বরাদ্দ অপ্রতুল, তদারকি নেই গবেষণা প্রকল্পের
jugantor
বরাদ্দ অপ্রতুল, তদারকি নেই গবেষণা প্রকল্পের

  রাহুল এম ইউসুফ, জাবি  

০৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন গবেষণার জন্য বার্ষিক যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা অপ্রতুল। যে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় তার ফল কোনো জার্নালে প্রকাশ হয় কিনা সে বিষয়ে তদারকি নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে নাম মাত্র গবেষণা প্রকল্পের ফল জমা দিয়েই টাকা উত্তোলন করা হয়। আবার অধিকাংশ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও বিভাগের জার্নালে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেন। যা শুধু পদোন্নতির জন্য কাজে লাগে। কিন্তু সেসব গবেষণা ভালো মানের অনলাইনে না থাকায় অন্যরা এ থেকে উপকৃত হন না বলেও মন্তব্য করেন গবেষকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরে গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে চার কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের মাত্র ১.৫ শতাংশ। এই বাজেটের অধীনে এ সেশনে মোট ৩৮১টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদে ৬৯টি, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদে ১০০টি, কলা ও মানবিকী অনুষদে ১০৬টি, জীববিজ্ঞান অনুষদে ৮৫টি এবং বিজনেস অনুষদ ও আইবিএজেই-তে ২১টিসহ মোট ৩৮১টি প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৮২টি প্রকল্পে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৬৪টি প্রকল্পে তিন কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষকদের কাছে বার্ষিক বরাদ্দের অধীনে প্রকল্পের চাহিদা আহবান করা হয়। শিক্ষকদের গবেষণার প্রস্তাবে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক বরাদ্দের টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও তিন কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রত্যেক শিক্ষক গবেষণার জন্য ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা করে বরাদ্দ পান। চলতি সেশনে গবেষণায় বরাদ্দ এক কোটি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রত্যেক প্রকল্পের বিপরীতে শিক্ষকরা প্রায় এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাবেন।

কিন্তু ভালো মানের গবেষণা বাস্তবায়নে এই টাকা খুবই অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম মোজাম্মল হল যুগান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যে গবেষণা বরাদ্দ দেয় সেটি নিতান্তই অপ্রতুল। এই টাকায় ভালো মানের প্রোপজলের কিছু ডাটা (তথ্য) সংগ্রহ করা যায়। সম্পূর্ণ ডাটাও কালেকশন করা যায় না। ফলে এই অর্থের বিপরীতে মানসম্পন্ন গবেষণা করা সম্ভব হয় না।’

তবে গবেষকরা বলছেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধিত হয় যখন সেটি ভালো মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়।

কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে কোনো তদারকি করা হয় না। গবেষণা শেষে নির্দিষ্ট তারিখে একটি সেমিনার হয়। সেখানে উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্প শেষ। এরপর বরাদ্দের নির্দিষ্ট টাকা শিক্ষকরা পেয়ে যান। কিন্তু এরপর ওই গবেষণা প্রকল্পটি কোথাও পাবলিশ হলো কিনা সেটি তদারকির নিয়ম নেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে এসব গবেষণা ভালো মানের জার্নালে প্রকাশ না হলে প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের ফলাফল পাবলিকেশন করল কিনা সেটা তদারকি করা হয় না ঠিকই, তবে শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে এসব গবেষণাকর্ম বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের চেষ্টা করেন।’ তিনি বলেন, আমাদের যে বরাদ্দ তাতে ভালো মানের গবেষণা করা যায় না। তবে শিক্ষকরা স্বউদ্যোগে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করে তা পাবলিশ করেন।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থবিজ্ঞানী ড. এ এ মামুন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের যে বরাদ্দ তাতে সত্যিকার অর্থে গবেষণা করা যায় না। ফলে এই বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে আসে না। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় যে বরাদ্দ দেয় সেটা দিয়ে কিছু কাজ হয়। একেবারে বসে না থেকে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার জন্য শিক্ষকরা তাদের এই বরাদ্দ দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে যে গবেষণা হয় তা আন্তর্জাতিক মানের হয় এবং ভালো মানের পাবলিকেশনও করেন শিক্ষকরা।

বরাদ্দ অপ্রতুল, তদারকি নেই গবেষণা প্রকল্পের

 রাহুল এম ইউসুফ, জাবি 
০৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন গবেষণার জন্য বার্ষিক যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা অপ্রতুল। যে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় তার ফল কোনো জার্নালে প্রকাশ হয় কিনা সে বিষয়ে তদারকি নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে নাম মাত্র গবেষণা প্রকল্পের ফল জমা দিয়েই টাকা উত্তোলন করা হয়। আবার অধিকাংশ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও বিভাগের জার্নালে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেন। যা শুধু পদোন্নতির জন্য কাজে লাগে। কিন্তু সেসব গবেষণা ভালো মানের অনলাইনে না থাকায় অন্যরা এ থেকে উপকৃত হন না বলেও মন্তব্য করেন গবেষকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরে গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে চার কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের মাত্র ১.৫ শতাংশ। এই বাজেটের অধীনে এ সেশনে মোট ৩৮১টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদে ৬৯টি, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদে ১০০টি, কলা ও মানবিকী অনুষদে ১০৬টি, জীববিজ্ঞান অনুষদে ৮৫টি এবং বিজনেস অনুষদ ও আইবিএজেই-তে ২১টিসহ মোট ৩৮১টি প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৮২টি প্রকল্পে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৬৪টি প্রকল্পে তিন কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষকদের কাছে বার্ষিক বরাদ্দের অধীনে প্রকল্পের চাহিদা আহবান করা হয়। শিক্ষকদের গবেষণার প্রস্তাবে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক বরাদ্দের টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও তিন কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রত্যেক শিক্ষক গবেষণার জন্য ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা করে বরাদ্দ পান। চলতি সেশনে গবেষণায় বরাদ্দ এক কোটি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রত্যেক প্রকল্পের বিপরীতে শিক্ষকরা প্রায় এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাবেন।

কিন্তু ভালো মানের গবেষণা বাস্তবায়নে এই টাকা খুবই অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম মোজাম্মল হল যুগান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যে গবেষণা বরাদ্দ দেয় সেটি নিতান্তই অপ্রতুল। এই টাকায় ভালো মানের প্রোপজলের কিছু ডাটা (তথ্য) সংগ্রহ করা যায়। সম্পূর্ণ ডাটাও কালেকশন করা যায় না। ফলে এই অর্থের বিপরীতে মানসম্পন্ন গবেষণা করা সম্ভব হয় না।’

তবে গবেষকরা বলছেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধিত হয় যখন সেটি ভালো মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়।

কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে কোনো তদারকি করা হয় না। গবেষণা শেষে নির্দিষ্ট তারিখে একটি সেমিনার হয়। সেখানে উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্প শেষ। এরপর বরাদ্দের নির্দিষ্ট টাকা শিক্ষকরা পেয়ে যান। কিন্তু এরপর ওই গবেষণা প্রকল্পটি কোথাও পাবলিশ হলো কিনা সেটি তদারকির নিয়ম নেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে এসব গবেষণা ভালো মানের জার্নালে প্রকাশ না হলে প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের ফলাফল পাবলিকেশন করল কিনা সেটা তদারকি করা হয় না ঠিকই, তবে শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে এসব গবেষণাকর্ম বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের চেষ্টা করেন।’ তিনি বলেন, আমাদের যে বরাদ্দ তাতে ভালো মানের গবেষণা করা যায় না। তবে শিক্ষকরা স্বউদ্যোগে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করে তা পাবলিশ করেন।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থবিজ্ঞানী ড. এ এ মামুন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের যে বরাদ্দ তাতে সত্যিকার অর্থে গবেষণা করা যায় না। ফলে এই বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে আসে না। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় যে বরাদ্দ দেয় সেটা দিয়ে কিছু কাজ হয়। একেবারে বসে না থেকে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার জন্য শিক্ষকরা তাদের এই বরাদ্দ দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে যে গবেষণা হয় তা আন্তর্জাতিক মানের হয় এবং ভালো মানের পাবলিকেশনও করেন শিক্ষকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন