গুণে-মানে ভরপুর নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন
jugantor
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
গুণে-মানে ভরপুর নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

  গাজীপুর প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে সুমিষ্ট লাল ও হলুদ পেঁপের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণার ফল নতুন এই পেঁপে গুণে ও মানে ভরপুর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভীর উদ্ভাবিত প্রতিটি গাছে ফলনও বেশ ভালো। প্রতিটি গাছে ৫০-৬০টি পেঁপে ধরে। স্ত্রী গাছের ফলের আকার নাশপাতি আকারের এবং গায়ে লম্বালম্বি দাগ আছে। ফলন হয় হেক্টরপ্রতি ৬০-৭০ টন। এ জাতের পেঁপেতে পেপেইন নিঃসরণ বেশি হয়। পাকা ফলের মিষ্টতা বেশি, ভেতরের রঙ একটিতে গাঢ় হলুদ থেকে গাঢ় কমলা রঙের, অপরটিতে লাল রঙের। পাকা পেঁপেতে যেমন প্রচুর ভিটামিন এ ও সি থাকে তেমনি কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এক প্রকার হজমকারী দ্রব্য যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও খুব উপকারী। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসাবেও খাওয়া যায়।

কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক নাসরীন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, নতুন দুটি জাতেই ফলন ও পুষ্টিমান বেশি। পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করছিলাম। জাত দুটি গাইনাডোইওসিয়াস ধরনের (স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গ বিশিষ্ট গাছ থাকবে)। প্রতিটি গাছেই ফল ধরবে। এ জাতের বীজ জানুয়ারি মাসে বপন করা হয় এবং মার্চে উৎপাদিত চারা রোপণের উত্তম সময়। চারা লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল ধরে। এ জাতের পেঁপেতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও অনেক বেশি। তিনি বলেন, ৩২ লিঙ্গের গাছ থাকলেও পুরুষ, স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে আমরা শুধু স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের পেঁপের জাত উন্নয়নে কাজ করছি। স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছে ফল ধরে। উভয়লিঙ্গ গাছের ফল লম্বাটে হয়। প্রতিটি পেঁপের ওজন ১.৫-৩.৫ কেজি।

সূত্র জানায়, বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে দেশের চাষিরা পরপরাগায়িত বীজ ব্যবহার করেন। সাধারণ পেঁপের বীজ থেকে উৎপাদিত চারার ৫০ শতাংশই পুরুষ গাছ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই অধিক ফলবান গাছ পাওয়ার আশায় পেঁপে চাষিরা এ ক্ষেত্রে প্রতি মাদায় বা ভিটেয় ৩-৪টি চারা একত্রে রোপণ করে থাকেন। ফুল আসার পর পুরুষ গাছ কেটে বাদ দেওয়ার পরে জমিতে রাখা হয় শুধু স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছ। পুরুষ গাছ মাটি থেকে পুষ্টি ও সার গ্রহণ করায় অন্য গাছেও সার-পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এতে এক দিকে যেমন ফলন কমে যায় তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, পেঁপে হচ্ছে আমাদের খুব প্রিয় ফল। এর পুষ্টিমান খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পেঁপে গাছে যাতে ফলন হয়, সে ব্যাপারে গবেষকরা কাজ করছেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুষ্টিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পুষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের পেঁপের এ জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কৃষকরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গুণে-মানে ভরপুর নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

 গাজীপুর প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে সুমিষ্ট লাল ও হলুদ পেঁপের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণার ফল নতুন এই পেঁপে গুণে ও মানে ভরপুর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভীর উদ্ভাবিত প্রতিটি গাছে ফলনও বেশ ভালো। প্রতিটি গাছে ৫০-৬০টি পেঁপে ধরে। স্ত্রী গাছের ফলের আকার নাশপাতি আকারের এবং গায়ে লম্বালম্বি দাগ আছে। ফলন হয় হেক্টরপ্রতি ৬০-৭০ টন। এ জাতের পেঁপেতে পেপেইন নিঃসরণ বেশি হয়। পাকা ফলের মিষ্টতা বেশি, ভেতরের রঙ একটিতে গাঢ় হলুদ থেকে গাঢ় কমলা রঙের, অপরটিতে লাল রঙের। পাকা পেঁপেতে যেমন প্রচুর ভিটামিন এ ও সি থাকে তেমনি কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এক প্রকার হজমকারী দ্রব্য যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও খুব উপকারী। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসাবেও খাওয়া যায়।

কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক নাসরীন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, নতুন দুটি জাতেই ফলন ও পুষ্টিমান বেশি। পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করছিলাম। জাত দুটি গাইনাডোইওসিয়াস ধরনের (স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গ বিশিষ্ট গাছ থাকবে)। প্রতিটি গাছেই ফল ধরবে। এ জাতের বীজ জানুয়ারি মাসে বপন করা হয় এবং মার্চে উৎপাদিত চারা রোপণের উত্তম সময়। চারা লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল ধরে। এ জাতের পেঁপেতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও অনেক বেশি। তিনি বলেন, ৩২ লিঙ্গের গাছ থাকলেও পুরুষ, স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে আমরা শুধু স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের পেঁপের জাত উন্নয়নে কাজ করছি। স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছে ফল ধরে। উভয়লিঙ্গ গাছের ফল লম্বাটে হয়। প্রতিটি পেঁপের ওজন ১.৫-৩.৫ কেজি।

সূত্র জানায়, বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে দেশের চাষিরা পরপরাগায়িত বীজ ব্যবহার করেন। সাধারণ পেঁপের বীজ থেকে উৎপাদিত চারার ৫০ শতাংশই পুরুষ গাছ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই অধিক ফলবান গাছ পাওয়ার আশায় পেঁপে চাষিরা এ ক্ষেত্রে প্রতি মাদায় বা ভিটেয় ৩-৪টি চারা একত্রে রোপণ করে থাকেন। ফুল আসার পর পুরুষ গাছ কেটে বাদ দেওয়ার পরে জমিতে রাখা হয় শুধু স্ত্রী ও উভয়লিঙ্গের গাছ। পুরুষ গাছ মাটি থেকে পুষ্টি ও সার গ্রহণ করায় অন্য গাছেও সার-পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এতে এক দিকে যেমন ফলন কমে যায় তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, পেঁপে হচ্ছে আমাদের খুব প্রিয় ফল। এর পুষ্টিমান খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পেঁপে গাছে যাতে ফলন হয়, সে ব্যাপারে গবেষকরা কাজ করছেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুষ্টিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পুষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের পেঁপের এ জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কৃষকরাও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন