ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে পারে একটি বই: সাইফুল আলম
jugantor
ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে পারে একটি বই: সাইফুল আলম

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও ভৈরব প্রতিনিধি  

০৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি বই ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে পারে। লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অনেক কিছু প্রকাশ করা যায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বই লেখা একটি মহৎ কাজ। অবসরে সময় কাটানোর জন্যও অনেকেই বই লিখে থাকেন।

শুক্রবার সকালে ভৈরব প্রেস ক্লাবে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নতুন প্রজন্মকে বই পড়তে অনুপ্রেরণা দেন।

সাইফুল আলম বলেন, সাংবাদিকতা করতে হলে সমাজের চাপে পড়ে পিছপা হওয়া যাবে না। পত্রিকায় সত্য ঘটনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লিখতে হবে। একজন সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টা মাথায় রাখতে হবে কোথায় কী ঘটছে। লক্ষ্য যদি সুনির্দিষ্ট থাকে, চিন্তায় যদি সাংবাদিকতা থাকে, তাহলে একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হওয়া কঠিন নয়। একজন সাংবাদিক নিউজের সঙ্গে কোনো আপস করতে পারবেন না। তাহলেই তিনি হবেন প্রকৃত সাংবাদিক। অনেকেই কাজের ব্যর্থতার জন্য মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা পায় না। আমরা সহজ পথে সবকিছু পেতে চাই।

রিদম প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত যুগান্তরের ভৈরব প্রতিনিধি আসাদুজ্জমান ফারুকের লেখা ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার অজানা কথা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা। বক্তব্য রাখেন যমুনা টিভির রিপোর্টার ও দৈনিক যুগান্তরের কিশোরগঞ্জ ব্যুরোপ্রধান এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মু. আ. লতিফ, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ভৈরব চেম্বার সভাপতি আলহাজ মো. হুমায়ূন কবির, ভৈরব প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম বাকী বিল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক সুমন মোল্লা ও মোস্তাফিজ আমিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে লেখক ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বক্তব্য রাখেন। পরে অতিথিরা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। দুপুর ১টায় অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, আমাদের পারিপার্শ্বিক বন্ধন আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকরা আজ ভালো নেই। রাজনৈতিক কারণে আজ সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন না। শুধু কি তাই? না তা নয়, আজ পরাশক্তির কাছে, জঙ্গিবাদের কাছে, সন্ত্রাসীদের কাছে বাধাপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশা। দেশে এখন তিন হাজার প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি, রেডিও ও অনলাইন রয়েছে। এর মধ্যে কতটি ভালো আছে? আমি যখন শুনি নারায়ণগঞ্জ থেকে ২২টি, চাঁদপুর থেকে ২৮টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হয়, তখন ভাবতে অবাক লাগে। তিনি আরও বলেন, ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু দেশে আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হয়, যা লজ্জাজনক। দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অনুষ্ঠানে তিনি তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে আসাদুজ্জামান ফারুক যে বইটি লিখেছেন, তা একটি প্রশংসনীয় কাজ। বইটি পড়লে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরা অনেক কিছুই শিখতে পারবে, জানতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। লেখক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম ভাই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু বলেন, সাইফুল আলম ভাই একজন গুণী, পরিশ্রমী ও উঁচুমানের সম্পাদক। দেশের প্রচারবহুল একটি পত্রিকা যুগান্তর। পত্রিকাটিকে তিনি দেশের শীর্ষ পত্রিকায় উন্নীত করেছেন। সাংবাদিক ফারুক শুধু সাংবাদিকতাই করেন না, বইটি লিখে তিনি ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে পারে একটি বই: সাইফুল আলম

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও ভৈরব প্রতিনিধি 
০৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি বই ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে পারে। লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অনেক কিছু প্রকাশ করা যায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বই লেখা একটি মহৎ কাজ। অবসরে সময় কাটানোর জন্যও অনেকেই বই লিখে থাকেন।

শুক্রবার সকালে ভৈরব প্রেস ক্লাবে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নতুন প্রজন্মকে বই পড়তে অনুপ্রেরণা দেন।

সাইফুল আলম বলেন, সাংবাদিকতা করতে হলে সমাজের চাপে পড়ে পিছপা হওয়া যাবে না। পত্রিকায় সত্য ঘটনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লিখতে হবে। একজন সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টা মাথায় রাখতে হবে কোথায় কী ঘটছে। লক্ষ্য যদি সুনির্দিষ্ট থাকে, চিন্তায় যদি সাংবাদিকতা থাকে, তাহলে একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হওয়া কঠিন নয়। একজন সাংবাদিক নিউজের সঙ্গে কোনো আপস করতে পারবেন না। তাহলেই তিনি হবেন প্রকৃত সাংবাদিক। অনেকেই কাজের ব্যর্থতার জন্য মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা পায় না। আমরা সহজ পথে সবকিছু পেতে চাই।

রিদম প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত যুগান্তরের ভৈরব প্রতিনিধি আসাদুজ্জমান ফারুকের লেখা ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার অজানা কথা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা। বক্তব্য রাখেন যমুনা টিভির রিপোর্টার ও দৈনিক যুগান্তরের কিশোরগঞ্জ ব্যুরোপ্রধান এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মু. আ. লতিফ, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ভৈরব চেম্বার সভাপতি আলহাজ মো. হুমায়ূন কবির, ভৈরব প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম বাকী বিল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক সুমন মোল্লা ও মোস্তাফিজ আমিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে লেখক ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বক্তব্য রাখেন। পরে অতিথিরা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। দুপুর ১টায় অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, আমাদের পারিপার্শ্বিক বন্ধন আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকরা আজ ভালো নেই। রাজনৈতিক কারণে আজ সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন না। শুধু কি তাই? না তা নয়, আজ পরাশক্তির কাছে, জঙ্গিবাদের কাছে, সন্ত্রাসীদের কাছে বাধাপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশা। দেশে এখন তিন হাজার প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি, রেডিও ও অনলাইন রয়েছে। এর মধ্যে কতটি ভালো আছে? আমি যখন শুনি নারায়ণগঞ্জ থেকে ২২টি, চাঁদপুর থেকে ২৮টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হয়, তখন ভাবতে অবাক লাগে। তিনি আরও বলেন, ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু দেশে আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হয়, যা লজ্জাজনক। দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অনুষ্ঠানে তিনি তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে আসাদুজ্জামান ফারুক যে বইটি লিখেছেন, তা একটি প্রশংসনীয় কাজ। বইটি পড়লে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরা অনেক কিছুই শিখতে পারবে, জানতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। লেখক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম ভাই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু বলেন, সাইফুল আলম ভাই একজন গুণী, পরিশ্রমী ও উঁচুমানের সম্পাদক। দেশের প্রচারবহুল একটি পত্রিকা যুগান্তর। পত্রিকাটিকে তিনি দেশের শীর্ষ পত্রিকায় উন্নীত করেছেন। সাংবাদিক ফারুক শুধু সাংবাদিকতাই করেন না, বইটি লিখে তিনি ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন