স্রোতের কারণে দেড় মাসেও চালু করা যায়নি ফেরি
jugantor
বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুট
স্রোতের কারণে দেড় মাসেও চালু করা যায়নি ফেরি

  শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

০২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে দেড় মাসেও ফেরি চালু না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। ১৮ আগস্ট থেকে স্রোতের তীব্রতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে ফেরি পারাপারে যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। মাদারীপুর থেকে পণ্যবাহী পরিবহণ রাজধানীতে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে বিকল্প নৌরুট ব্যবহার করায় বেড়েছে খরচের পরিমাণও। এছাড়া সময়ও লাগছে দ্বিগুণের বেশি।

বিআইডব্লিউটিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সোমবার থেকে ফেরি চলাচল শুরু করার চেষ্টা করা হবে। ওই দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ট্রায়াল ফেরি ট্রিপ হবে। পদ্মার স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় জরুরি সেবা পুনরায় চালু করতে ৩০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধি দল পদ্মা বহুমুখী সেতু এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো- আগামীকালের মধ্যে সেতুর পিয়ার নং-২১ বরাবর দেড় কিলোমিটার আপে বয়া পুনঃস্থাপন করতে হবে। ফেরিগুলো শিমুলিয়া হতে বাংলাবাজার যাবে পদ্মা সেতুর পিয়ার নং ১৩-১৫ এর মধ্য দিয়ে, তবে টার্গেট পিয়ার নং ১৪-১৫। বাংলাবাজার হতে শিমুলিয়ায় আসবে পিয়ার নং ১৯-২১ দিয়ে, তবে টার্গেট পিয়ার নং ১৯-২০। শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে স্রোতের তীব্রতার কারণে ফেরি চলাচল হুমকিতে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে আগস্টের ১৮ তারিখ দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে পদ্মায় পানি কমলেও স্রোত না কমায় ফেরি চালু হয়নি। ফেরি বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে চারটি রোরো ফেরিসহ ১৬ থেকে ১৮টি ফেরি চলাচল করত। ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার কয়েকদিন আগে আরও দুটি নতুন ফেরি যুক্ত করা হয়েছিল এই নৌরুটে।

ঢাকা থেকে লঞ্চে পার হয়ে আসা যাত্রীরা বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে দীর্ঘপথ ঘুরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে যেতে হচ্ছে। যা সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় ভোগান্তি।

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাবাজার ঘাটে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ঘাটের ফেরিগুলোকে অন্য রুটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ফেরি নেওয়া হয়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আর ভোলা-চাঁদপুর রুটে একটি ফেরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুটি ফেরিঘাটে এখন সুনসান নীরবতা। শুধু লঞ্চ চালু থাকায় ঘাট এখনো টিকে আছে। ফেরি ঘাটের হোটেল, চায়ের দোকানিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিকল্প কাজ করছেন। কেউ লঞ্চ ঘাটে ভাসমান দোকান করেছেন।

বরিশাল থেকে আসা যাত্রী আবদুস সালাম মিয়া বলেন, সন্ধ্যায় লঞ্চ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় ঢাকা থেকে ফিরতে ঘাটে আসতে সন্ধ্যা হলে ফেরিতে পার হওয়া যেত। এখন উভয় দিকেই সংকট তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে যে করেই হোক ঘাটে পৌঁছানোর তাড়া থাকে।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাট সূত্র জানিয়েছে, পদ্মায় স্রোতের মাত্রা কমে এলেই ফেরি চলাচল শুরু হবে। সার্বক্ষণিক নৌরুট মনিটরিং করা হচ্ছে। নদীর পানি কমলেও স্রোত আশানুরূপ কমেনি।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের একটি সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের ৪ তারিখের দিকে ফেরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আপাতত তেমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই এই নৌরুটে ফেরি চালু হবে।

লঞ্চে পার হওয়া একাধিক যাত্রী জানান, পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতও কমেছে। আগের মতো প্রচণ্ড স্রোত এখন নেই। এরপরও ফেরি কেন চালু হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুট

স্রোতের কারণে দেড় মাসেও চালু করা যায়নি ফেরি

 শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে দেড় মাসেও ফেরি চালু না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। ১৮ আগস্ট থেকে স্রোতের তীব্রতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে ফেরি পারাপারে যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। মাদারীপুর থেকে পণ্যবাহী পরিবহণ রাজধানীতে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে বিকল্প নৌরুট ব্যবহার করায় বেড়েছে খরচের পরিমাণও। এছাড়া সময়ও লাগছে দ্বিগুণের বেশি।

বিআইডব্লিউটিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সোমবার থেকে ফেরি চলাচল শুরু করার চেষ্টা করা হবে। ওই দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ট্রায়াল ফেরি ট্রিপ হবে। পদ্মার স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় জরুরি সেবা পুনরায় চালু করতে ৩০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধি দল পদ্মা বহুমুখী সেতু এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো- আগামীকালের মধ্যে সেতুর পিয়ার নং-২১ বরাবর দেড় কিলোমিটার আপে বয়া পুনঃস্থাপন করতে হবে। ফেরিগুলো শিমুলিয়া হতে বাংলাবাজার যাবে পদ্মা সেতুর পিয়ার নং ১৩-১৫ এর মধ্য দিয়ে, তবে টার্গেট পিয়ার নং ১৪-১৫। বাংলাবাজার হতে শিমুলিয়ায় আসবে পিয়ার নং ১৯-২১ দিয়ে, তবে টার্গেট পিয়ার নং ১৯-২০। শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে স্রোতের তীব্রতার কারণে ফেরি চলাচল হুমকিতে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে আগস্টের ১৮ তারিখ দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে পদ্মায় পানি কমলেও স্রোত না কমায় ফেরি চালু হয়নি। ফেরি বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে চারটি রোরো ফেরিসহ ১৬ থেকে ১৮টি ফেরি চলাচল করত। ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার কয়েকদিন আগে আরও দুটি নতুন ফেরি যুক্ত করা হয়েছিল এই নৌরুটে।

ঢাকা থেকে লঞ্চে পার হয়ে আসা যাত্রীরা বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। রোগী নিয়ে ঢাকা যেতে দীর্ঘপথ ঘুরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে যেতে হচ্ছে। যা সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় ভোগান্তি।

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাবাজার ঘাটে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ঘাটের ফেরিগুলোকে অন্য রুটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ফেরি নেওয়া হয়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আর ভোলা-চাঁদপুর রুটে একটি ফেরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুটি ফেরিঘাটে এখন সুনসান নীরবতা। শুধু লঞ্চ চালু থাকায় ঘাট এখনো টিকে আছে। ফেরি ঘাটের হোটেল, চায়ের দোকানিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিকল্প কাজ করছেন। কেউ লঞ্চ ঘাটে ভাসমান দোকান করেছেন।

বরিশাল থেকে আসা যাত্রী আবদুস সালাম মিয়া বলেন, সন্ধ্যায় লঞ্চ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় ঢাকা থেকে ফিরতে ঘাটে আসতে সন্ধ্যা হলে ফেরিতে পার হওয়া যেত। এখন উভয় দিকেই সংকট তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে যে করেই হোক ঘাটে পৌঁছানোর তাড়া থাকে।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাট সূত্র জানিয়েছে, পদ্মায় স্রোতের মাত্রা কমে এলেই ফেরি চলাচল শুরু হবে। সার্বক্ষণিক নৌরুট মনিটরিং করা হচ্ছে। নদীর পানি কমলেও স্রোত আশানুরূপ কমেনি।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের একটি সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের ৪ তারিখের দিকে ফেরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আপাতত তেমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই এই নৌরুটে ফেরি চালু হবে।

লঞ্চে পার হওয়া একাধিক যাত্রী জানান, পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতও কমেছে। আগের মতো প্রচণ্ড স্রোত এখন নেই। এরপরও ফেরি কেন চালু হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন