সিলেটে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বদলে দেন জমির মালিকানাও
jugantor
সিলেটে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বদলে দেন জমির মালিকানাও

  সিলেট বু্যুরো  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মস্থল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন সিলেটে। নানা অনিয়ম করেও বহালতবিয়তে আছেন। বদলি হলেও আবার ফিরে আসেন। ভূমির দাগ, খতিয়ান, শ্রেণি, মৌজা বহাল রেখে প্রকৃত মালিকের অজান্তেই জমির মালিকানা বদলে দিতে পারেন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির-২। টাকা পেলে তিনি সবকিছুই সেটেল করে অনিয়মকে নিয়মে রূপ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে হুমায়ুন কবির তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল ও রাজধানী ঢাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আলোচিত বেপরোয়া এই হুমায়ুন কবির সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার। কিন্তু তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে সিলেট জোনের (সদর) সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু তাই নয়, মুদ্রণ ও চূড়ান্ত প্রকাশনা শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখারও তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ কুক্ষিগত করে তিনি দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একাধিকবার বদলি করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সিলেটে বদলি হয়ে আসেন। স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে গড়ে তুলেছেন ভূমিখেকোদের সিন্ডিকেট। এমনকি চলতি বছরের ২৫ আগস্ট সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্র্যালয়ের ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। তার এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। হুমায়ুন কবিরের এসব অভিযোগ তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজালুর রহমান।

এ ছাড়া হুমায়ুন কবিরকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিলেট থেকে রংপুরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর আবারও তিনি সিলেটে বদলি হয়ে আসেন। আদালতের মাধ্যমে হুমায়ুন কবির বদলির স্থগিতাদেশ নিয়ে এলে তার পূর্বের কর্মস্থল সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ জোনের ধর্মপাশায় কাজ করার কথা থাকলেও তিনি সিলেট সদরে কাজ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সিলেট সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ রয়েছে। এ রকম কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়। এ ব্যাপারে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার হুমায়ুন কবির-২ সব অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিলেটে দায়িত্ব পালন করছি। নিয়মবহির্ভূত বদলি হওয়ায় আদালত বদলির আদেশ স্থগিত করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি চক্র ভুয়া নাম-পরিচয়ে এসব অভিযোগ করেছে। এ নামের কাউকে আমি চিনি না। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও সিলেট সদর উপজেলার ছালিয়া মৌজায় কখনো আমি দায়িত্ব পালন করিনি।

সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হুমায়ুন কবির-২ সংযুক্তিতে সিলেটে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশেও দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের স্যার তাকে যেভাবে পদায়ন করে গেছেন তিনি সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সিলেটে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বদলে দেন জমির মালিকানাও

 সিলেট বু্যুরো 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মস্থল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন সিলেটে। নানা অনিয়ম করেও বহালতবিয়তে আছেন। বদলি হলেও আবার ফিরে আসেন। ভূমির দাগ, খতিয়ান, শ্রেণি, মৌজা বহাল রেখে প্রকৃত মালিকের অজান্তেই জমির মালিকানা বদলে দিতে পারেন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির-২। টাকা পেলে তিনি সবকিছুই সেটেল করে অনিয়মকে নিয়মে রূপ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে হুমায়ুন কবির তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল ও রাজধানী ঢাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আলোচিত বেপরোয়া এই হুমায়ুন কবির সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার। কিন্তু তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে সিলেট জোনের (সদর) সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু তাই নয়, মুদ্রণ ও চূড়ান্ত প্রকাশনা শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখারও তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ কুক্ষিগত করে তিনি দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একাধিকবার বদলি করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সিলেটে বদলি হয়ে আসেন। স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে গড়ে তুলেছেন ভূমিখেকোদের সিন্ডিকেট। এমনকি চলতি বছরের ২৫ আগস্ট সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্র্যালয়ের ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। তার এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। হুমায়ুন কবিরের এসব অভিযোগ তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজালুর রহমান।

এ ছাড়া হুমায়ুন কবিরকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিলেট থেকে রংপুরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর আবারও তিনি সিলেটে বদলি হয়ে আসেন। আদালতের মাধ্যমে হুমায়ুন কবির বদলির স্থগিতাদেশ নিয়ে এলে তার পূর্বের কর্মস্থল সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ জোনের ধর্মপাশায় কাজ করার কথা থাকলেও তিনি সিলেট সদরে কাজ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সিলেট সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ রয়েছে। এ রকম কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়। এ ব্যাপারে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার হুমায়ুন কবির-২ সব অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিলেটে দায়িত্ব পালন করছি। নিয়মবহির্ভূত বদলি হওয়ায় আদালত বদলির আদেশ স্থগিত করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি চক্র ভুয়া নাম-পরিচয়ে এসব অভিযোগ করেছে। এ নামের কাউকে আমি চিনি না। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও সিলেট সদর উপজেলার ছালিয়া মৌজায় কখনো আমি দায়িত্ব পালন করিনি।

সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হুমায়ুন কবির-২ সংযুক্তিতে সিলেটে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশেও দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের স্যার তাকে যেভাবে পদায়ন করে গেছেন তিনি সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন