ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতে রাজপথে নামবে
jugantor
কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তে পেশাজীবীদের মত নেবে বিএনপি
ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতে রাজপথে নামবে

  হাবিবুর রহমান খান  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। তবে সর্বাÍক আন্দোলনের আগে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে চায় দলটি। এর অংশ হিসাবে ১ অক্টোবর নতুন ধরনের কর্মসূচি পালন করবেন দলটির নেতারা। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ৩০ ডিসেম্বর বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তাও চলছে। আপাতত বৃহত্তর ঐক্যের পরিবর্তে যুগপৎ আন্দোলনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। বিভিন্ন ইস্যুতে যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলনের একপর্যায়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠবে বলে আশা দলটির নীতিনির্ধারকদের।

আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের কর্মকৌশল চূড়ান্তে এবার পেশাজীবীদের মত নেবে বিএনপির হাইকামান্ড। শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে জাতীয়তাবাদী সমর্থক পেশাজীবীদের মত নেওয়া হবে। দলের সমর্থক আইনজীবীদের

সঙ্গে আজ সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান কার্যালয়ে হবে এ বৈঠক। আগামীকাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন জাতীয় ও বিষয়ভিত্তিক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দল সমর্থিত পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে হবে বৈঠক। সবশেষ ৮ অক্টোবর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপির হাইকমান্ড। এ বৈঠকে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, এর তালিকা করতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি খসড়া তালিকা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করবেন। কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তে এর আগে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দুদফা সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি হাইকমান্ড। এসব বৈঠকে নেতাদের মতামতের সারসংক্ষেপ তৈরি করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তা উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ অক্টোবর বিশেষ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। এ প্রসঙ্গে দলের নেতারা জানান, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সবশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ দিবসটিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। তাছাড়া এখন থেকে সব অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সিনিয়র নেতাদের মৌখিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ দাবির পক্ষে একটা জোরালো মত সৃষ্টি করতে চায় দলের হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, এছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দফায় দফায় গ্যাস ও পানির দাম বাড়ানো, বিভিন্ন খাতে সীমাহীন দুর্নীতিসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এছাড়া আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূতিতে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউনের চিন্তা করা হচ্ছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস আখ্যায়িত করে সমাবেশ করা হতে পারে। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশেই ওইদিন ব্যাপক শোডাউনের ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করেও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। একটি গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা যাতে সোচ্চার হয়, সেই চেষ্টাও চালাবেন তারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ধারাবাহিক বৈঠকে শুধু আমাদের নেতাকর্মী নয়, সারা দেশের মানুষের মধ্যে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আমাদেরকেই বিকল্প শক্তি ভাবে। আমরা কী করছি, সেদিকে তাদের নজর। আমাদের মূল টার্গেট এ সরকারের পতন। কারণ, সরকারের পতন ছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা সব সময় জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সবকিছু করে থাকি। দেশের জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা আন্দোলন করছি। নিঃসন্দেহে এটা জনগণের মৌলিক অধিকার। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমপি-মন্ত্রীরা আজ জনগণকে ধমকায়। যদি তাদের ভোটাধিকার থাকত, তাহলে ধমকানোর সাহস পেত না। এছাড়াও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আমরা রাজপথে সোচ্চার থাকব। তিনি বলেন, আপাতত আমরা যুগপৎ আন্দোলনকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। বাস্তবতা হচ্ছে, এই মুহুর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন সময়ের ব্যাপার। এখন যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন করার পক্ষে আমাদের বেশিরভাগ নেতাও মত দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করে পরে একটা পর্যায়ে আসা যাবে।

কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তে পেশাজীবীদের মত নেবে বিএনপি

ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতে রাজপথে নামবে

 হাবিবুর রহমান খান 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। তবে সর্বাÍক আন্দোলনের আগে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে চায় দলটি। এর অংশ হিসাবে ১ অক্টোবর নতুন ধরনের কর্মসূচি পালন করবেন দলটির নেতারা। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ৩০ ডিসেম্বর বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তাও চলছে। আপাতত বৃহত্তর ঐক্যের পরিবর্তে যুগপৎ আন্দোলনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। বিভিন্ন ইস্যুতে যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলনের একপর্যায়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠবে বলে আশা দলটির নীতিনির্ধারকদের।

আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের কর্মকৌশল চূড়ান্তে এবার পেশাজীবীদের মত নেবে বিএনপির হাইকামান্ড। শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে জাতীয়তাবাদী সমর্থক পেশাজীবীদের মত নেওয়া হবে। দলের সমর্থক আইনজীবীদের

সঙ্গে আজ সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান কার্যালয়ে হবে এ বৈঠক। আগামীকাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন জাতীয় ও বিষয়ভিত্তিক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দল সমর্থিত পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে হবে বৈঠক। সবশেষ ৮ অক্টোবর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপির হাইকমান্ড। এ বৈঠকে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, এর তালিকা করতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি খসড়া তালিকা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করবেন। কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তে এর আগে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দুদফা সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি হাইকমান্ড। এসব বৈঠকে নেতাদের মতামতের সারসংক্ষেপ তৈরি করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তা উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ অক্টোবর বিশেষ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। এ প্রসঙ্গে দলের নেতারা জানান, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সবশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ দিবসটিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। তাছাড়া এখন থেকে সব অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সিনিয়র নেতাদের মৌখিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ দাবির পক্ষে একটা জোরালো মত সৃষ্টি করতে চায় দলের হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, এছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দফায় দফায় গ্যাস ও পানির দাম বাড়ানো, বিভিন্ন খাতে সীমাহীন দুর্নীতিসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এছাড়া আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূতিতে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউনের চিন্তা করা হচ্ছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস আখ্যায়িত করে সমাবেশ করা হতে পারে। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশেই ওইদিন ব্যাপক শোডাউনের ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করেও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। একটি গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা যাতে সোচ্চার হয়, সেই চেষ্টাও চালাবেন তারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ধারাবাহিক বৈঠকে শুধু আমাদের নেতাকর্মী নয়, সারা দেশের মানুষের মধ্যে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আমাদেরকেই বিকল্প শক্তি ভাবে। আমরা কী করছি, সেদিকে তাদের নজর। আমাদের মূল টার্গেট এ সরকারের পতন। কারণ, সরকারের পতন ছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা সব সময় জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সবকিছু করে থাকি। দেশের জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা আন্দোলন করছি। নিঃসন্দেহে এটা জনগণের মৌলিক অধিকার। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এমপি-মন্ত্রীরা আজ জনগণকে ধমকায়। যদি তাদের ভোটাধিকার থাকত, তাহলে ধমকানোর সাহস পেত না। এছাড়াও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আমরা রাজপথে সোচ্চার থাকব। তিনি বলেন, আপাতত আমরা যুগপৎ আন্দোলনকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। বাস্তবতা হচ্ছে, এই মুহুর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন সময়ের ব্যাপার। এখন যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন করার পক্ষে আমাদের বেশিরভাগ নেতাও মত দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করে পরে একটা পর্যায়ে আসা যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন