মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে নগর আ.লীগ
jugantor
চট্টগ্রামে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে নগর আ.লীগ

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। আর এ লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর শুরু হচ্ছে তৃণমূল গোছানোর কাজ। ইউনিট কমিটির সম্মেলন দিয়ে শুরু। এরপর ধাপে ধাপে সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটি করা হবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চলছে পাঁচ বছর আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। ওই কমিটিও সম্মেলনের মাধ্যমে হয়নি, কেন্দ্র থেকে গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। নগর আওয়ামী লীগ সম্মেলনের কমিটির মুখ দেখেছিল প্রায় ১৫ বছর আগে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তুতি শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সম্মেলন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দলের মধ্যে বিভিন্ন নেতাকে ঘিরে সৃষ্ট একাধিক বলয়ের বিরোধের কারণেই এমন সংশয়-সন্দেহ। এর আগেও একাধিকবার সম্মেলনের উদ্যোগ গৃহবিবাদের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। দলের একাধিক নেতা জানান, সম্মেলনের চেষ্টা সফল হবে কী হবে না-এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে বসে না থেকে কাজে হাত দিতে চান তারা। যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নগর কমিটি গঠন করতে কেন্দ্র সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তাই দ্রুত ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সম্মেলন শেষ করতে চান তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি এবং কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দানু মারা যান। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যান মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৩ সালে গঠিত এই কমিটি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল পর্যন্ত। এই হিসাবে ৫ বছর আগেই পার হয়েছে মেয়াদ। থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলোর অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোনো কোনোটির সম্মেলন গত ২২-২৩ বছরেও হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে নগর ও তৃণমূলের কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী হতাশ। পদ-পদবি না পেয়ে সম্ভাবনাময় নেতাকর্মীদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগেই ইতি ঘটছে তাদের রাজনৈতিক জীবনের। নগর কমিটি না হওয়ায় তারা আওয়ামী লীগে আসতে পারছেন না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে অনেকের মনে।

জানা যায়, এর আগে ২০১৯ সালে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের তৎপরতার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে সেই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়। জনশ্র“তি রয়েছে, নগর আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ওই সময় তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ নিয়ে কলহের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

দলীয় সূত্রমতে, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল দীর্ঘদিনের। এখনো একাধিক ধারায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা। একটি অংশ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে পরিচিত। তার মৃত্যুর পরও বলয়টি সক্রিয় রয়েছে। দলের আরেকটি অংশ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। বিভিন্ন থানা,ওয়ার্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো প্রায়ই সংঘাত-সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া আরও কয়েকজন নেতার নিজস্ব বলয় রয়েছে। এলাকাভেদে তাদেরও আছে শক্ত অবস্থান।

একাধিক দলীয় বলয় থাকার কথা স্বীকার করে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো কমিটি করতে গেলে ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এটা তেমন বড় কিছু নয়। রাজনীতিতে বিভিন্ন বলয় থাকবে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে।

চট্টগ্রামে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে নগর আ.লীগ

 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। আর এ লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর শুরু হচ্ছে তৃণমূল গোছানোর কাজ। ইউনিট কমিটির সম্মেলন দিয়ে শুরু। এরপর ধাপে ধাপে সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটি করা হবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চলছে পাঁচ বছর আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। ওই কমিটিও সম্মেলনের মাধ্যমে হয়নি, কেন্দ্র থেকে গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। নগর আওয়ামী লীগ সম্মেলনের কমিটির মুখ দেখেছিল প্রায় ১৫ বছর আগে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তুতি শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সম্মেলন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দলের মধ্যে বিভিন্ন নেতাকে ঘিরে সৃষ্ট একাধিক বলয়ের বিরোধের কারণেই এমন সংশয়-সন্দেহ। এর আগেও একাধিকবার সম্মেলনের উদ্যোগ গৃহবিবাদের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। দলের একাধিক নেতা জানান, সম্মেলনের চেষ্টা সফল হবে কী হবে না-এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে বসে না থেকে কাজে হাত দিতে চান তারা। যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নগর কমিটি গঠন করতে কেন্দ্র সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তাই দ্রুত ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সম্মেলন শেষ করতে চান তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি এবং কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দানু মারা যান। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যান মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৩ সালে গঠিত এই কমিটি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল পর্যন্ত। এই হিসাবে ৫ বছর আগেই পার হয়েছে মেয়াদ। থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলোর অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোনো কোনোটির সম্মেলন গত ২২-২৩ বছরেও হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে নগর ও তৃণমূলের কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী হতাশ। পদ-পদবি না পেয়ে সম্ভাবনাময় নেতাকর্মীদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগেই ইতি ঘটছে তাদের রাজনৈতিক জীবনের। নগর কমিটি না হওয়ায় তারা আওয়ামী লীগে আসতে পারছেন না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে অনেকের মনে।

জানা যায়, এর আগে ২০১৯ সালে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের তৎপরতার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে সেই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়। জনশ্র“তি রয়েছে, নগর আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ওই সময় তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ নিয়ে কলহের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

দলীয় সূত্রমতে, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল দীর্ঘদিনের। এখনো একাধিক ধারায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা। একটি অংশ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে পরিচিত। তার মৃত্যুর পরও বলয়টি সক্রিয় রয়েছে। দলের আরেকটি অংশ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। বিভিন্ন থানা,ওয়ার্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো প্রায়ই সংঘাত-সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া আরও কয়েকজন নেতার নিজস্ব বলয় রয়েছে। এলাকাভেদে তাদেরও আছে শক্ত অবস্থান।

একাধিক দলীয় বলয় থাকার কথা স্বীকার করে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো কমিটি করতে গেলে ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এটা তেমন বড় কিছু নয়। রাজনীতিতে বিভিন্ন বলয় থাকবে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন