বিচারক নিয়োগে আইন হয়নি ৫০ বছরেও
jugantor
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত
বিচারক নিয়োগে আইন হয়নি ৫০ বছরেও
নীতিমালা নয়, আইন প্রণয়ন করতে হবে -আইনমন্ত্রী * শিগগির সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে অন্তত ২০ বিচারক নিয়োগ

  আলমগীর হোসেন  

১১ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে কোনো আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। যদিও সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (গ) ধারায় স্পষ্ট আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। এছাড়া বিচারক নিয়োগে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অদ্যাবধি সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এ পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্ন উঠছে, তারও সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগে অন্তত ২০ জন বিচারক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শূন্য পদেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যোগ্যতর ব্যক্তিকে বাছাই করার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগে আইন করা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারই তা উপেক্ষা করেছে। এদিকে বিচারক নিয়োগে আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করার পর নিয়োগ দিতে হবে।

২০১২ সালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল খসড়া নীতিমালায়। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের বিচারক নিয়োগের বিধান অনুসরণ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি, অভিজ্ঞ আইনবিদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রণয়নও করা হয়েছিল। কিন্তু তা চূড়ান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগের কাজ চলছে, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে বলেন-নীতিমালা নয়, করতে হলে আইন করতে হবে, দেখছি কি করা যায়।

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগ বিষয়ে বলা আছে। ৯৫ (১)-এ বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারপতিকে নিয়োগদান করবেন।’ ‘৯৫(২) অনুসারে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে এবং (ক) সুপ্রিমকোর্টে অন্যূন ১০ বছর অ্যাডভোকেট না হয়ে থাকলে, বা বাংলাদেশের (খ) রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে, অথবা (গ) সুপ্রিমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে, তিনি বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।’

২০০৯ সালের ২ মার্চ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে জোট সরকারের সময়ে বাদ পড়া ১০ বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। এতে বলা হয়, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ সাংবিধানিক রেওয়াজ। এ রেওয়াজ সাংবিধানিক রীতিনীতিতে পরিণত হয়েছে। এটা আইনের শাসনের অংশ, বিচারক নিয়োগ ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ বা মতামত প্রাধান্য পাবে। তবে তাদের পেশাগত যোগ্যতা ও উপযুক্ততা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া বিচারক নিয়োগে একটি নীতিমালা করার জন্য উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন সময় একাধিক মতামত আসে।

২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগ উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে সাত দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেন। এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতিকেই উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাকে প্রয়োজনে বিচারক নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুজন করে জ্যেষ্ঠ বিচারকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতি যে মতামত দেবেন, তা অগ্রাহ্য করা যাবে না, যদি না সুপারিশকৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে সম্পৃক্ত থাকেন। ভারতের আইন কমিশনের ৮০তম প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী একজন বিচারকের পরিপক্কতা পেশাগত অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটি বয়সসীমা ধরা হয়েছে। সেই হিসাবে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক মনোনয়নের ক্ষেত্রে বয়স সর্বনিম্ন ৪৫ বছর হওয়া উচিত।

এ ছাড়াও রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। রায়ে বলা হয়, বিচারকদের এমন বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন অধিক যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি আইনজীবী হিসাবে বিচারক হতে আগ্রহী হন।

এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের বিষয়টি বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাইকোর্ট যুগান্তকারী রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক নিয়োগ নিয়ে ওই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সভা হয়। এতে রায় অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগ করার দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়েগে আইন বা নীতিমালা করাটা জরুরি। এটা করলে ক্ষতি নেই বরং লাভ। তিনি বলেন, আমি আইনমন্ত্রী থাকার সময়ে বিচারপতি নিয়োগে নীতিমালা চূড়ান্ত খসড়া করেছিলাম। এরপর কী হলো জানা নেই। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ দেন। এখানে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বিচারক হিসাবে নিয়োগ দিলে বিতর্কের কোনো সুযোগ থাকে না।

অবসরজনিত কারণে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে বিচারক সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ সাতজন বিচারপতি ছিলেন। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় এ বছর অবসরে যান বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী। বর্তমানে আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। ডিসেম্বরে অবসরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। প্রধান বিচারপতি অবসরে গেলে সংখ্যা দাঁড়াবে চারজনে। এখন হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ৯২ জন বিচারপতি আছেন। এ ৯২ জনের মধ্যে তিনজনকে বিচারকাজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত

বিচারক নিয়োগে আইন হয়নি ৫০ বছরেও

নীতিমালা নয়, আইন প্রণয়ন করতে হবে -আইনমন্ত্রী * শিগগির সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে অন্তত ২০ বিচারক নিয়োগ
 আলমগীর হোসেন 
১১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে কোনো আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। যদিও সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (গ) ধারায় স্পষ্ট আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। এছাড়া বিচারক নিয়োগে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অদ্যাবধি সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এ পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্ন উঠছে, তারও সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগে অন্তত ২০ জন বিচারক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শূন্য পদেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যোগ্যতর ব্যক্তিকে বাছাই করার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগে আইন করা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারই তা উপেক্ষা করেছে। এদিকে বিচারক নিয়োগে আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করার পর নিয়োগ দিতে হবে।

২০১২ সালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল খসড়া নীতিমালায়। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের বিচারক নিয়োগের বিধান অনুসরণ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি, অভিজ্ঞ আইনবিদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রণয়নও করা হয়েছিল। কিন্তু তা চূড়ান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগের কাজ চলছে, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে বলেন-নীতিমালা নয়, করতে হলে আইন করতে হবে, দেখছি কি করা যায়।

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগ বিষয়ে বলা আছে। ৯৫ (১)-এ বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারপতিকে নিয়োগদান করবেন।’ ‘৯৫(২) অনুসারে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে এবং (ক) সুপ্রিমকোর্টে অন্যূন ১০ বছর অ্যাডভোকেট না হয়ে থাকলে, বা বাংলাদেশের (খ) রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে, অথবা (গ) সুপ্রিমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে, তিনি বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।’

২০০৯ সালের ২ মার্চ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে জোট সরকারের সময়ে বাদ পড়া ১০ বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। এতে বলা হয়, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ সাংবিধানিক রেওয়াজ। এ রেওয়াজ সাংবিধানিক রীতিনীতিতে পরিণত হয়েছে। এটা আইনের শাসনের অংশ, বিচারক নিয়োগ ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ বা মতামত প্রাধান্য পাবে। তবে তাদের পেশাগত যোগ্যতা ও উপযুক্ততা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া বিচারক নিয়োগে একটি নীতিমালা করার জন্য উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন সময় একাধিক মতামত আসে।

২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগ উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে সাত দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেন। এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতিকেই উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাকে প্রয়োজনে বিচারক নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুজন করে জ্যেষ্ঠ বিচারকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতি যে মতামত দেবেন, তা অগ্রাহ্য করা যাবে না, যদি না সুপারিশকৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে সম্পৃক্ত থাকেন। ভারতের আইন কমিশনের ৮০তম প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী একজন বিচারকের পরিপক্কতা পেশাগত অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটি বয়সসীমা ধরা হয়েছে। সেই হিসাবে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক মনোনয়নের ক্ষেত্রে বয়স সর্বনিম্ন ৪৫ বছর হওয়া উচিত।

এ ছাড়াও রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। রায়ে বলা হয়, বিচারকদের এমন বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন অধিক যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি আইনজীবী হিসাবে বিচারক হতে আগ্রহী হন।

এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের বিষয়টি বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাইকোর্ট যুগান্তকারী রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক নিয়োগ নিয়ে ওই রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সভা হয়। এতে রায় অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগ করার দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়েগে আইন বা নীতিমালা করাটা জরুরি। এটা করলে ক্ষতি নেই বরং লাভ। তিনি বলেন, আমি আইনমন্ত্রী থাকার সময়ে বিচারপতি নিয়োগে নীতিমালা চূড়ান্ত খসড়া করেছিলাম। এরপর কী হলো জানা নেই। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ দেন। এখানে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বিচারক হিসাবে নিয়োগ দিলে বিতর্কের কোনো সুযোগ থাকে না।

অবসরজনিত কারণে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে বিচারক সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ সাতজন বিচারপতি ছিলেন। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় এ বছর অবসরে যান বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী। বর্তমানে আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। ডিসেম্বরে অবসরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। প্রধান বিচারপতি অবসরে গেলে সংখ্যা দাঁড়াবে চারজনে। এখন হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ৯২ জন বিচারপতি আছেন। এ ৯২ জনের মধ্যে তিনজনকে বিচারকাজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন