দুর্নীতির মামলায় মান্নান খান ও স্ত্রীর বিচার শুরু
jugantor
দুর্নীতির মামলায় মান্নান খান ও স্ত্রীর বিচার শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির দুটি মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন রোববার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলা দুটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

আসামিদের পক্ষে আদালতে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন। শুনানির সময় জামিনে থাকা মান্নান খান ও তার স্ত্রী আদালতে হাজির ছিলেন।

বিচার শুরুর আগেই অর্ধ যুগ পার : ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়। আড়াই মাস পর ২২ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর থেকে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি, বিচারক পরিবর্তনসহ নানা কারণে চার্জ গঠন শুনানি বিলম্বিত হয়। হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে সম্পদের মামলাটি বিচারের জন্য ২০১৫ সালের ১১ মে ঢাকা মহানগর আদালতে বদলি হয়। ওই বছরের ১২ জুলাই চার্জশিট আমলে নিয়ে চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। এরপর থেকে এ মামলায়ও নানা কারণে চার্জ গঠন শুনানি বিলম্বিত হয়।

মান্নান খান দম্পতির মামলা ও তদন্ত : ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। অপরদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। দুদিনের মাথায় ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।

এরপর শুরু হয় তদন্ত। আর এ তদন্ত শেষ করতে দুদক প্রায় এক বছর সময় নেয়। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

দুর্নীতির মামলায় মান্নান খান ও স্ত্রীর বিচার শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির দুটি মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন রোববার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলা দুটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

আসামিদের পক্ষে আদালতে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন। শুনানির সময় জামিনে থাকা মান্নান খান ও তার স্ত্রী আদালতে হাজির ছিলেন।

বিচার শুরুর আগেই অর্ধ যুগ পার : ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়। আড়াই মাস পর ২২ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর থেকে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি, বিচারক পরিবর্তনসহ নানা কারণে চার্জ গঠন শুনানি বিলম্বিত হয়। হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে সম্পদের মামলাটি বিচারের জন্য ২০১৫ সালের ১১ মে ঢাকা মহানগর আদালতে বদলি হয়। ওই বছরের ১২ জুলাই চার্জশিট আমলে নিয়ে চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। এরপর থেকে এ মামলায়ও নানা কারণে চার্জ গঠন শুনানি বিলম্বিত হয়।

মান্নান খান দম্পতির মামলা ও তদন্ত : ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। অপরদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। দুদিনের মাথায় ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।

এরপর শুরু হয় তদন্ত। আর এ তদন্ত শেষ করতে দুদক প্রায় এক বছর সময় নেয়। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন