জোর করে স্থাপনা চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই : রেলমন্ত্রী
jugantor
সিআরবিতে প্রতিবাদ
জোর করে স্থাপনা চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই : রেলমন্ত্রী

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামের মানুষ যদি সিআরবিতে কোনো স্থাপনা (হাসপাতাল) না চান তাহলে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার কোনো দরকার নেই। যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে সিআরবিতে আন্দোলন চলছে, তার কোনো দরকার ছিল না। যেভাবে তা মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে এর কোনো অর্থ নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নির্মাণাধীন রেললাইনের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি করেন রেলমন্ত্রী। এখানে তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

রেলমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগ দিয়ে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে সেটার ভিত্তি কতটুকু আমাদের যাচাই-বাছাই করার জন্য সময় দিতে হবে। আন্দোলন করার আগে যদি এ বিষয়ে রেলওয়েকে বা সরকারের উচ্চপর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দরখাস্ত দেওয়া হতো তবে তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কয়েকদিন আগে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অথচ এর পূর্বেই আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পেপার-পত্রিকায় এসব দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কী নিয়ে আন্দোলন তা আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ের কাছে এর আগে জানানো হয়নি। মন্ত্রীর বরাবরেও কোনো দরখাস্ত করা হয়নি, আমাদের জিএম সাহেব আছেন তার বরাবরেও করা হয়নি। ডিজি সাহেবের কাছে কোনো দরখাস্ত করা হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও কোনো দরখাস্ত দেয়া হয়নি। উনারা দরখাস্ত বা অভিযোগটি দেয়ার পর জোর করে হাসপাতাল নির্মাণ করলে তখন আন্দোলন করতেন। এখন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি এখন খতিয়ে দেখব। রেলমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে তথ্যগত কোনো ভুল হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার দরকার আছে। সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যতগুলো প্রকল্প হচ্ছে তার অন্তত ৩০ শতাংশ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে করা। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। তারই আওতায় সিআরবিতে হাসপাতাল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে এটি নির্মাণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তখন কেউ আপত্তি তোলেননি।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে ১৮ শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শন : সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চট্টগ্রামের ১৮ শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে চলছে প্রদর্শনী। শিরীষতলা সংলগ্ন সড়কের পাশে থরে থরে সাজিয়ে রাাখা হয়েছে এসব চিত্রকর্ম। তিন দিনব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনের শেষ দিন আজ। এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ২৩টি শিল্পকর্ম। ৮ সেপ্টেম্বর এ আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন ও কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন। ভাস্কর অলক রায়ের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন-শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর, খাজা কাইয়ুম, নিলুফার চামান, মং মং সো, শতাব্দী সোম, জয়তু চাকমা, জাহেদ এ চৌধুরী, জয়দেব রোয়াজা, জিহান করিম, সঞ্জীব বড়ুয়া, রাসেল কান্তি দাশ, শারদ দাশ, সঞ্জীব দত্ত, সুব্রত দাশ, সঞ্জয় দাশ, তাসাদ্দুক হোসেন দুলু, মামুর আহসান মাহতাব, মো. জয়নাল আবেদীন আজাদ, সঞ্জয় সরকার, শ্রীকান্ত আচার্য্য ও এসএম রিয়াদ প্রমুখ।

নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের ব্যানারে চলমান কর্মসূচিতে শুক্রবার বক্তারা বলেন, সিআরবিকে সেন্ট্রাল পার্ক হিসাবে দেখতে চায় চট্টগ্রামের মানুষ। মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে সিআরবি আÍপ্রকাশ করবে, সংকুচিত করতে দেয়া হবে না। চলে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি। নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলসহ নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সিআরবিতে প্রতিবাদ

জোর করে স্থাপনা চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই : রেলমন্ত্রী

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামের মানুষ যদি সিআরবিতে কোনো স্থাপনা (হাসপাতাল) না চান তাহলে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার কোনো দরকার নেই। যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে সিআরবিতে আন্দোলন চলছে, তার কোনো দরকার ছিল না। যেভাবে তা মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে এর কোনো অর্থ নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নির্মাণাধীন রেললাইনের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি করেন রেলমন্ত্রী। এখানে তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

রেলমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগ দিয়ে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে সেটার ভিত্তি কতটুকু আমাদের যাচাই-বাছাই করার জন্য সময় দিতে হবে। আন্দোলন করার আগে যদি এ বিষয়ে রেলওয়েকে বা সরকারের উচ্চপর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দরখাস্ত দেওয়া হতো তবে তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কয়েকদিন আগে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অথচ এর পূর্বেই আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পেপার-পত্রিকায় এসব দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কী নিয়ে আন্দোলন তা আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ের কাছে এর আগে জানানো হয়নি। মন্ত্রীর বরাবরেও কোনো দরখাস্ত করা হয়নি, আমাদের জিএম সাহেব আছেন তার বরাবরেও করা হয়নি। ডিজি সাহেবের কাছে কোনো দরখাস্ত করা হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও কোনো দরখাস্ত দেয়া হয়নি। উনারা দরখাস্ত বা অভিযোগটি দেয়ার পর জোর করে হাসপাতাল নির্মাণ করলে তখন আন্দোলন করতেন। এখন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি এখন খতিয়ে দেখব। রেলমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে তথ্যগত কোনো ভুল হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার দরকার আছে। সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যতগুলো প্রকল্প হচ্ছে তার অন্তত ৩০ শতাংশ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে করা। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। তারই আওতায় সিআরবিতে হাসপাতাল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে এটি নির্মাণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তখন কেউ আপত্তি তোলেননি।

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে ১৮ শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শন : সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চট্টগ্রামের ১৮ শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে চলছে প্রদর্শনী। শিরীষতলা সংলগ্ন সড়কের পাশে থরে থরে সাজিয়ে রাাখা হয়েছে এসব চিত্রকর্ম। তিন দিনব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনের শেষ দিন আজ। এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ২৩টি শিল্পকর্ম। ৮ সেপ্টেম্বর এ আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন ও কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন। ভাস্কর অলক রায়ের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন-শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর, খাজা কাইয়ুম, নিলুফার চামান, মং মং সো, শতাব্দী সোম, জয়তু চাকমা, জাহেদ এ চৌধুরী, জয়দেব রোয়াজা, জিহান করিম, সঞ্জীব বড়ুয়া, রাসেল কান্তি দাশ, শারদ দাশ, সঞ্জীব দত্ত, সুব্রত দাশ, সঞ্জয় দাশ, তাসাদ্দুক হোসেন দুলু, মামুর আহসান মাহতাব, মো. জয়নাল আবেদীন আজাদ, সঞ্জয় সরকার, শ্রীকান্ত আচার্য্য ও এসএম রিয়াদ প্রমুখ।

নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের ব্যানারে চলমান কর্মসূচিতে শুক্রবার বক্তারা বলেন, সিআরবিকে সেন্ট্রাল পার্ক হিসাবে দেখতে চায় চট্টগ্রামের মানুষ। মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে সিআরবি আÍপ্রকাশ করবে, সংকুচিত করতে দেয়া হবে না। চলে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি। নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলসহ নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন