সিবিএ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত মোংলাবন্দর
jugantor
সিবিএ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত মোংলাবন্দর
তেরো পদে তিন প্যানেল লড়ছেন ৩৯ প্রার্থী

  মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিবিএ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত মোংলা সমুদ্রবন্দর। জাতীয় ও আঞ্চলিকতার রাজনীতিতে চলছে নানা মেরুকরণ। বন্দর কর্মচারীদের এ সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে বন্দর এলাকায় আলোচনার অন্ত নেই। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ১৩টি পদে তিন প্যানেলে ৩৯ জন প্রার্থী লড়ছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সিবিএ সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। এ নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন আর সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী লড়বেন। তবে এ তিনটি প্যানেলে বিভক্ত ও প্রচারণা চললেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রবন্দর হওয়ায় চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যের সুবাদে এখানে খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস। এ কারণে মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারীদের এ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে। জেলা ও বিভাগীয় আঞ্চলিকতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতা বিশ্লেষণের প্রশ্ন থাকলেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না ভোটাররা। তবে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোট মনোভাবের প্রার্থী ও সমর্থক থাকলেও আঞ্চলিকতার রাজনীতির দাপটের কাছে তাও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ব্যক্তি ইমেজের চেয়ে আঞ্চলিকতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। অপর দিকে রাজনৈতিক সমীকরণে থেমে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের স্থানীয় ও হাইকমান্ডের নেতারা।

সভাপতি পদে মো. সাইজদ্দিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফিরোজ প্যানেল বিগত নির্বাচনে বিজয় হয়ে দুই বছর দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে পূর্বের প্যানেল ভেঙে নতুন প্যানেলের আবির্ভাব ঘটেছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মো. নাসির উদ্দিন মৃধা-কাজী খুরশীদ আলম পল্টু, সওকত আলী-মতিয়ার রহমান সাকিব, নাসির উদ্দিন চৌধুরী-ফিরোজ আহম্মেদ প্যানেল।

ভোটাররা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক খোলস বদল ও আঞ্চলিকতার সুবিধাবাদী প্রার্থীরাও রয়েছেন। এসব সুবিধাবাদীদের দাপটও রয়েছে। তাই এ নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা মুখ খুলছেন না বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এ নির্বাচন তদারকি ও নজরদারি করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষে বিভাগীয় ও পদস্থ কর্মকর্তারা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব মুন্সি মাকরুজ্জামান জানান, প্রতি দ্ইু বছর পর পর এ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা সেগুনবাগিচার লিয়াজোঁ অফিস, খুলনা বন্দর কর্তৃপক্ষের মিলনায়তন, মোংলা বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বন্দরের হিরন পয়েন্ট রেস্ট হাউজ-এই চারটি ভেন্যুতে একই সময় ভোটগ্রহণ ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৮৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সিবিএ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত মোংলাবন্দর

তেরো পদে তিন প্যানেল লড়ছেন ৩৯ প্রার্থী
 মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিবিএ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত মোংলা সমুদ্রবন্দর। জাতীয় ও আঞ্চলিকতার রাজনীতিতে চলছে নানা মেরুকরণ। বন্দর কর্মচারীদের এ সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে বন্দর এলাকায় আলোচনার অন্ত নেই। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ১৩টি পদে তিন প্যানেলে ৩৯ জন প্রার্থী লড়ছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সিবিএ সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। এ নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন আর সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী লড়বেন। তবে এ তিনটি প্যানেলে বিভক্ত ও প্রচারণা চললেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রবন্দর হওয়ায় চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যের সুবাদে এখানে খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস। এ কারণে মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারীদের এ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে। জেলা ও বিভাগীয় আঞ্চলিকতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতা বিশ্লেষণের প্রশ্ন থাকলেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না ভোটাররা। তবে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোট মনোভাবের প্রার্থী ও সমর্থক থাকলেও আঞ্চলিকতার রাজনীতির দাপটের কাছে তাও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ব্যক্তি ইমেজের চেয়ে আঞ্চলিকতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। অপর দিকে রাজনৈতিক সমীকরণে থেমে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের স্থানীয় ও হাইকমান্ডের নেতারা।

সভাপতি পদে মো. সাইজদ্দিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফিরোজ প্যানেল বিগত নির্বাচনে বিজয় হয়ে দুই বছর দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে পূর্বের প্যানেল ভেঙে নতুন প্যানেলের আবির্ভাব ঘটেছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মো. নাসির উদ্দিন মৃধা-কাজী খুরশীদ আলম পল্টু, সওকত আলী-মতিয়ার রহমান সাকিব, নাসির উদ্দিন চৌধুরী-ফিরোজ আহম্মেদ প্যানেল।

ভোটাররা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক খোলস বদল ও আঞ্চলিকতার সুবিধাবাদী প্রার্থীরাও রয়েছেন। এসব সুবিধাবাদীদের দাপটও রয়েছে। তাই এ নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা মুখ খুলছেন না বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এ নির্বাচন তদারকি ও নজরদারি করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষে বিভাগীয় ও পদস্থ কর্মকর্তারা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব মুন্সি মাকরুজ্জামান জানান, প্রতি দ্ইু বছর পর পর এ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আগামী ১৭ অক্টোবর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা সেগুনবাগিচার লিয়াজোঁ অফিস, খুলনা বন্দর কর্তৃপক্ষের মিলনায়তন, মোংলা বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বন্দরের হিরন পয়েন্ট রেস্ট হাউজ-এই চারটি ভেন্যুতে একই সময় ভোটগ্রহণ ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৮৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন