বরিশালে প্রতিমা নির্মাণে ব্যয় কমল বেকায়দায় শিল্পীরা
jugantor
দুর্গাপূজায় করোনার ধাক্কা
বরিশালে প্রতিমা নির্মাণে ব্যয় কমল বেকায়দায় শিল্পীরা

  বরিশাল ব্যুরো  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ধাক্কা লেগেছে বরিশালের দুর্গাপূজায়। অর্থনেতিক সংকটের কারণে এবার ব্যয় কমিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণ করছেন আয়োজকরা। এ কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। বিগত বছরগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ করে যে অর্থ মিলত তা এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই মন খারাপ মৃৎশিল্পীদের। শুধু প্রতিমা নির্মাণই নয় সাজসজ্জাও হচ্ছে স্বল্প ব্যয়ের মধ্যে। এ সংকটের মধ্যেই গত বছরের তুলনায় এবার বরিশালে ১৭টি পূজা বেশি হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা নির্মাণে মৃৎশিল্পী বা গুণরাজদের ব্যাপক ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

বরিশালের শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজামণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণে নিয়োজিত শিল্পী সুমন পাল বলেন, করোনার আগে প্রতিবারের পূজোতেই প্রতিমা নির্মাণ করতাম ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যে। করোনা পরিস্থিতিতে এ মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। অর্থের অভাবে অনেক স্থানে পূজাই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এখন স্বল্প খরচ নিয়েই প্রতিমা নির্মাণ করতে হচ্ছে। মহানগর পূজামণ্ডপ ফলপট্টির প্রতিমা শিল্পী নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, পূজা কমিটিগুলো তাদের বাজেট কমিয়ে ফেলায় আমরা বিপাকে পড়েছি। কোনো মালামালের দাম তো কমেনি। কিন্তু আমাদের প্রতিমা নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার দে ও সাধারণ সম্পাদক লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু বলেন, আমাদের পূজা সার্বজনীন। ভক্তদের অনুদানের ওপর পূজার ব্যয় নির্ভর করে। করোনাকাল অর্থাৎ গত বছর থেকেই মন্দিরে অনুদান বাজেট অনুযায়ী না আসায় আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে সবকিছু স্বল্প ব্যয়ে করতে হচ্ছে। আলোকসজ্জায় বাজেট থাকে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টাকা। এবার মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। সাজসজ্জায় বাজেট থাকে ১ লাখ টাকা, কিন্তু এবার নামমাত্র সাজসজ্জা করা হবে।

জানা যায়, ১১ অক্টোবর ভোর ৬টা ৫৩ মিনিটে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। সায়ংকালে শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা, ১৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী বিহিত পূজা, ১৪ অক্টোবর মহানবমী বিহিত পূজা এবং ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে এর আগে ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়েই পূজার আভাস শুরু হবে সবার মাঝে। এদিকে পূজা উপলক্ষ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সভা না হওয়ায় পূজা কিভাবে উদ্যাপন করা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ।

বরিশাল মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি তমাল মালাকার বলেন, মহানগরে গত বছরের তুলনায় দুটি পূজা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৪৫টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৬টি ব্যক্তিগত। যে দুটি দুর্গা পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে সেই দুটি নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডে। এছাড়া জেলায় গত বছরের তুলনায় ১৫টি পূজা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯০টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সব পূজা কমিটিগুলোই বাজেট কমিয়ে এনেছে অনুদান কমে যাওয়ায়। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সর্বাÍক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। এবারও হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজামণ্ডপে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘দুর্গাপূজায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এছাড়া পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে মণ্ডপগুলোতে। পূজা আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও নজরদারিতে থাকবে।’

দুর্গাপূজায় করোনার ধাক্কা

বরিশালে প্রতিমা নির্মাণে ব্যয় কমল বেকায়দায় শিল্পীরা

 বরিশাল ব্যুরো 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ধাক্কা লেগেছে বরিশালের দুর্গাপূজায়। অর্থনেতিক সংকটের কারণে এবার ব্যয় কমিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণ করছেন আয়োজকরা। এ কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। বিগত বছরগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ করে যে অর্থ মিলত তা এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই মন খারাপ মৃৎশিল্পীদের। শুধু প্রতিমা নির্মাণই নয় সাজসজ্জাও হচ্ছে স্বল্প ব্যয়ের মধ্যে। এ সংকটের মধ্যেই গত বছরের তুলনায় এবার বরিশালে ১৭টি পূজা বেশি হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা নির্মাণে মৃৎশিল্পী বা গুণরাজদের ব্যাপক ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

বরিশালের শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজামণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণে নিয়োজিত শিল্পী সুমন পাল বলেন, করোনার আগে প্রতিবারের পূজোতেই প্রতিমা নির্মাণ করতাম ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যে। করোনা পরিস্থিতিতে এ মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। অর্থের অভাবে অনেক স্থানে পূজাই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এখন স্বল্প খরচ নিয়েই প্রতিমা নির্মাণ করতে হচ্ছে। মহানগর পূজামণ্ডপ ফলপট্টির প্রতিমা শিল্পী নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, পূজা কমিটিগুলো তাদের বাজেট কমিয়ে ফেলায় আমরা বিপাকে পড়েছি। কোনো মালামালের দাম তো কমেনি। কিন্তু আমাদের প্রতিমা নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার দে ও সাধারণ সম্পাদক লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু বলেন, আমাদের পূজা সার্বজনীন। ভক্তদের অনুদানের ওপর পূজার ব্যয় নির্ভর করে। করোনাকাল অর্থাৎ গত বছর থেকেই মন্দিরে অনুদান বাজেট অনুযায়ী না আসায় আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে সবকিছু স্বল্প ব্যয়ে করতে হচ্ছে। আলোকসজ্জায় বাজেট থাকে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টাকা। এবার মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। সাজসজ্জায় বাজেট থাকে ১ লাখ টাকা, কিন্তু এবার নামমাত্র সাজসজ্জা করা হবে।

জানা যায়, ১১ অক্টোবর ভোর ৬টা ৫৩ মিনিটে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। সায়ংকালে শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা, ১৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী বিহিত পূজা, ১৪ অক্টোবর মহানবমী বিহিত পূজা এবং ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে এর আগে ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়েই পূজার আভাস শুরু হবে সবার মাঝে। এদিকে পূজা উপলক্ষ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সভা না হওয়ায় পূজা কিভাবে উদ্যাপন করা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ।

বরিশাল মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি তমাল মালাকার বলেন, মহানগরে গত বছরের তুলনায় দুটি পূজা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৪৫টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৬টি ব্যক্তিগত। যে দুটি দুর্গা পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে সেই দুটি নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডে। এছাড়া জেলায় গত বছরের তুলনায় ১৫টি পূজা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯০টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সব পূজা কমিটিগুলোই বাজেট কমিয়ে এনেছে অনুদান কমে যাওয়ায়। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সর্বাÍক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। এবারও হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজামণ্ডপে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘দুর্গাপূজায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এছাড়া পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে মণ্ডপগুলোতে। পূজা আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও নজরদারিতে থাকবে।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন