নদী দখল-দূষণ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠানও
jugantor
সিম্পোজিয়ামে বক্তারা
নদী দখল-দূষণ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠানও

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের নদ-নদী দখল-দূষণ ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করছে না, সরকারি প্রতিষ্ঠানও করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নদী দখলকে যৌক্তিক হিসাবেও প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। নদীর জমিতে নেওয়া হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পও। নদী দখল ও পানি দূষণ রোধে এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

এতে জানানো হয়, নদী রক্ষা কমিশন ৪৮টি নদীর ওপর সমীক্ষা করছে। এর মধ্যে ৩০টি নদীর সমীক্ষায় ১৩ হাজারের বেশি দখলদার থাকার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি আবাসন প্রকল্প, এক হাজার ৬৭৭টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান, ১৪৪টি ডকইয়ার্ড, ৫০৮টি ইটভাটা এবং এক হাজার ৭১৫টি পাকা ভবন রয়েছে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নামে দলিল আছে এমন জমিতে সরকারের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। বালু নদীতে সরকারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার খবর পেলাম। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আমরা যখন ঢাকার চারপাশে নদী দখল উচ্ছেদ শুরু করলাম, আমরা কিন্তু দেখিনি কোনটা কার জায়গা। তিনি বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পঁচাত্তরের পর একটি ধারা তৈরি হয়, মানুষ মনে করেছিল অপরাধ করলে বিচার হবে না, নদী দখল করলে বিচার হবে না। অনেকে নদীর পাড়ে গিয়ে ঘর তুলেছেন, অনেকে নদীর পাড়ে কলকারখানা গড়ে তুলেছে। তারা মনে করেছে এটা দখল নয়, এটা আমার প্রাপ্য অধিকার। এই মনে করে কিন্তু অনেকে নদীর পাড় দখল করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অপরাধীদের হাতে ছিল। বাংলাদেশ অপরাধীদের লালন করেছিল কাজেই এ দুরবস্থা শুধু আমাদের নদীর নয়, পুরো বাংলাদেশকে গ্রাস করেছিল। নদী দখল-দূষণ রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সিম্পোজিয়ামের সভাপতি ও নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর নদী দখলের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নদীর জমিতে সাইলো বানানো নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর নদী রক্ষা কমিশনের সঙ্গে রীতিমতো তর্কাতর্কি জুড়ে দিয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একই কাজ করেছে। তবে তারা তর্কে জড়ায়নি। এলজিইডির সেতু নির্মাণের দক্ষতা নেই। অথচ অনেক স্থানে এমনভাবে সেতু নির্মাণ করেছে যে নৌকা চলতে পারে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর সর্বনাশ করেছে। আমি বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় দেখলাম পাটুরিয়া ড্রেজিংয়ের মাত্র ২০০ গজ দূরে স্পয়েল ফেলছে; যার কোনো অর্থ নেই। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, পুরানো ধাচের ড্রেজিং দিয়ে নদী রক্ষা হবে না। ড্রেজিং অথরিটি তৈরি করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে ড্রেজিং অথরিটির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

নদী রক্ষা কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। লোকবল নেই, নেই আইনি কাঠামো। নদী দখলদারদের সাজা দেওয়ার মতো এখতিয়ার এ প্রতিষ্ঠানের নেই। আমরা আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছি।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামরুন নাহার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা

নদী দখল-দূষণ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠানও

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের নদ-নদী দখল-দূষণ ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করছে না, সরকারি প্রতিষ্ঠানও করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নদী দখলকে যৌক্তিক হিসাবেও প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। নদীর জমিতে নেওয়া হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পও। নদী দখল ও পানি দূষণ রোধে এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

এতে জানানো হয়, নদী রক্ষা কমিশন ৪৮টি নদীর ওপর সমীক্ষা করছে। এর মধ্যে ৩০টি নদীর সমীক্ষায় ১৩ হাজারের বেশি দখলদার থাকার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি আবাসন প্রকল্প, এক হাজার ৬৭৭টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান, ১৪৪টি ডকইয়ার্ড, ৫০৮টি ইটভাটা এবং এক হাজার ৭১৫টি পাকা ভবন রয়েছে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নামে দলিল আছে এমন জমিতে সরকারের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। বালু নদীতে সরকারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার খবর পেলাম। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আমরা যখন ঢাকার চারপাশে নদী দখল উচ্ছেদ শুরু করলাম, আমরা কিন্তু দেখিনি কোনটা কার জায়গা। তিনি বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পঁচাত্তরের পর একটি ধারা তৈরি হয়, মানুষ মনে করেছিল অপরাধ করলে বিচার হবে না, নদী দখল করলে বিচার হবে না। অনেকে নদীর পাড়ে গিয়ে ঘর তুলেছেন, অনেকে নদীর পাড়ে কলকারখানা গড়ে তুলেছে। তারা মনে করেছে এটা দখল নয়, এটা আমার প্রাপ্য অধিকার। এই মনে করে কিন্তু অনেকে নদীর পাড় দখল করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অপরাধীদের হাতে ছিল। বাংলাদেশ অপরাধীদের লালন করেছিল কাজেই এ দুরবস্থা শুধু আমাদের নদীর নয়, পুরো বাংলাদেশকে গ্রাস করেছিল। নদী দখল-দূষণ রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সিম্পোজিয়ামের সভাপতি ও নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর নদী দখলের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নদীর জমিতে সাইলো বানানো নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর নদী রক্ষা কমিশনের সঙ্গে রীতিমতো তর্কাতর্কি জুড়ে দিয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একই কাজ করেছে। তবে তারা তর্কে জড়ায়নি। এলজিইডির সেতু নির্মাণের দক্ষতা নেই। অথচ অনেক স্থানে এমনভাবে সেতু নির্মাণ করেছে যে নৌকা চলতে পারে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর সর্বনাশ করেছে। আমি বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় দেখলাম পাটুরিয়া ড্রেজিংয়ের মাত্র ২০০ গজ দূরে স্পয়েল ফেলছে; যার কোনো অর্থ নেই। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, পুরানো ধাচের ড্রেজিং দিয়ে নদী রক্ষা হবে না। ড্রেজিং অথরিটি তৈরি করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে ড্রেজিং অথরিটির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

নদী রক্ষা কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। লোকবল নেই, নেই আইনি কাঠামো। নদী দখলদারদের সাজা দেওয়ার মতো এখতিয়ার এ প্রতিষ্ঠানের নেই। আমরা আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছি।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামরুন নাহার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন