তাকে এখন শেকলবন্দি করে রেখেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নে। ভুক্তভোগী ও তার মা এবং দুই ভাই নিয়ে কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন।

মেয়েটির মা জানান, আমি পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষে করি আর মাঝেমধ্যে মানুষের বাড়িতে কাজ করি। আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে ললিতা নামে এক নারী আমার মেয়েকে প্রায়ই তাদের বাড়িতে নিয়ে যেত। ঘটনার দিন আমার মেয়ে ওই নারীর বাড়িতে ছিল। তার সহায়তায় ওই রাতে স্থানীয় হানিফ নামে একজন আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে বাড়িতে এলে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। থানায় অভিযোগের কথা জেনে স্থানীয় মাতবররা সালিশের মাধ্যমে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে দেন। পরে অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।

মেয়েটির ছোট ভাই জানান, এলাকার প্রভাবশালী লোকজনের ভয়ে তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাতবরদের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ৮ হাজার টাকা দেয় আমার বোনকে। চিকিৎসা করা হলেও সুস্থ জীবনে ফিরে আসেনি। মাথার যন্ত্রণার কারণে তাকে শেকলবন্দি করে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র (বাসক) কেন্দুয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মামুনুল কবীর খান হলি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর বিচার দাবি করে মেয়েটিকে পুনর্বাসন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ যুগান্তরকে বলেন, ভিকটিম অভিযোগ করবে বলে এখনো অভিযোগ দিচ্ছে না। হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ওই নারীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন