রংপুরে আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগ, তৃণমূলে ক্ষোভ
jugantor
রংপুরে আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগ, তৃণমূলে ক্ষোভ

  মাহবুব রহমান, রংপুর  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনিয়ন পরিষদ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূলে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। আবার প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে রংপুরের পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে বিক্ষোভ মিছিল, শোডাউনসহ বর্ধিত সভা। ঘোষিত প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই পীরগঞ্জ উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কৃষক লীগের দুই নেতা পদত্যাগ করেছেন। জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ অক্টোবর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে রংপুরের পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৮ ইউপিতে নৌকা প্রতীক পান ৭ পুরাতন ও ১১ নতুন মুখ। এর পর থেকেই কেন্দ্র ঘোষিত প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। পীরগঞ্জে দুই-একটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহ দেখা গেছে পীরগাছা উপজেলায়। এই পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, কান্দি, পারুল, অন্নদানগর, ইটাকুমারীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে শনিবার রাতে বর্ধিত সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এতে আওয়ামী লীগ তাম্বুলপুর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রার্থিতা বাতিল ও নতুন প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ পীরগাছা উপজেলা শাখার জাহিদুল হক সরকার, শফিকুল ইসলাম বিপ্লব, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম কাজল, তাম্বুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন, শাহিন সরদার, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামান বিএস, সোহরাব হোসেন মিঠু, আবুল কালাম আজাদ খোকা, যাদব চন্দ্র রায় প্রমুখ।

অন্য দিকে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা হয় রোববার। কান্দি মাঝিপাড়া মাদ্রাসা মাঠে দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সমাজসেবক শামীমুল হাসান কাজলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল আজিজসহ ইউনিয়নের নেতারা।

তাম্বুলপুরের সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৌকা আদম ব্যাপারীর কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। যাকে নৌকা দেওয়া হয়েছে সে দলের কেউ নয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী ঘোষণা করায় তা প্রত্যাখ্যান করা হলো। অন্য দিকে কান্দি ইউনিয়নের সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাকে নৌকা দেওয়া হয়েছে তিনি একজন চাকরিজীবী। দলের সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকেন না।

এ ছাড়াও উপজেলার পারুল ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খান, কান্দি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান ও অন্নদানগর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন নির্বাচন করবেন বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার ভেণ্ডাবাড়ি, কুমেদপুর, বড়রদরগাহ, টুকুরিয়া ও চতরাসহ আরও দুই একটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলার কৃষক লীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন টুকুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শাহিন ও কুমেদপুর ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক লাল। এ ছাড়াও ভেণ্ডাবাড়িতে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত শহিদুল ইসলাম লাল।

পীরগঞ্জে ভেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মন্ডল জানান, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করব। পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন বলেন, নৌকার বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

রংপুরে আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগ, তৃণমূলে ক্ষোভ

 মাহবুব রহমান, রংপুর 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনিয়ন পরিষদ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূলে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। আবার প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে রংপুরের পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে বিক্ষোভ মিছিল, শোডাউনসহ বর্ধিত সভা। ঘোষিত প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই পীরগঞ্জ উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কৃষক লীগের দুই নেতা পদত্যাগ করেছেন। জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ অক্টোবর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে রংপুরের পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৮ ইউপিতে নৌকা প্রতীক পান ৭ পুরাতন ও ১১ নতুন মুখ। এর পর থেকেই কেন্দ্র ঘোষিত প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। পীরগঞ্জে দুই-একটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহ দেখা গেছে পীরগাছা উপজেলায়। এই পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, কান্দি, পারুল, অন্নদানগর, ইটাকুমারীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পুনরায় ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে শনিবার রাতে বর্ধিত সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এতে আওয়ামী লীগ তাম্বুলপুর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রার্থিতা বাতিল ও নতুন প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ পীরগাছা উপজেলা শাখার জাহিদুল হক সরকার, শফিকুল ইসলাম বিপ্লব, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম কাজল, তাম্বুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন, শাহিন সরদার, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামান বিএস, সোহরাব হোসেন মিঠু, আবুল কালাম আজাদ খোকা, যাদব চন্দ্র রায় প্রমুখ।

অন্য দিকে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা হয় রোববার। কান্দি মাঝিপাড়া মাদ্রাসা মাঠে দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সমাজসেবক শামীমুল হাসান কাজলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল আজিজসহ ইউনিয়নের নেতারা।

তাম্বুলপুরের সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৌকা আদম ব্যাপারীর কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। যাকে নৌকা দেওয়া হয়েছে সে দলের কেউ নয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী ঘোষণা করায় তা প্রত্যাখ্যান করা হলো। অন্য দিকে কান্দি ইউনিয়নের সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাকে নৌকা দেওয়া হয়েছে তিনি একজন চাকরিজীবী। দলের সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকেন না।

এ ছাড়াও উপজেলার পারুল ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খান, কান্দি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান ও অন্নদানগর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন নির্বাচন করবেন বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার ভেণ্ডাবাড়ি, কুমেদপুর, বড়রদরগাহ, টুকুরিয়া ও চতরাসহ আরও দুই একটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলার কৃষক লীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন টুকুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শাহিন ও কুমেদপুর ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক লাল। এ ছাড়াও ভেণ্ডাবাড়িতে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত শহিদুল ইসলাম লাল।

পীরগঞ্জে ভেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মন্ডল জানান, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করব। পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন বলেন, নৌকার বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন